1. sjranabd1@gmail.com : S Jewel : S Jewel
  2. solaimanjewel@hotmail.com : kalakkhor :
হিউম্যান এনার্জি থিউরীঃ বিজ্ঞান নাকি কুসংস্কার - কালাক্ষর
বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৪ অপরাহ্ন

হিউম্যান এনার্জি থিউরীঃ বিজ্ঞান নাকি কুসংস্কার

  • Update Time : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

এনার্জি মানে শক্তি – পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় আমরা শক্তি বলতে কাজ করার সামর্থ্যকে বুঝে থাকি । অর্থাৎ কোন বস্তুর শক্তি হচ্ছে ঐ বস্তু মোট যতখানি কাজ করতে পারে। সুতরাং কাজের একক ও ক্তির একক অভিন্ন –জুল। শক্তি নানা প্রকারের-হয়ে-থাকে-আলোক- শক্তি,তাপ শক্তি,যান্ত্রিক শক্তি,মহাকর্ষীয় শক্তি,বিদ্যুৎ শক্তি,শব্দ শক্তি,রাসায়নিক শক্তি,পরমাণু শক্তি এবং আরও কত কী। আমার ধারনা এই সব আপনারা জানেন  কিন্তু আপনাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে মানব শক্তি কি? বেশির ভাগ লোক জন ই পদার্থ বিজ্ঞানের প্রথাগত সঙ্গার সাথে মানব এর এনার্জি যুক্ত করে ঢালাও উত্তর দিবেন – মানুষ এর কাজ করার ক্ষমতা কে শক্তি বলে, আর এইটা যে ভুল তা কিন্তু নয় – এইটাও রাইট – কিন্তু আমাদের আজকের লেখা পদার্থ বিজ্ঞানের সংগার বিপরিত না হলেও ধরন টা অন্য টাইপের –  তা হল আধুনিক কালের সবচেয়ে আলোচিত এক মতবাদ/থিউরী নিয়ে যাকে হিউম্যান এনার্জি বলা হচ্ছে 

হিউম্যান এনার্জি থিউরী

মনো বিজ্ঞানীদের এই তথাকথিত মানব এনার্জী তত্ব নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা ছিল না- কিন্তু মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়ায় তখন- যখন জানা যায় এই এনার্জী তথাকথিত কু সংস্কার কে ধারন করে- ঠিক বুঝলেন না এই তো? শুচি বায়ু চেনেন? এই যে ধরুন বাসা থেকে বের হবার সময় ঝারু দেখে বেরুলেন – আর দিন টা কে অপয়া ভাবলেন, ভাংগা আয়নায় মুখ দেখলে নাকি সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে – ময়লা কাপড়, ছেড়া বিছানা, ভাংগা চিরুনী – এত ডি যে সব কিছু অপয়া ভেবেছেন আর কিছু মডারেট লোকের কাছ থেকে কুসংস্কারচ্ছন্নতার  অপবাদ শুনেছেন তাদের কে বলি আধুনিক এই হিউম্যান এনার্জি থিউরী এর ভাষায় একে নেগেটিভ এনার্জীর ধারক বলে- মানে আপনার বাসায় যদি এই সব থাকে – তবে আপনার মাথায় নেগেটিভ এনার্জি ডিব্বা থাকবে- আর ধিরে ধিরে আপনাকে নেগেটিভ চার্জ এমন ভাবে ঘিরে ধরবে যে আপনি নানান খারাপ কাজ করতে বাধ্য হবেন- তার মানে কি দাড়ালো ? এত দিন শুচি বায়ু রোগী বলুন আর কুসংস্কারচ্ছন্ন মানুষ ই বলুন যে সব কাজ সদা এড়িয়ে চলেছেন – সেই সব কাজ কে আধুনিক হিউম্যান থিউরী ও এড়িয়ে চলতে বলছে- এত দিন যে সব জিনিস কে অপয়া জেনেছেন সেই সব জিনিস কে আধুনিক বিজ্ঞান ঋনাত্বক চার্জ এর তকমা দিয়ে আপনার মনের কুসংস্কার কেই প্রমোট করছে- আর এইটা বৈজ্ঞানিক ভাবে তারা প্রমান ও করেছে- 

হিউম্যান এনার্জি থিউরীঃ বিজ্ঞান নাকি কুসংস্কার

মডেল – তানজিন তিশা। ছবি- কালাক্ষর ডেক্স

নেগেটিভ এনার্জি এড়িয়ে চলতে মনোবিজ্ঞানীরা অনেক সময় সাবধান করেছেন- দিয়েছেন নানান ফিরিস্থি, কারন তাদের ভাষায় এই নেগেটিভ এনার্জী মানুষ এর জীবন কে রাহু গ্রাস করে ফেলে- খারাপ কাজ- খারাপ চিন্তা – মানুষিক ডিপ্রেশান- সংসারে অশান্তি – খুন রাহাজানী – সব কিছু নাকি এই নেগেটিভ এনার্জীর কুফল নেগেটিভ এনার্জী মানুষ কে খারাপ পথে চলার জন্য- খারাপ কাজ করার জন্য তারিত করে তার জন্য মনোবিজ্ঞানী গন সব সময় আপনাকে নেগেটিভ এনার্জির থেকে দূরে থাকতে বলেন – আপনার বসত বাড়ি আপনার কর্ম ক্ষেত্র সব জায়গায় নেগেটিভ এনার্জি যাতে না থাকে তার জন্য যোর দেন।

নেগেটিভ এনার্জি মানুষের মন কে ডিপ্রেশান এর সর্বচ্য লেভেলে নিয়ে যায় – বুঝলেন না তো ? আচ্ছা – আপনার কি মুড সব সময় অফ হয়ে থাকে? বাড়িতে বসে থাকলেও মেজাজ ভাল থাকে না, আবার বাইরে বেরোলেও খিঁটখিঁটে হয়ে থাকেন? কেন বলুন তো? আপনার বাড়ির এনার্জি সঞ্চালন ঠিক আছে তো? নেগেটিভ এনার্জি ভরে নেই তো বাড়িতে? কি ভাবে নেজেটিভ এনার্জি দূর করবেন ?

আসুন দেখে আসি হিন্দু ধর্মের ঝান্ডা ধারন কারী বাবা পণ্ডিত বাবা গন (রাম দেব,কাম দেব, নুনু দেব ইত্যাদি)– যারা বেশির ভাগ ই ইদানিং কালে গো মুত্র গবেষণায় ব্যাস্ত থাকেন- আর মাঝে মাঝেই  বর্তমান কালের জাতীয় দুর্যোগ কারী অসুখ (করনা, এইডস, ক্যান্সার) এর অসুধ আবিস্কার করার ঘোষনা দিয়ে হাস্যরসের খোরাক যোগান দান করে- মুর্খ রা এত টা মুর্খ না যে শুধু মাত্র হাসির পাত্র হবে এটা বুঝেও যাস্ট এই সব বক্তব্য দেয় – তারা খুব ভাল করেই জানে শিক্ষিত মানুষ বিশ্বাস না করলেও কিছু নাদান মুর্খ গরীব লোক তাদের কথা ঠিক ই বিশ্বাস করবে- আর সেই ধর্ম বিশ্বাস এর সুযোগ  নিয়ে ছিনি মিনি খেলে টু পাইস নাম জস কামাবার ধান্দা করা যায় – পুরাতন বাস্তু সংস্থান মতবাদ, লবন তত্ব, তুলশি তত্ব, হুনুমান বাবার,সনাতনী তরিকা নিয়ে নানান মতবাদ বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন – দুইটি লিংক দিচ্ছি , ক্লিক করলে দেখতে পারবেন- আর তা  পড়ে দেখুন – তা হলেই বুঝবেন কু সংস্কার কই গেছে- আবার বিশ্বাস ও করতে পারেন- এইটা আপনার নিজের ব্যাপার – 

 পরিশেষে আমার নিজের একটা যুক্তি মুলক ব্যাখ্যা দেই –

“আপনার চিন্তা-ভাবনার সমষ্টিগুলো এক সময় আপনার মুখের ভাষা কথা হয়ে উঠবে।আপনার কথাগুলো এক সময় আপনার কর্ম/কাজে পরিণত হয়ে উঠবে আপনার কাজগুলো এক সময় আপনার অভ্যাস হয়ে উঠবে আপনার অভ্যাসগুলো এক সময় আপনার চরিত্র হয়ে উঠবে।আর আপনার চরিত্র এক সময় আপনার ভাগ্য হয়ে উঠবে” –

সোলায়মান জুয়েল

ব্লগার/ নাট্য পরিচালক/ প্রযোজক 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©2021 All rights reserved © kalakkhor.com
Customized By BlogTheme
error: Content is protected !!