Site icon কালাক্ষর

মারফির সূত্র: যা ঘটার তা ঘটবেই

মারফির সূত্র

পরীমনি। ছবি - ফেসবুক

আমার কপাল খারাপ কি না জানি না, আমার কোন নতুন প্রডাকশনের কাজের সময় যদি পরিচিত কারো উপস্থিতি খুব বেশি প্রয়োজন বলে মনে হয়, কিংবা আমি কোন কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে যদি আমার কাছের কারো হেল্প খুব দরকার বলে মনে হয় তখন তাকে আমি খুঁজে পাই না, হয়ত ভাগ্য ভাল হলে ফোনে পাওয়া যায় কিন্তু যে কাজের জন্য তার উপস্থিতি কিংবা সাপোর্ট দরকার সেটা আর আমার তার কাছে থেকে পাওয়া হয়ে ওঠে না, অথচ অদরকারী সময় গুলোতে সে আমার পিছনে আঠার মত লেগে থাকতো। তাকে আমার কোন প্রডাকশনের কাজে তাকে রাখা যায় কিনা এই নিয়ে ফোনের পর ফোন দিয়ে অনুরোধ করতো। কিন্তু যে সময়টিতে তাকে দরকার সেই সময়টিতে দেখা যায়, সে অন্য কারো প্রডাকশনের কাজ নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে আছে। আমার কাজ সে ইচ্ছে থাকার পরেও করতে পারছে না।  

শুধু প্রডাকশন এর কাজ ই নয় আমার প্রত্যহিক জীবনের কোন কাজ করতে গিয়ে, কোন একটা জিনিসের খুব দরকার বলে মনে হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিয়ে মন মেজাজ তিরিক্ষি হবার যোগার হয় আমার। এমনো হইছে বহুবার রাস্তায় জ্যামে পড়ে বসে আছি তো আছি ই, বিরক্ত হয়ে যেই বাস থেকে নেমে বাকি পথটুকু হেঁটেই চলে যাবো বলে বাস থেকে নেমে পড়ে হাটা শুরূ করে দিয়েছি, অমনি দেখতে পাই আমার সেই বাসটি ছেড়ে দিয়েছে আর আমায় পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। কিংবা খুব তারা তারী কোথাও পৌছাতে হবে বলে গুগল ম্যাপ দেখে জ্যাম এড়িয়ে তুলনা মূলক কম জ্যাম ওয়ালা রাস্তা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত জাবার জন্য রাস্তা পরিবর্তন করে যাত্রা শুরু করলাম কিন্তু মাঝ পথে গিয়ে দেখি যে জ্যামের ভয়ে এত কস্ট করে এই পথ ধরা সেই জ্যাম এইখানেই আরো বেশি হয়ে গেছে। রেজাল্ট নিজের কুফা ভাগ্য কে দোষারোপ করে কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

আচ্ছা আমার সাথে ঘটা এই সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা গুলো কি আপনার সাথেও ঘটে? আপনি ও কি আমার মত ফাটা কপাল কে দোষ দ্যান? নাকি আপনার সাথে ঘটা এই সব ঘটনা কেন ঘটে? কিসের জন্য ঘটে? এই সবের কোন যুক্তি যুক্ত ব্যাখ্যা আছে কি নেই তা জানার জন্য আপনার মনে কৌতূহল ভর করে, যদি তা হয় তবে আপনাকে মারফির সূত্রে স্বাগতম!

মারফির সুত্র অনুসারে বলা হয় “If anything Can go wrong, It will  যার বাংলা তর্জমা করলে অর্থ দাঁড়ায়  কোনো কিছু ভুল হওয়ার থাকলে, তা অবশ্যই ভুল হবে।   কোনো রহস্যময় ক্ষমতায় যে মারফির সূত্র এর অস্তিত্ব প্রমাণ করে তা কিন্তু নয়, বাস্তবে আমরাই একে টিকিয়ে রেখেছি। আমি,আপনি কিংবা আমরা সব সময়ই প্রত্যাশা করি যে আমাদের প্রতিদিনের কাজগুলো যেন আমাদের অনুকূলে থাকে, কিন্তু যখন বাধা বা প্রতিকূলতার সৃষ্টি হয়, আমরা এর কারণ খুঁজতে থাকি। কিন্তু যতক্ষণ সবকিছু ঠিকঠাক চলে আমরা কি একবারও এই নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করি? ধরুন, একটি পিচ্ছিল রাস্তা দিয়ে শতবার হাঁটার পর যদি একবার আমরা পিছলে পড়ে যাই, তাহলে আমরা বলি, “শালা আমার ভাগ্যটাই খারাপ শুধু আমার সাথেই কি এমন হওয়া লাগে? অথচ এর আগে যে রাস্তা দিয়ে এতবার হেঁটে যাওয়া হলো সেই ইতিবাচক দিকটিকে আমরা উপেক্ষা করি।

মারফির সূত্র আবিস্কারের পিছনের ঘটনা

মারফির সূত্রকে সূত্র না বলে একে দার্শনিক মতবাদ হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যায় অথবা একে প্রবাদ বা হাইপোথিসিস এর কাতারেও ফেলা যায়। মারফির সুত্র আবিস্কারের ঘটনা খুব পুরোনো নয়, আবার নতুনও নয়। ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড মারফি থেকে এর নামকরণ হলেও এর পূর্বেও অনেক জায়গায় এর উল্লেখ ছিল। জাদুকর এডাম হাল ১৯২৮ সালে তার একটি প্রবন্ধে লেখেন, কোনো জাদুগিরিতে যেগুলো ভুল হওয়ার সেগুলো ভুল হবেই। এছাড়া ব্রিটেনে এটি Sod’s law নামে পরিচিত। তবে ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড মারফি এই নিয়ে খুব বেশি ত্যানা পেচিয়ে সবার কাছে আলোচিত করে ফেলেন বলে এটি আজ ‘মারফির সূত্র’ নামে সর্বাধিক পরিচিত।  

মার্কিন বিমানবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করা ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড মারফি যখন ১৯৪৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মিউরোক (পরবর্তীতে এডওয়ার্ডস নামকরণ করা হয়) এয়ারফোর্স ঘাঁটিতে অন্য সব অফিসারদের সাথে গ্রাভিটি  নিয়ে একটি পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন।  পরীক্ষা টি নেয়ে তাদের জানার বিষয় ছিল কোনো পাইলট একেবারে কত অভিকর্ষজ ত্বরণ সামলাতে পারবেন তা নি। তাদের ধারণা ছিল, এ থেকে প্রাপ্ত ফলাফল ভবিষ্যতে প্লেনের ডিজাইনে কাজে আসবে।

ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড মারফি; Image Source: The Star

ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড মারফির তার দলটিকে নিয়ে Gee Whiz  নামক রকেট স্লেড ব্যবহার করে বিমান দুর্ঘটনার পরিস্থিতি নকলের চেষ্টা করছিলেন। অর্ধ মাইল ট্রাকে স্লেডটির গতি ছিল প্রায় ২০০ মাইল/ঘন্টা। সমস্যা হলো, একজন ব্যক্তি কতটুকু গ্রাভিটির ধাক্কা সামলাতে পারবে তা জানার জন্য একজন প্রকৃত ব্যক্তির প্রয়োজন ছিলো। মার্কিন বিমান বাহিনীর অফিসারদের পরীক্ষার এই কাজে এগিয়ে আসেন সাহসী কর্নেল জন পল স্টাপ। তিনি বিমান বাহিনীর সদস্যদের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যাই হোক কয়েক মাস ধরে চলা এই পরিক্ষায় ডাক্তার সাহেব একাধিক বার তার শরীরের হাড় ভাঙেন। 

সৃজনশীল বাংলা ব্লগ কালাক্ষর এ আমার লেখা আগের পোষ্ট গুলো পড়ার অনুরোধ রইল 

যে দিন মারফির সূত্রের জন্ম, সেদিন এডওয়ার্ড মারফিকে কোনো স্লেজ রাইড করতে হয়নি। তখন কিছু সেন্সর তৈরি করা হয় যেগুলোর সাহায্যে সেই গ্রাভিটির ধাক্কা মাপা যায়। সেন্সর লাগিয়ে যখন প্রথম পরীক্ষা করা হলো তখন রিডিং আসলো শূন্য। বিরক্ত হয়ে মারফি চেক করে দেখলেন যে, সবগুলো সেন্সর ভুল ভাবে লাগানো আছে। তার সহকারীর উপর এই সেন্সর লাগানোর দায়িত্ব ছিল। তখন মারফি বললেন, “যদি একটি কাজ করার দুটি উপায় থাকে, এবং এক উপায়ে করলে সেটি ভুল হবে, এই লোক অবশ্যই সেই উপায়েই করবে!

মার্কিন বিমানবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের অফিসার মার্ফির এই কথা শুনে যখন অন্যসব অফিসারেরা হাসাহাসি করছিল তখন কর্নেল ডাক্তার জন পল স্টাপ এর মাথায় একটি ভিন্ন ভাবনা ঘোড়াফেরা করছল। পরবর্তীতে এক প্রেস কনফারেন্সে জন পল স্টাপ বলেন, মারফির সূত্র সম্পর্কে সজাগ থাকার কারণে রকেট স্লেজ দলটিকে কোনো বিপদের সম্মুখীন হতে হয়নি। বিষয়টি তিনি আরও বুঝিয়ে বলতে গিয়ে বলে ফেলেন, যা ভুল হবার সে ভুল হবেই!

স্লেজে বসা ড. স্টাপ; Image Source: Space Medicine association

যা ভুল হবার সে ভুল হবেই! কথাটি মূলত এরপর থেকেই এটি সাধারণ মানুষের কাছে এত বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, ১৯৭০ সালে এর উপর একটি বইও লেখা হয়। এরপর থেকে মারফির সূত্রে আরও বিভিন্ন ধারণা যোগ করে একে বর্ধিত করা হয়।

 মারফির সূত্র যে ভাবে সার্বজনীন রুপ পেলো

মারফির সূত্র জনপ্রিয়তা লাভ করার পেছনে কারণ কী? রকেট স্লেজের সেন্সরগুলোর দুটি কানেক্টর ছিল। অর্থাৎ ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা ছিল ঠিকভাবে লাগানোর। কিন্তু ভুলকে বড় করে কেন দেখা হলো? সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা হচ্ছে, আমরা যাকে বলি, ‘অদৃষ্টের পরিণতি’।

‘ভাগ্যে যা লেখা আছে তা-ই হবে, ভাগ্যের কাছে আমাদের সবকিছু ক্ষমতাহীন’ । এই চিন্তাধারা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু ভাগ্যের লিখনের সাথে সাংঘর্ষিক একটি ব্যাপার হচ্ছে আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা। অর্থাৎ আমরা যা-ই করি না কেন, আমাদের প্রতিটি কাজ এবং তার ফলাফল আমরা নিজেরাই বয়ে আনি। এই দুটি ব্যাপারকে যদি আমরা একসাথে জুড়ে দেই, তাহলে মারফির সূত্রের একটি ব্যাখ্যা দাঁড়ায়। আমরা যা ভুল করার তা আমরা বার বার করবো। কিন্তু এই ভুল করার ইচ্ছাটা কিন্তু নিজেদের থেকেই আসে। অপরপক্ষে, মারফির সুত্র বলে দেয় আমরা নিজেদের উপর কতটা নিয়ন্ত্রণহীন। সবচেয়ে দীর্ঘ জ্যামে পড়লে আমরা আমাদের নিজেদের কুফা ভাগ্যকে দোষারোপ করি।

মারফির সূত্র কিন্তু কোনো কিছু প্রমাণ করে না। একে একটি সাধারণ মতবাদ বা প্রবাদ বলা যায়। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, কোন খারাপ বা ভুল কিছু যখন ঘটে, তখন প্রকৃতির আরও কিছু বিষয় জড়িত থাকে। রুডিয়ার্ড কিপলিং বলেছিলেন, তুমি যতবারই একটি পাউরুটি ফেল না কেন, মাখন মাখা অংশটি সর্বদা মাটিতে লাগবে। এখানে একটা বিষয় হচ্ছে, মাখন মাখা অংশটি অপর অংশের চেয়ে সামান্য হলেও ভারি। আমরা যখন উপর থেকে ফেলবো তখন গ্রাভিটির কারণে ভারি অংশটিই কিন্তু নিচের দিকে থাকবে। কিন্তু এর বিপরীতও হতে পারে, তখন শুধু আমাদের সঠিক কারণটি বের করতে হবে ভাগ্যের উপর ছেড়ে না দিয়ে।

মারফির সূত্রের সাথে তাপগতিবিদ্যার সম্পর্ক

আমাদের প্রকৃতির নিয়ম আসলে মারফির সূত্রকে সমর্থন করে। তাপগতিবিদ্যায় এনট্রপি বা শক্তির বিশৃঙ্খলার উপর ক্লসিয়াস এর একটি সূত্র রয়েছে। একে তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্রও বলে হয়। ক্লসিয়াসের  সূত্রটি হলো,

“বাইরের শক্তির সাহায্য ছাড়া কোনো স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের পক্ষে নিম্ন তাপমাত্রার কোনো বস্তু হতে উচ্চ তাপমাত্রার কোনো বস্তুতে তাপের স্থানান্তর সম্ভব নয়”

ক্লসিয়াসের সূত্রটি আমাদের ধারণা দেয় কীভাবে শক্তি এক রুপ থেকে অন্য রুপে রুপান্তরিত হয়, আর এখানে শক্তির এই এক রুপ থেকে অন্য রুপে রুপান্তরিত হবার সময় সৃষ্টি হওয়া জটিলতা সমন্ধে ও আমাদের মনে একটা গ্রাফ তৈরি হয়। আমরা কখনও এমন কিছু তৈরি করতে পারবো না যাতে যদি আমরা শতভাগ ইনপুট দিলে তা থেকে শতভাগ ই আউটপুট পাওয়া যাবে। অর্থাৎ কিছু শক্তি আমরা হারাবোই। এ থেকে একটি ধারণা তৈরি হয় যে, পৃথিবীর সব ব্যবস্থাতেই শক্তির একটা বিশৃঙ্খলতা তৈরি হয়, যা প্রতিনিয়ত হচ্ছে। এটি এড়ানোর উপায় নেই। মারফির সূত্রের গাণিতিক বিশ্লেষণও করেছেন ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জোয়েল পেল। তার ফর্মুলা মারফির সূত্রজড়িত ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতা অনুমান করে।

কোনো সিস্টেম বা ব্যবস্থাই ত্রুটিমুক্ত নয়, তা ব্যর্থ হতে পারে। এর অর্থ সেটি পুনরায় করতে হবে, বার বার ভুল হলেও এগিয়ে যেতে হবে। মারফির সূত্র শুধু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেই নয়, সকল ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার প্রোগ্রামার এবং বিজ্ঞানীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

কিছু মজার মারফির সূত্র
হিউম্যান সাইকোলজি তে মার্ফির সুত্রের প্রভাবঃ

একটু খেয়াল করলে দেখবেন আমাদের জীবনে অনেক কাজ আমরা সঠিক ভাবে করার জন্য অনেক মনোযোগ দিয়ে ১০০% সর্তকতার সাথে করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরেও অপ্রত্যাশিত ভাবে সেই কাজ টা ভাল ভাবে করতে পারিনি। এই আর্টিকেল এর প্রথম দিকে জ্যামে বসে থাকবো না বলে গুগল ম্যাপ দেখে পচলিত সহজ রাস্তা ছেড়ে একটু ঘুরে অন্য রাস্তা দিয়ে আমার গন্তব্যে পৌছাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাঝ পথে গিয়ে সেই জ্যামে বসে থাকতে হইছিল আর আমি ফাটা কপাল কে দোষ দিয়েছলাম। কপাল কে দোষ দেবার কারণ এতে আমার কোন হাত ছিল না, আমি গুগল ম্যাপ দেখে রাস্তার জ্যাম কাটিয়ে তারা তারি যেতে পারবো বলেই এত কস্ট করে একটু ঘোড়া হয় জেনেও সেই রাস্তা দিয়ে গিয়েছিলাম। আর আমি এতে ১০০% মনোযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি রাস্তার মাঝ পথে পৌছাতে পৌছাতে ঐ জায়গায়তেও জ্যামের সৃষ্টি হয়। আর যে হুতু এতে আমার দোষ নেই তাই আমি আমার ভাগ্যকে দোষ দিয়েছি। অথচ আমি কেন এই সত্য কে-কেন মেনে নিতে পারলাম না,আমার মত অনেকে ই সেই দিন তাড়া ছিল। তাই কি ভাবে তারাতারি গন্তব্যে পৌছাতে পৌঁছানো যায় তা ভেবে আমার মতই গুগল ম্যাপ দেখেছিল, আর ঐ রাস্তায় এসেছিল বলেই জ্যামের সৃষ্টি। আমি এই সত্য মেনে নিতে পারি নি বলেই হতাশ হয়ে আমার ভাগ্যকে দোষ দিয়েছিলাম। আর ঐ দিন নির্দিস্ট টাইমে সেই যায়গায় যেতে পারিনি বলে আমার হওয়া কাজ টা হয় নি এইটা নিয়ে সেই হতাশা আমায় এখনো কষ্ট দ্যায়। 

মডেল- মৌ। ছবি ০ কালাক্ষর ডেক্স

হতাশা থেকে বিষন্নতার জন্ম, বিষণ্ণতা থেকে আরো অনেক কিছু। অথচ আমি যদি ঐ দিন ভাগ্য কে দোষ না দিয়ে যাস্ট বাস্তবতাকে মেনে নিতে শিখতাম তবে ঐ দিন ই মাথা থেকে সব পেইন দূর হয়ে যেত।

সাইকোলজির সাথে মারফির সুত্র যোগ করার কারণ মার্ফির সুত্র আমাদের এই শিক্ষা দ্যায়,দুনিয়ার কোন মানুষ ই সবসময় শতভাগ সঠিক কাজ করতে পারে না। তার কিছ ভুল হয়ই। তাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কোন কিছু তে ব্যার্থ হলে সবসময় চেষ্টা করতে হবে সেটার পেছনের কারণ খোঁজার এবং ব্যাখ্যা করার। কোন কাজ করতে গিয়ে যদি আমাদের অলক্ষেই ভুল হয়ে যায়, কিংবা কোন কাজ করতে গিয়ে যদি অন্য কোন অনুঘটক আমাদের সেই কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, কিংবা কাউকে ভালবাসো মন প্রান দিয়ে কিন্তু শত চেস্টার পরেও যদি  সে তোমায় না বোঝে তবে তা নিয়ে কষ্ট পেতে নেই ,ভাগ্যকে দোষারোপ করলে হতাশা বাড়ে, তাই  বাস্তবতা মেনে নিতে শিখতে হবে, বাড়াতে হবে আত্মবিশ্বাস এবং নেতিবাচক দিকের চেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোকে বড় করে দেখতে হবে। যা ভুল হওয়ার তা তো হলো, এরপর যেন আর না হয়! সেইটা সংকল্প করে সব কিছু মেনে নিতে শিখতে হবে।  যাস্ট বলতে হবে- যা ঘটার তা ঘটবেই   

নোট টু বিঃ যারা আমার ব্যাক্তিগত পরিচিত রা আমায় মাঝে মাঝেই শিফট প্লাস ডিলিট শব্দটি উচ্চারণ করতে শুনে আর চোখে তাকিয়ে হেসেছেন। কিংবা কৌতূহল নিয়ে যারা আমায় প্রশ্ন করেছেন অজস্র বার কেন আমি বার বার শিফট প্লাস ডিলিট বলছি ? তাদের কেউ যদি এই পোষ্ট টা পড়েন, এতক্ষনে উত্তর পেয়ে যাবার কথা, না পেলে বলে দিচ্ছি, শিফট প্লাস ডিলিট টা আমি তখন ই বলি যখন কোন অপ্রত্যাশিত প্যাড়া খাই যে খানে আমার কোন দোষ থাকে না, কিন্তু অন্য কোন অনুঘটকের করা ভুলের জন্য আমি নিজে কেন হতাশ হবো? তাই মাথা থেকে সেই টপিক টি বাদ দিয়ে দিতে বলি শিফট প্লাস ডিলিট –  যাকে অন্য অর্থে যা হবার তা হবেই বা যা ঘটার তা ঘটবেই হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।  

It’s a Bangla article on Murphy’s Law. A natural occurrence in our life.

References are added below:

Exit mobile version