Site icon কালাক্ষর

ডারউইনের বিবর্তনবাদ সত্য নাকি মিথ্যা?

“বিবর্তনবাদ ও এর সীমাবদ্ধতা “

মাহিদ খানঃ এ বিষয়ে আমি একটা বেশ লম্বা লেখা লিখেছিলাম। সেটাই কাটাকুটি করে ছোট করে পোষ্ট দিলাম তবু কেনজানি একটু বড় হয়ে গেলো। বিবর্তনবাদ নিয়ে তর্কবিতর্ক এর শেষ নেই। এই তর্ক বিতর্ক যতটা না সায়েন্টিফিক ইস্যু নিয়ে তার চেয়েও বেশি রাজনৈতিক, বানিজ্যিক ও ধর্মীয় ব্যাপার বেশি জড়িত।ডারউইন এর বিবর্তনবাদ এস্টাব্লিশমেন্ট এর জন্য যারা কাজ করেন তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। যাহোক এসব বিষয় বাদ দিয়ে মুল আলোচনায় আসা যাক।

চার্লস ডারউইন এর সময় বিবর্তনবাদ সবার নজরে এলেও মুলত সক্রেটিসের সময়েরও অনেক আগে বিবর্তনবাদের প্রাথমিক ধারণা দিয়ে গেছেন গ্রীক দার্শনিক এনাক্সিম্যান্ডার ও এম্পেডকলস। কোন এক ধরনের প্রজাতি হতে সম্পূর্ণ নতুন অন্য প্রকার জীব  উৎপত্তি লাভ করতে পারে এমন ধারণার অস্তিত্ব সেসময়েই দেখা গেছে।

এছাড়া কবি ও দার্শনিক লুক্রেটিয়াস সেই একই পথে গিয়েছিলেন। তার “অন দ্য ন্যাচার অব থিংস” এ এম্পেডকালসের চিন্তাধারাকে আরেকধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।এরও অনেক পরে ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ডারউইন এর আলোড়ন সৃষ্টিকারী বই “অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিস”। যেখানে ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব (natural selection theory) প্রচার করেন।শুরুতেই বিজ্ঞানীদের বিতর্কের মুখে পরা বিবর্তনবাদ এর অনেক খুটিনাটি বিষয়ের  সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা চার্লস ডারউইন সুস্পষ্ট ভাবে দিতে পারেনি। এরপর ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেলিফ বংশগতিবিদ্যা আবিস্কার করার পর ডারউইনীয় প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের সাথে মেন্ডেলীয় বংশগতিবিদ্যার সম্পর্কে  প্রতিষ্ঠিত হয় বিবর্তনের আধুনিক সংশ্লেষণী তত্ত্ব বা মডার্ন এভুলিউশনারি সিনথেসিস, যা প্রাকৃতিক নির্বাচন ও মেন্ডেলীয় জেনেটিক্সের সাহায্যে সমন্বিতভাবে বিবর্তনকে ব্যাখ্যা করে।

এখন দেখা যাক চার্লস ডারউইন এর বিবর্তনবাদ আসলে কি,অল্প কথায় যদি বলি তাহলে বিবর্তন বা Evolution হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝানো হয়।কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জিনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারাই বংশ প্রবাহের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। জিনের মিউটেশন এর মাধ্যমে জীবের নির্দিষ্ট কোনো বংশধরে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হতে পারে বা পুরনো বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

যদিও একটি প্রজন্মে (generation)  জীবের বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তন হয়, তা খুবই সামান্য। কিন্তু সময়ের দুরত্ব অর্থাৎ ব্যপ্তি যদি বেশি হয় অর্থাৎ লক্ষ বছরে  জীবগোষ্ঠীতে সেই পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য বা অনেক বেশি হয়ে দেখা দেয় এবং এমনকি একসময় তা নতুন প্রজাতির উদ্ভবেরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।সহজ ভাবে বললে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্মে জীবের বংশগতভাবে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর পরিবর্তনের মাধ্যমে বিবর্তন হয়।

মূলত দুটি ঘটনার মধ্য দিয়ে বিবর্তন সংঘটিত হয়ঃ

বিবর্তনের ভিত্তি হচ্ছে বংশ পরম্পরায় জিনের সঞ্চারণ করা। যা একটি জীবের বংশগতভাবে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য দায়ী, তা-ই জিন। এই জিনগুলো আবার সব একরকম হয়না। এদের বিভিন্নতার কারণে একটি জীবগোষ্ঠীর বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে বংশগত বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য বা প্রকরণ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ একই প্রানী মানুষ, হাতি, মশা মাছির মধ্যে ভ্যারিফিকেশন দেখা যায়,  একই জীবগোষ্ঠী মশার মধ্যে হয়তো কোনটা এডিস কোনটা ডেংগু কোনটা এনিফেলিস মশা। বিবর্তন মূলত দুটি বিপরীত নিয়ামকের ফল : একটি প্রক্রিয়ায় ক্রমাগতভাবে নতুন প্রকরণ (variation) সৃষ্টি হয়, আর অন্যটির প্রভাবে এই প্রকরণগুলোর অর্থাৎ ভ্যারিয়েশন গুলোর কোনো কোনোটির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং কোনো কোনোটির সংখ্যা হ্রাস পায়।

অর্থাৎ, যখন এই বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব বা প্রকরণদের (variants) মধ্যে কোন কোন প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় বা কোন কোনটি হ্রাস পায়, তখন এই পরিবর্তনের সাথে সাথে সমগ্র গোষ্ঠীই (population) পরিবর্তিত হয়ে যায়। এই পরিবর্তনই হচ্ছে বিবর্তন।

এর ফলে যেমন কোন কোন বৈশিষ্ট্য পুরোপুরিভাবে হারিয়ে যেতে পারে, আবার তেমনি নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য আবির্ভূত হতে পারে।

নতুন প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন উৎপন্ন হয় দুটি প্রধান উপায়ে :

বিবর্তনবাদ বোঝার জন্য মিউটেশন সম্পর্কে একটু ধারণা দিয়ে রাখি,

পরিব্যক্তি বা মিউটেশন (Mutation) হল কোষ জিনোমের ডিএনএ গঠনে পরিবর্তন। পরিব্যক্তি সংঘটিত হলে তা জিনের উপাদানে পরিবর্তন ঘটায়, অথবা জিনের কার্যক্রমে বাধাদান করে, অথবা কোন প্রতিক্রিয়াই ঘটে না।

দুটি প্রধান মেকানিজম নির্ধারণ করে মিউটেশন এর ফলে উদ্ভাবিত কোন একটি ভ্যারিয়্যান্টের সংখ্যা বাড়বে কী কমবে।

এর একটি হচ্ছে “ন্যাচারাল সিলেকশন”, অন্যটি হলো “জেনেটিক ড্রিফট”,

যে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে একদিকে একটি জীবগোষ্ঠীর অস্তিত্বের অনুকূল বৈশিষ্ট্যের (যে বৈশিষ্ট্যগুলো কোনো একটি জীবের অধিককাল ধরে বেঁচে থাকা এবং সন্তান উৎপাদনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে) অধিকারী সদস্য বা ভ্যারিয়্যান্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ও কালক্রমে তা ঐ জীবগোষ্ঠীর কমন বা সাধারণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয় এবং অন্যদিকে ক্ষতিকর বা কম সুবিধাদায়ক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ভ্যারিয়্যান্টদের সংখ্যা হ্রাস করে, ফলে সেই ভ্যারিয়্যান্টগুলো ধীরে ধীরে বিরল হয়ে যায়। অর্থাৎ বিলুপ্ত হয়। অর্থাৎ মিউটেশন এর মাধ্যমে একটি প্রজাতি পুরো বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।এর কারণ হচ্ছে, পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাপেক্ষে সুবিধাজনক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সদস্যগুলো অধিককাল বেঁচে থাকে এবং অধিক সংখ্যক সন্তান জন্ম দিতে পারে। ফলে বংশপরম্পরায় সেই বৈশিষ্ট্যগুলো বংশগতভাবে পরবর্তী প্রজন্মগুলোতে বেশি পরিমাণে সঞ্চারিত হয়।প্রজন্মান্তরে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে ছোট ছোট Random Chang বা দৈব পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক বৈশিষ্ট্যগুলো ক্রমান্বয়ে জীবগোষ্ঠীতে প্রকট হয়ে দেখা দেয় এবং এভাবে সেই জীবগোষ্ঠী তার পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হয়।

উপরোক্ত আলোচিত বিষয়ের সামারি করলে যা দাড়ায় সেটাই  হলো বিবর্তনবাদ এর মুল কথা। পুরো ব্যাপারটা বোঝার জন্য আসলে আরো ডিটেইল দরকার। এতে বিবর্তনবাদ এর খুটিনাটি বিষয় এর ব্যাখ্যা পাওয়া যেতো।

বেশিরভাগ সাধারণ  মানুষের মধ্যে বিবর্তনবাদ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই বললেই চলে। মানুষের পূর্ব পুরুষ বানর ছিলো বিবর্তনবাদ সম্পর্কে এদের জ্ঞানের সীমা এর মধ্যেই আবদ্ধ।আবার অনেকে আছেন বায়োলজীর নুন্যতম মৌলিক জ্ঞান না থাকার পরেও তারা যেভাবে বিবর্তনবাদকে বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা দেয় যে স্বয়ং ডারউইন ও এতটা বিশ্বাস এর সাথে সুনির্দিষ্ট ভাবে  গঠনগত বংশগতিবিদ্যার কোনো সমর্থিত প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।বিশেষ করে বিবর্তনবাদ এর অন্যতম ম্যাকানিজম মিউটেশন এর ফলে এক প্রকার প্রজাতি থেকে সম্পুর্ণ  নতুন আরেক প্রকারের জীবের উৎপত্তি এর ব্যাখ্যা আসলে এত সহজে দেওয়া যায়না। যখন জীববিজ্ঞানের বিবর্তনকে অন্য বিবর্তন প্রক্রিয়ার সাথে মিশিয়ে ফেলা হয় তখন সাধারনত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। যেমন প্রচলিত একটি ভুল ধারণা, বিবর্তনবাদ বিগ ব্যাং কিংবা জীবনের উৎসের ব্যাপারে আলোচনা করে।

 

 

প্রতিকুল পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ার জন্য ধীরে ধীরে জীবের শারীরিক যে পরিবর্তন বা বিবর্তন বংশ পরম্পরা ঘটে তার সাথে মিউটেশন এর মাধ্যমে এক প্রজাতি থেকে আরেক নতুন প্রজাতি উদ্ভদ অনেকেই এক করে ফেলেন।আসলে সময়ের সাথে সাথে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ার জন্য অত্যন্ত ধীরে হয়তো লক্ষ বছরে জীবের যে শারীরিক বিবর্তন ঘটে এটা যতটা সহজে ব্যাখ্যা করা যায়,মিউটেশন এর ফলে উদ্ভাবিত নতুন প্রকরণ বা ভেরিয়েন্ট (বানর থেকে মানুষের উদ্ভব) ততটা সহজে ব্যাখ্যা করা যায়না।অন্য প্রজাতি হতে মানুষের উৎপত্তি automatically হওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্য প্রজাতি মানুষ বিবর্তন  হতে হলে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন মিউটেশন দরকার।

 

 

অথচ মিউটেশন এর ফলে জিনের প্রোটিনে যে পরিবর্তন হয় তা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। মিউটেশন এর 70% ক্ষতিকারক বাকিটুকু নিরপেক্ষ থাকে। মিউটেশন এর ফলাফল এতটাই সাংঘাতিক যে এর ফলে একটা প্রজাতি ধংস বা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে.. মিউটেশন এর মাধ্যমে কমপ্লেক্স অর্গান তৈরি হতে দরকার কোঅর্ডিনেট মিউটেশন অথচ চার বা তার অধিক মিউটেশন একই সময়ে হওয়া প্রায় অসম্ভব।

বিতর্ক আছে বিবর্তনের বিরুদ্ধে যে প্রায় সকল মিউটেশনই ক্ষতিকর। কিন্তু বেশিরভাগ মিউটেশন হল নিরপেক্ষ মিউটেশন neutral, আর বাকি মিউটেশনগুলো উপকারীও হতে পারে আবার ক্ষতিকারকও হতে পারে, তবে এটা নির্ভর করে পরিবেশের উপর, যে মিউটেশনটা একটা পরিবেশে ক্ষতিকর, সেই একই মিউটেশন অন্য পরিবেশে গিয়ে উপকারীও হতে পারে। ১৯৭৬ সালে দার্শনিক কার্ল পোপার বলেছিলেন “ডারউইনিজম কোনো পরীক্ষণীয় বৈজ্ঞানিক মতবাদ নয়, বরং আধ্যাত্মিক গবেষণার বিষয়।” পরবর্তীতে তিনি বলেন ডারউইনের “প্রাকৃতিক নির্বাচনের এই মতবাদ পরীক্ষা করা কঠিন”

 

চার্লস ডারউইন তার “on the origin of species” এর ৬ নং পরিচ্ছেদে বলেন “যদি এমনটা কখনো দেখা যায় যে প্রকৃতিতে কোনো জীবে জটিল অঙ্গ আছে কিন্তু সেটা অনেকগুলো ধারাবাহিক এবং অল্প অল্প পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে না গিয়ে হটাৎ করেই প্রকৃতিতে বিদ্যমান;তাহলে আমার এই তত্ব অবশ্যই ভেঙ্গে পরবে।”একটা প্রাসঙ্গিক আপত্তি বিবর্তনের বিরুদ্ধে হচ্ছে বিবর্তন অনির্ভরযোগ্য প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত।বিতর্কের সারমর্ম হল বিবর্তন প্রমাণিত নয়। এমনকি এর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায় না।বিবর্তনকে সমালোচনা করার জন্য অসংখ্য উপাদান আছে উদাহরণস্বরুপ, মানুষের কাছে এক জোড়া ক্রোমোজোম কম আছে হোমিনিড গোত্রের বাকি সদস্যের তুলনায়। অর্থাৎ অন্য কোনও প্রজাতি  হতে মানুষের উদ্ভব এর ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে।

 

 

তখন একটা থিওরী বিবর্তনবাদের পক্ষের মানুষরা প্রয়োগ করলেন। তারা বললেন, হয় ফিউশনের ফলে দুইটা ক্রোমোজোম জোড়া লেগে গেছে বা একটি ক্রোমোজোম নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু তা প্রমাণসাপেক্ষ ছিল না। অথচ কোন প্রানীর ক্রোমজম কমবেশী হলে প্রানী ধংস হয়ে যেতে পারে।Biochemist Michael Behe বলতে থাকেন সাম্প্রতিক সময়ের বিবর্তনবাদ সৃষ্টির জটিল গঠন ব্যাখ্যা করতে পারে না, বিশেষ করে মাইক্রোবায়োলজিতো পারেই না। এর উপর ভিত্তি করে তিনি বলেন ” এই জটিল গঠনগুলো বুদ্ধিমান সত্তা দ্বারা তৈরী।

বিবর্তনবাদ এর সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো তথ্যের সৃষ্টি এর ব্যাখ্যা:- 

প্রসঙ্গতঃ আমাদের শরীরের অর্গান এর কোন অংশ কেমন হবে, এমনকি  গায়ের রং কেমন হবে সেটা নির্ধারণ করে আমাদের শরীরের DNA এ তে অবস্থিত জীন। তাই এখানে নতুন তথ্য বলতে বুঝানো হয়েছে, জীনে অবস্থিত তথ্যের সংযোজনকেই'” আরেকটা আপত্তি সায়েন্টিস্টরা করে তা হল বিবর্তনের পরিচালনাকারী মিউটেশন  (mutation) কখনোই নতুন information (তথ্যের) জন্ম দিতে পারে না।

William A. Dembski, Werner Gitt, এবং Lee Spetner এই ইস্যুতে information theory ব্যবহার করেন বিবর্তনবাদকে নস্যাৎ করতে। Dembski বলেন জীবন প্রদর্শন করে specified complexity(সুনির্দিষ্ট জটিলতার) এবং বিবর্তন একজন intelligent agent ছাড়া কোনোভাবেই উত্তরাধিকারের জীনে সেইসব নতুন তথ্যের জন্ম দিতে পারে না যেসব তথ্য সুনির্দিষ্ট জটিল অঙ্গ গঠন করে। এখানে ইন্টেলিজেন্ট এজেন্ট বলতে স্রষ্টার কথা বলা হয়েছে।

বিবর্তনবাদ এর আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো বিবর্তনবাদ থার্মোডায়ানোমিক্স এর ২য় সূত্রের লঙ্ঘন করে। অর্থাৎ যদি  বিবর্তনবাদ সত্য হয়   second law of thermodynamics (তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সুত্র) মিথ্যা । অথচও থার্মোডায়ানোমিক্স এর থিওরী গানিতিক ভাবে প্রমাণিত।

এখন দেখা যাক থার্মোডায়ানোমিক্স থিওরী আসলে কি বলে, যদিও এই থিওরী  সকল সিস্টেমেই প্রয়োগ হবে, তবে বদ্ধ সিস্টেমের জন্য বলা হয়, ” স্বতন্ত্র সিস্টেমে এনট্রপি কখনো সাম্যাবস্থা তৈরী করবে না। সময়ের সাথে সাথে এটা বাড়তেই থাকবে। যতক্ষণ না তাপীয় বিশৃঙ্খলা সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌছায়”।

অন্যকথায় একটি স্বতন্ত্র সিস্টেমে এনট্রপি (শক্তির বিশৃঙ্খলতা যা দেখা যায় ফিজিক্যাল সিস্টেমে তাই সেখানে মেকানিক্যাল কাজ করা সম্ভব হয় না ) হয় বাড়বে না হয় একই অর্থাৎ স্থিতীশীল থাকবে কিন্তু কমবে না।

বিজ্ঞানীরা এইটাকে তুলে ধরে বলতে থাকে বিবর্তনবাদ পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম ভাঙছে, কারণ বিবর্তন সংঘটিত হতে হলে সময়ের সাথে সাথে এনট্রপি কমবে, যা অসম্ভব।

আসল কথা হলো বিবর্তনবাদ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই। এ বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে তর্ক করার জন্য যে জ্ঞান টুকু থাকা দরকার ততটুকু জ্ঞান আবার আমাদের অনেকের মধ্যেই নেই।

শেষ করার আগে  মজার একটা তথ্য দেই

বিংশ শতাব্দীর যে পাচজনকে বিবর্তনবাদী বা ইভুলেশনারী বায়োলজির জনক বলা হয়, তারা হলেন-Ronald Fisher, Sewall Wright, J. B. S. Haldane, Ernst Mayr, and Theodosius Dobzhansky।এর মধ্যে প্রথমজন বিদেশী ধর্মপ্রাণ যিনি জীসাশের নৈতিকতা র বাণী প্রচার করত, চার্চ ম্যাগাজিনে আর্টিকেল লিখত। দ্বিতীয়জন একেশ্বরবাদী ছিলেন। তৃতীয়জন সংশয়বাদী ছিলেন। চতুর্থ জন নাস্তিক ছিলেন। পঞ্চম জন Russian Orthodox Church এর মেম্বার ছিলেন এবং ধর্ম ও বিজ্ঞান নামক একটি বইয়ের প্রকাশক ছিলেন।

 

মাহিদ খান

১১ এপ্রিল ২০১৭

 

 

Exit mobile version