1. sjranabd1@gmail.com : S Jewel : S Jewel
  2. solaimanjewel@hotmail.com : kalakkhor :
আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সি কি? সেই বিষয়ে কিছু কথা - কালাক্ষর
শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সি কি? সেই বিষয়ে কিছু কথা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স
আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স

কালাক্ষর ডেক্সঃ সৃস্টির আদিকাল থেকে সভ্যতার ক্রমবিকাশের যে ধারা রচিত হয়ে আসছে তার হিসাব করলে দেখা যায় সভ্যতার প্রাথমিক বিকাশ শুরু হয়েছিল আগুনের ব্যাবহার শেখার মাধমে,আগুনের ব্যাবহার আদিম মানব কুল কে অন্য প্রানী থেকে আলাদা পৃথক করতে সাহায্য করে, এর পর আসলো কৃষিকাজ এর এর গুরুত্ব, আপনি খেয়াল করলে দেখতে পারবেন প্রাচীন সভ্যতা গুলো উর্বর ভুমির নিকটে বিকশিত হয়েছিল, নদীর অববাহিকা গুলোর ভুমি গুলো সব সময় উর্বর হয়,আর তাতে মানুষ নতুন বসত গড়ে- সেখানে ফসল ফলায় তা বিক্রি করতে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় যায়,যদিও প্রথম দিকে কেনা বেচাতে টাকার ব্যাবহার ছিল না- তার পরেও নির্দিস্ট কোন কিছুর বিনিময় ছিল,এর পর আসলো লোহার ব্যাবহার – যারা লোহা/ধাতব বস্তুর ব্যাবহার প্রথম শিখেছিল তারাই পরবর্তি তে দুনিয়া ডমিনেট করেছে –

এরা কৃষি কাজের জন্য নিত্য নতুন লাংগল বানিয়েছে – চলার জন্য যানবাহন বানিয়েছে – আর যুদ্ধের জন্য ঢাল তলোয়ার বানিয়েছে-  যুদ্ধ করে নতুন নতুন অঞ্চল জয় করেছে- আর সেই খানে আবাদ করে তার ফসল নিয়েছে – আপনি হয়ত জেনে থাকবেন ইউরোপের রেনেসাঁ আন্দলন কেন সফল হয়েছিল? কারন তারা সারা দুনিয়াতে উপনিবেশ বানিয়েছিল । যার ফলে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার আমুল পরিবর্তন সাধিত হয় – তারা তখন নতুন নতুন টপিক নিয়ে ভাবতে থাকে।গবেষণা করে নতুন নতুন প্রযুক্তি বানায় – আর তা দিয়ে সারা দুনিয়া ডমিনেট করা শুরু করে।আর সারা দুনিয়া তাদের পিছনে পড়ে যায় । তারা হয় উতপাদক আর আমরা মানে বাইরের মহাদেশের মানুষ হয় ভোক্তা।

ব্যাস তাড়া মোড়ল আর আমরা তাদের প্রজা- এরা দুনিয়াতে প্রথম শ্রেনীর জাতীতে পরিনত হয়, আর আমরা সেই থেকে থার্ড ওয়ার্ল্ড,অথচ এক সময় জ্ঞ্যান বিজ্ঞানের বাতিঘর ছিল এশিয়ার মহাদেশ,ইউরোপীয়ান রা ছিল গোন্ডা মুর্খ , ভাবতে পারেন? বাগদাদের খলিফা ইংল্যান্ডের রানীকে একটা ঘড়ি উপহার দিয়েছিলেন,যা দেখে মহারানী ভয় পেয়েছিলেন, না জানি এতে কি আছে? শেষ এ বেঘরে প্রান যায় –অথচ সেই ইংল্যান্ড সারা দুনিয়া শাসন করেছে – জ্ঞ্যান বিজ্ঞানের চর্চা করে সারা দুনিয়ার সুপার পাওয়ার হয়েছে – আর এশিয়ান রা? নিজেদের আপডেট করতে পারেনি বলেই আজ এই দশা। 

সৃজন শীল বাংলা ব্লগ কালাক্ষর এ আমার আগের লেখা গুলো পড়তে নিচের লিংক গুলোতে ক্লিক করুন 

পাঠক আজ আমরা এমন একটা সময় পার করছি যখন দুনিয়াতে আবার নতুন মেরুকন শুরু হয়েছে। কারন দুনিয়াতে ঠিক এই মোমেন্টে শুরু হয়েছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, প্রথম টি যদি ভাড়ি শিল্প হয়, সেকেন্ড টি ছিল কেমিক্যাল এর, থার্ড টি ছিল ইলেক্সনিক্স – খেয়াল করে দেখবেন সাবেক এই তিন বিপ্লব এ যারাই বিজয়ী হয়েছে, দুনিয়া নিয়ন্ত্রন তারাই করেছে, আর এখন যারা এই বিপ্লবে জয়ি হবে তারাই হবে সুপার পাওয়ার, বলুন তো এই বিপ্লব টি কি? এর নাম হল আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স সংক্্ষেপে যাকে আই আর বলা হয়, আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম এই আই আর এ যারা বেষ্ট তাদের ই আধিপত্য মেনে নিতে বাধ্য,

আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সি (artificial intelligence) কি? 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার দ্বারা অনুকরণ করার চেষ্টা কেই বুঝানো হয়ে থাকে,সহজ ভাবে বলতে গেলে এই ভাবে বলা যায়, এক জন মানুষের যে কাজ করার কথা তা কোন কম্পিউটার চালিত রোবট এর মাধ্যমে করা, মানুষ যেমন পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে তার ডিসিশান নেয় রোবট ও সেই ভাবে নেবে, আর এই সকল কর্ম কেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সি বা বাংলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর সংক্ষেপে আই আর বলা হয়ে থাকে।

একবার ভাবুন, হাজার হাজার লেবার পরিশ্রম করে একটা ইন্ড্রাস্টি চালায়, কিন্তু আই আর প্রযুক্তি দিয়ে সেই লেবার এর কাজ রোবট দিয়ে করানো হবে, বিমান চালাবে, ট্রেন চালাবে, অফিস চালাবে, বাস চালাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সি সম্পন্ন সব রোবট, মানুষের জায়গা তা হলে কই?

একবার ভাবুন তো, প্রায় একশো তিরিশ কোটি মানুষের বাস ভারতে, আঠারো কোটির বাস বাংলাদেশে, উনিশ কোটির বাস পাকিস্থানে, এত লোক জন আর মানব সম্পদ দিয়ে কি হবে ? তারা কি কাতারেরী দের সাথে পারবে? যাদের দেশে দের মিলিয়ন মানুষের বাস, ( প্রসঙ্গত এখানে কাতারের নাম উদাহরণ এর জন্য বলা), কোন ক্ষ্রদ্র জন সংখ্যার দেশ কিন্তু তাদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সি প্রযুক্তি আছে আমি নিশ্চিত বলে দিতে পারি তাদের সাথে সমগ্র ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্থান মিলেও পারবে না, কারন তাদের কল কারখানা গুলোতে কাজ করবে রোবট, সেনাবাহিনী থাকবে রোবটের, তারা ট্যাংক চালাবে, বন্দুক চালাবে, বিমান চালাবে,একশো রোবট ধংস করবেন, তারা পাঁচ হাজার বানাবে, আর তাদের সাথে লড়তে গিয়ে আমরা বেঘরে কচুকাটা হব,

আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সি এর জনক হিসেবে মার্ভিন মিনস্কি নামক এক গবেষকের নাম বলা হয়। মার্ভিন মিনস্কি ই বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম স্নায়ুজাল সৃষ্টি করেন। ১৯৫১ সালে তিনি যখন ছাত্র তখনই তিনি তৈরি করেন “SNARC” (Stochastic neural analog reinforcement calculator)। অবাক বিষয় যে তখন কিন্তু কম্পিউটারের প্রচলন হয়নি, ওই টাইমে যাস্ট কম্পিউটার এর প্রচলন হবে-হবে অবস্থায় ছিল, ওই সময় মার্ভিন তাঁর স্নায়ুজাল তৈরি করেছিলেন বৈদ্যুতিন ভ্যাকুম টিউব আর কিছু যান্ত্রিক ক্লাচ ব্যবহার করে। মার্ভিন মিনস্কি এর তৈরি স্নায়ুজালের মধ্যে ছিল চল্লিশটা কৃত্রিম স্নায়ু (নিউরন)। প্রত্যেকটি স্নায়ুর ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিকোষ (শর্ট টার্ম মেমরি) হিসাবে মার্ভিন সাহেব ব্যবহার করেছিলেন একটা ক্যাপাসিটর, আর দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিকোষ (লং টার্ম মেমরি) হিসাবে প্রত্যেকটি স্নায়ুর সঙ্গে জোড়া ছিল একটা পোটেনশিওমিটার, যার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করত যান্ত্রিক ক্লাচ-টি।

বর্তমান কালে বিশ্বের হট টপিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেইজিন্সি গুরুত্ব অনুধাবনব করে এর গবেষণায় কিছু বেশ কিছু দেশ জান প্রান দিয়ে খাটছে- তার ভিতর মার্কিন যুক্তরাস্ট, জাপান, সাম্প্রতিক কালের চীন, রাশিয়া ও পিছনে পড়ে নেই,দেশ গুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে যাস্ট প্রযুক্তিটি নিজেদের কাজে ব্যাবহারের জন্য, কারন তারা যানে, যারা সফল যত বেশি হবে, দুনিয়াতে তারাই হবে ততবেশি সুপার পাওয়ার,

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©2021 All rights reserved © kalakkhor.com
Customized By BlogTheme
error: Content is protected !!