1. sjranabd1@gmail.com : S Jewel : S Jewel
  2. solaimanjewel@hotmail.com : kalakkhor :
কন্সপিরেসি থিওরিঃ ষড়যন্ত্রবাদের ইতিহাস - কালাক্ষর - সাইকোলজী
বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

কন্সপিরেসি থিওরিঃ ষড়যন্ত্রবাদের ইতিহাস

  • Update Time : রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১

কন্সপিরেসি থিওরি (conspiracy theories) এর বাংলা প্রতিশব্দ হল ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা ষড়যন্ত্রবাদ। কন্সপিরেসি থিওরি মূলত কোন ঘটনাকে এমন ধরণের ব্যাখ্যার মাধ্যমে বোঝানো হয়, যা সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া মানুষের মনে কাল্পনিক বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে তা গুজব আকারে ছড়িয়ে দিয়ে জনমত তৈরি করে, পরিশেষে সেই গুজব সৃষ্ট জনমতের সাহায্য নিয়ে কোন গভীর ষড়যন্ত্রের পটভুমি রচনা করা হয়।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমাজের এলিট শ্রেনী যারা রাস্ট্রের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন করে, সেই সব লোক জন এই জঘন্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এর পৃষ্ঠ পোষক হতে দেখা যায়। প্রথমে কন্সপিরেসি থিওরির চর্চা কোন ক্ষমতা ধর প্রতিষ্ঠান বা ব্যাক্তি বা বুদ্ধিজিবী টাইপের লোক জনদের দ্বারা সংঘটিত হয়,এই প্রতিষ্ঠান বা ব্যাক্তির পেছনে সেই দেশের সরকার (রাষ্ট্র) বা ক্ষমতাশীল কোন সংগঠন এর প্রত্যাক্ষ বা পরক্ষ মদদ থাকে।

এরা উক্ত ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান কে নিজের সার্থে ব্যাবহারের উদ্দেশ্যে মদদ দিয়ে থাকে। কন্সপিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ইন্ধন দাতারা অসৎ উপায় এবং ক্ষতিকর পন্থায় নিজেদের ফায়দা লাভ করতে চায়। কন্সপিরেসি থিওরির বেশির ভাগ জিনিস ই মিথ্যা, বানোয়াট এবং মন গড়া হয়ে থাকে এই থিউরীর বাহকেরা মানুষের মনে ভয়ের উপদ্রপ তৈরি করে তাদের পছন্দসই জনমত তৈরী করে এবং সেই জনমতের মাধ্যমে ফায়দা লোটার এক পরিক্ষিত সহজ প্রকৃয়ার নাম হল কন্সপিরেসি থিওরি। তাই কন্সপিরেসি থিওরী কে “প্রমান অপেক্ষা বিশ্বাস সাপেক্ষ” বলাই বাঞ্চনীয়।

কন্সপিরেসি থিওরি (Conspiracy Theory) প্রয়োগের উদাহরণ :

যিশু খ্রিস্টের মৃত্যুর পর তার সহযোগীরা যিশু খ্রিস্টের ধর্মীয় বানী মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন দেশে গমন করেন। এর ধারাবাহিকতায় তারা রোম সম্রাজ্যে এসে পৌঁছায়, দলে দলে মানুষ খৃস্ট ধর্ম গ্রহন করতে থাকে। এই সময় রোমান সাম্রাজ্যের মানুষের মাঝে এক নতুন গুপ্তসংঘের গুজব বেশ প্রকট ভাবে প্রকাশ পায় । এই নতুন গুপ্তসংঘের কীর্তিকলাপের গুজব শুনে অনেকেই তাদের ধরা পড়ামাত্র মৃত্যুদণ্ডের দাবি করে করতে থাকেন। যে হুতু নতুন এই গুপ্তসংঘের কাউকে কেউ দেখেনি তাই কেউ কেউ তাদের প্রতিবেশিদেরও সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করল,গুজবের সেই গুপ্ত সংঘের কোন কাজের সাথে হয়ত প্রতিবেশী লোকটির কিছু অংশের মিল আছে বা মিলে গেছে, তখন সবাই ভাবতো তার প্রতিবেশী ও হয়তো যোগ দিয়েছে সেই অজানা গুপ্তসংঘে। এই নিয়ে রোমানদের মধ্যে একরকম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর ভিতরেই রোমানদের ভিতর খবর রটে যায় নতুন এই গুপ্তসংঘের সদস্যরা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জ্যন্ত অবস্থায় বাচ্চার রক্ত পান করতে রোমানদের বাচ্চাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে । শয়তান কে তুষ্ট করতে গুপ্তসংঘের লোক জন জ্যান্ত শিশুদের রক্ত পান করে থাকে, আর ধরা পড়ার ভয়ে তারা এ ধরনের অনুষ্ঠান খুব গোপনে এবং সভ্য সমাজের আড়ালে কোনো স্থানে করে থাকে । এরা ভাই বোনের সাথে শারীরিক সঙ্গম করে আযাচার কর্ম সাধনে মজা পায়, রোম শহরের নিচের নোংরা ক্যাটাকম্বেও তাদেরকে মাঝে মাঝে দেখা যায়।

ব্যাস রোমান সাম্রাজ্যের আনাচে কানাচে এই গুজব দাবানলের মত ছড়িয়ে পরতে বেশিক্ষন লাগলো না,জন গন এই অদেখা গোপন সংগঠনের বিপক্ষে উত্তেজিত হয়ে দাবী জানাতে থাকলো বজ্জাত গোপন সংগঠনের সদস্যদের ধরে ফাসিতে ঝুলিয়ে মারার। অভিজাত সমাজ আর রাজনীতিকরাও উত্তেজিত জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে এই সব পাপী লোক জনদের ধরে তাদের পাপের শাস্তি দেবার জন্য সিনেটের কাছে অনুরোধ করলো।

কিন্তু এই গুপ্তসংঘটা কাদের দাড়া চালিত হয়? এই বিকৃত মনের বিদ্রোহীরা কারা? তারা কোথায় থাকে? বেশির ভাগ লোক জন ই তাদের না দেখেছে না তাদের ব্যাক্তি গত ভাবে চেনে? ঠিক তখন ই চাউর হয়, প্রকাশ করা হয় সেই গুপ্ত সংগঠনের নাম, তারা হল রোমানদের মাঝে নতুন ধর্মমত নিয়ে আসা এক দল ভন্ড লোকের, যারা নিজেকে খ্রিস্টান বলে পরিচয় দেয়। ব্যাস রাজ্যের জনগণের সকল ক্রোধ গিয়ে পরলো খ্রিস্টান জন সাধারনের উপর।

আচ্ছা খ্রিস্টানরা কি আসলেই এরকম ছিল? নাহ। তারা কোন কালেই এমন ছিল না,তাহলে মূল বিষয় টা কি ছিল? আসলে এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পুরোটাই ছিল রোমান সিনেটের তৈরি করা একটি প্রোপাগান্ডা? আর এই প্রোপাগন্ডার পিছনের সত্যটি কি ছিল? আর সিনেটের কি খ্রিস্ট্রান দের উপর আরোপিত অভিযোগ গুলো নিয়ে আদতেই কোন মাথায় ব্যাথা ছিল? না। তাদের তথাকথিত নরখাদকতা কিংবা অযাচারী আচরণ নিয়ে রোমান সিনেটের কোনো মাথাব্যথা ছিল না,সিনেটের প্রধান মাথাব্যথা ছিল সম্রাটের প্রতি নতুন ধর্মমত প্রচারকারী এই সকল খ্রিস্টানদের আনুগত্য না দেখানো।

ফলে রোমান সম্রাটের প্রতিনিধি সিনেট রোমান জনগণের মধ্যে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কয়েকজন বক্তাকে দায়িত্ব দেন, যাতে রোমের সাধারণ জনগণ এই নতুন ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট না হয়।

তবে মজার ব্যাপার হল এই যরযন্ত্র তত্ব বা কন্সপারেন্সি তৈরি করতে রোমান সিনেট একে বারে কল্পনা প্রসুত ভাবে তৈরি করেনি, বরং এই গালগল্প বা গুজবের কিছু অংশ সিনেটের লোকজন শুনেছিল খ্রিস্টানদের কাছ থেকেই, খ্রিস্টানদের কাছ থেকে তাদের ধর্মের পার্থনার অংশ শোনার পর তার ভিতর স্পর্ষ কাতর অংশ গুলো যোগ করে করার মাধ্যমে সিনেট নিজেদের মতো করে চিত্রনাট্যের প্লট সাজিয়েছিলেন কন্সপারেন্সি রচনা করেন । তার পর রোমান জনগণদের তাতিয়ে দেবার ব্যাবস্থা করেন।

প্রাচীন রোম সমাজের নিন্ম শ্রেনীর লোক জন যারা অর্থ নৈতিক ভাবে গরীব ছিল, তাদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের না খাওয়ার খরচ জোগাতে না পেরে রোমানরা তাদের বাচ্চাদেরকে বন-জঙ্গলে অথবা অন্য কোন পরিত্যাক্ত জায়গায় ফেলে রেখে আসতো। খ্রিস্টানরা এই সব নাম পরিচয় হীন ফেলে দেওয়া বাচ্চাগুলোকে পরবর্তীতে তুলে নিয়ে এসে তাদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করে।

খ্রিস্ট্রান দেই এই কথা রোমানদের মাথায় এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা মিলতো না, তাদের ভাবনা ছিল কেন একজন মানুষ ফেলে চেলে আসা আরেকজনের বাচ্চাকে পেলেপুষে বড় করবে? আর তারা এত বাচ্চা দিয়ে করবেইটা কী?তার মানে খ্রিস্টানদের মনে অন্য কোন দুরভিসন্ধি আছে। ফলে তারা বাচ্চা খেয়ে ফেলা অথবা বাচ্চার রক্ত পান করে শয়তান কে তুষ্ট করবে এই জাতীয় মস্তিষ্কপ্রসূত ঘটনার বিবরণ তৈরি করে রোমের সাধারণ জনগণের মাঝে রটিয়ে দেয়।

বাচ্চাদের রক্ত পান বা খেয়ে ফেলার পরের গুজব টি ছিল খ্রিস্টানদের মাঝে ভাই বোনের মাঝে সেক্স বাধ্যতামুলক,খ্রিস্টান রা এহেন অজাচার জাতিয় পাপ করে বেড়ায় নিজেদের বিকৃত মানুষিক অবস্থা সাথে তাদের পুজনিয় শয়তান কে তুষ্ট করবার নিমিত্তে। এই কাজটি তারা করেছিল যখন তারা দেখে খ্রিস্টানরা একে অপরকে ‘ব্রাদার-সিস্টার’ বলে সম্বোধন করে। আবার খ্রিস্টানদের গোপন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাইরের কেউ না থাকায় সাধারণ জনগণের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় যে সেখানে বুঝি ভাই-বোনের অযাচারী হয়। আর এভাবেই তৈরি হয় অযাচারী সম্পর্কের মতো কন্সপিরেসি থিওরি।

গুপ্ত সংগঠন

গুপ্ত সংগঠন

অবিচ্ছেদ্য কন্সপিরেসি থিওরি এবং গুপ্ত সংগঠনঃ

খেয়াল করলে দেখা যাবে,কোনো না কোনো গুপ্ত সংগঠনের নাম শতকরা ৯৯ ভাগ কন্সপিরেসি থিওরির সাথে জড়িয়ে আছে । উদাহরন সরূপ বলা যায়, মধ্যযুগের নাইটস টেম্পলার আর জেসুইট কিংবা প্রাচীনকালের সলোমনের গুপ্তধন আগলে বসে রাখা ফ্রিম্যাসন, অথবা এই আধুনিক যুগের ৯/১১ এর পেছনে জঙ্গীবাদিরা নয়, বরং আমেরিকানদের জন মত যাতে মুসলিমদের বিপক্ষে যায় এবং ইসরাইলিরা মধ্যপ্রাচ্যে আরো বেশি দানবীয় ভূমিকায় আবর্তিত হতে পারে এই জন্য কোন ইহুদি গুপ্ত সংগঠন এই কাজ করে মুসলিম দের ফাসিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হয়।

কিছু কিছু কন্সপিরেসি থিওরিস্টরা দাবী করে থাকেন যে, পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সিলেক্টিভ একটি চক্রের হাতে রয়েছে, ইলুমিনাটি এবং রথসচাইল্ড পরিবারের লোক জন হল সেই চক্রের মূল হোতা বলে মানুষের মনে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সমতল পৃথিবী দাবি করা ‘ফ্ল্যাট আর্থার’রা যদিও আজ অব্ধি কোনো গোপন সংস্থার কর্ম কান্ডের সাথে হাত মেলান নি, তবুও কন্সপিরেসি থিওরি দাঁড় করানো অনুসারীরা সংস্থার সদস্য হিসাবে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন বলে দাবী করা হয়।

এই ধারাবাহিকতায় আমরা চেষ্টা করবো কন্সপিরেসি থিওরি আর এর পেছনে থাকা গুপ্তসংঘের আসল চেহারা খুঁজে বের করতে, গালগল্প আর গুজবে ভরা কন্সপিরেসিগুলোকে একপাশে সরিয়ে রেখে বিশ্লেষণ করবো গুপ্তসংঘগুলোর আসল উদ্দেশ্য এবং এর প্রকৃত ইতিহাস।
তবে তার আগে কন্সপিরেসি থিওরিকে মানুষ কেন বিশ্বাস করে, কেন এবং কিভাবে তৈরি করা হয় এসব ষরযন্ত্র তত্ত্ব? মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত এসব বানোয়াট তত্ত্ব থেকে কীভাবে আসল তথ্য বের করা যায় তা নিয়েই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

কন্সপিরেসি থিওরির বিশ্বে বসবাস:

কন্সপিরেসি থিওরির মাধ্যমে সমাজ তথা বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার ফলাফল নিজেদের নিয়ে আসার প্রবণতা বহুকাল থেকে প্রচলন থাকলেও এর গাঠনিক ব্যাখ্যা শুরুর ইতিহাস বলতে গেলে একেবারে নতুন। ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব হয়। মুলত তখন থেকেই মূলত এর উত্থান,তবে গত ৪০ বছরে কন্সপিরেসি থিওরির মাধ্যমে সমাজ তথা বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণ করার কার্য পদ্ধতির জনপ্রিয়তা আকাশসীমায় পৌঁছে গেছে। এর কারন হল গত ৪০ বছর ইলেকট্রনিক্স ও সোসাল মিডিয়ার অভুতপুর্ব উন্নতি সাধানের মাধ্যমে যোগাযোগ মাধ্যমের অসাধারণ উন্নতি। মুলত মানুষের তথ্য আদান প্রদান এখন খুব সহজ হয়ে গেছে ফলে রচিত হয়েছে কন্সপারেন্সী থিউরী চালাবার উর্বব ভূমী । খোদ বাংলাদেশেই মাঝে মাঝে সোসাল মিডিয়াগুলোতে মানুষ নতুন নতুন ইস্যু খুজে বের করে, এই নিয়ে জাতী যখন উত্তাল ঠিক সেই সময় ই অন্য কোন স্পর্শ কাতর বিষয় মানুষের অগাচরে সংগঠিত হয়ে যায়, বেকুব বাংলার জন গন টের ও পায়না কোথা থেকে কি হল?

কন্সপিরেসি থিওরির ধারকরা সমাজ আর বিশ্বের দৈনন্দিন ঘটনা-দুর্ঘটনাকে কখনই খালি চোখে সরল ভাবে দেখে না,এরা সব কিছুতেই কেবল নেগেটিভিটি খুজে বেড়ায়। কোন কিছুকেই এরা সাধারণ কিছু মনে না করে, বরং সর্বদা এর পেছনে আরো গোপন কিছু রয়েছে বলে সন্দেহ করে, কোনো হীন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই কাজ করা হয়েছে, এবং এই হীন উদ্দেশ্যটা কী এবং এর পেছনে কারা আছে তা খুঁজে বের করার আদম্য বাসনা জনগণের ভিতর প্রতিষ্ঠিত করে। এসব ঘটনাকেই কন্সপিরেসি থিওরি বলা যায়।

কন্সপিরেসি থিওরিতে বিশ্বাসীরা মনে করেন যে, পৃথিবীর সব ঘটনার পেছনেই কোনো না কোনো গোপন কারণ আছে। যেমন: বাংলাদেশে পেপসি বিক্রয়ের লাভের অংশের টাকা ট্রান্সকম বেভারেজ নয় পাচ্ছে ইসরায়েলের জায়োনিস্ট ইহুদিরা। কিংবা মাইক্রোসফট মানুষদের উপর গোপনে নজর দারী করে, তারা প্রতিটি কম্পিউটারের কোথাও কোনো মাইক্রোচিপ লাগিয়ে তা দিয়ে মাইক্রো সফট মানুষের উপর প্রতিনিয়ত নজর দারী করে যার সাহায্যে তার সব ধরনের সাইবার কার্যক্রম পৌঁছে যাচ্ছে গোয়েন্দাদের কাছে।

মাইকেল বারকান তার ‘এ কালচার অব কন্সপিরেসি’ বইয়ে কন্সপিরেসিস্টদের চিন্তাভাবনার ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে- কোনো দুর্ঘটনাই আসলে দুর্ঘটনা নয়: পৃথিবীতে যা ঘটছে তা সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত এবং তা বিশাল কোনো গোষ্ঠীর পরিকল্পনার অংশ মাত্র। খালি চোখে যা সচ্ছ দেখা যাচ্ছে তা আসলে সচ্ছ নয় : কেউনা না কেউ এটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে, দিনের বেলায় তাদের চেহারা এক, কিন্তু রাতের অন্ধকারেই তাদের অন্য চেহারা দেখা যাবে। সবকিছুই একে অপরের সাথে সমপূরক, দুনিয়ার ঘটে যাওয়া সকল ঘটনাই কোন না কোন হীন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে করা হয় সুতরাং কাকতালীয় ঘটনা বলে প্রকাশ করার কোন ভিত্তি নেই। একজন চোখকান খোলা রাখা ব্যক্তি কোনো ঘটনা দেখলে এর ধরন, প্যাটার্ন, কাজকর্ম দেখেই বুঝে ফেলতে পারবে যে এর সাথে কোনো গোপন কিছু জড়িত আছে।

কন্সপিরেসি থিওরি আদতে কি?

হাল আমলের ইন্টারনেট আর বিভিন্ন ট্যাবলয়েডে গুলোতে ঠাই পাওয়া কন্সপিরেসি থিওরিগুলোতে চোখ বোলাতে থাকুন দেখবেন তারা ঘুরেফিরে একই জিনিস বার বার প্রকাশ করছে । তাই আপেক্ষীক অর্থে কন্সপিরেসি থিওরিগুলোকে বলা যায় প্রাচীন উপকথার এক প্রকার উন্নত সংস্করণ, যেখানে অলিম্পাস আর ভ্যালহাল্লার মত প্রাচীন দেবতারা তাদের নিজ রূপ বদল করে বর্তমানে এলিয়েন এবং ওয়াশিংটন-বাকিংহাম প্রাসাদে বসে থাকা ইলুমিনাটি সদস্যতে রুপান্তরিত হয়েছে মাত্র ।

কন্সপিরেসি থিওরির প্রকারভেদ:

মাইকেল বারকান নামক বিখ্যাত কন্সপিরেসি থিওরি বিশেষজ্ঞ কন্সপিরেসি থিওরিগুলোকে সর্বমোট ৩ ভাগে ভাগ করেছেন।

ইভেন্ট কন্সপিরেসি: এই কন্সপিরেসি থিওরিগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রযোগ করা হয়। আফ্রো-আমেরিকানদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে আমিরিকান সরকার এইডস ভাইরাস তৈরি করেছে। কিংবা মালায়শিয়ান এয়ার ওয়েজ এর বিমান ‘টিডব্লিউএ ফ্লাইট ৮০০ কে এমেরিকান রা মিসাইল দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে কারন হিসেবে ওই বিমান টিতে কিছু চায়নার বিজ্ঞানী ছিল, তাদের কাছে কিছু জীবানু অস্ত্র বানাবার ফর্মুলা ছিল যা চিনের হাতে পরলে আমেরিকা চিনের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারতো না । ইভেন্ট কন্সপিরেসি এর উদাহরন হিসেবে এই সব ঘটনাকে উদাহরণ হিসাবে দেওয়া যেতে পারে ।

সিস্টেমিক কন্সপিরেসি: সিস্টেমিক কন্সপিরেসি থিওরিগুলোকে মাঝারি আকৃতির কন্সপিরেসি থিওরি বলা যায়। এই তত্ত্বগুলোতে প্রচার করা হয়, ষড়যন্ত্রকারীরা বড় কোনো লক্ষ্যের পেছনে ছুটছে। কোনো দেশ বা দেশের নির্দিস্ট কোনো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা,পৃথিবীর সব টাকা নিয়ন্ত্রণ করছে কিছু লোক। এমন মতবাদই প্রচার করা হয়। এসবের পিছনে কারা আছে এমন প্রশ্নের উত্তর হিসাবে কন্সপিরেসি থিওরির প্রবক্তা গন কোনো দল/গুপ্তসংঘের নাম উল্লেখ করেন। এরকমই বেশ কিছু কন্সপিরেসি থিওরির উদাহরণ হলো: ইহুদিরা ব্যাংক, সংবাদমাধ্যম অথবা হলিউড নিয়ন্ত্রণ করছে; ফ্রিম্যাসনরাই মূলত বিশ্বের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে চালায়। ইহুদি/ক্যাথলিকরা অন্যান্য ধর্মের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে গিয়ে এহেন কান্ড গুলো করে যাচ্ছে । 

সুপার কন্সপিরেসি: এ ধরনের কন্সপিরেসি থিওরিতে বিশ্বাসীরা মনে করেন, পৃথিবীতে ঘটা সবকিছুই একটি বিশাল পরিকল্পনার অংশ। উপরিউক্ত ইভেন্ট কন্সপিরেসি এবং সিস্টেমিক কন্সপিরেসি থিওরিগুলো এই বিশালকার সুপার কন্সপিরেসিগুলোর সামান্য অংশ মাত্র। যার সবকিছুই আগে থেকে পরিকল্পনা করে করা হয়েছে,এবং তা নিয়ন্ত্রণ করছে একজন কিংবা কয়েক জনের ছোট একটি দল। কন্সপিরেসি থিউরী কে সাহিত্যের ভাষায় ‘দ্য গ্র্যান্ড প্লান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ।

সোর্স –

Please Share This Post in Your Social Media

One response to “কন্সপিরেসি থিওরিঃ ষড়যন্ত্রবাদের ইতিহাস”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©2021 All rights reserved © kalakkhor.com
Customized By BlogTheme
error: Content is protected !!