Site icon কালাক্ষর

সফলতা কি? সফল মানুষ বলতে আমরা যে ভুল করে থাকি। উচ্চাকাঙ্ক্ষা কি সফলতা?

সফলতা

সফলতা আর সফল মানুষের ভিতরে কি পার্থ্যক্য বিদ্যামান

সফলতার মানে কি? একজন সফল মানুষ বলতে আমরা কি বুঝি? এই প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার কাছে জিজ্ঞেস করা হয় আপনার মনে কেমন টাইপের মানুষের অবয়ব ভেসে ওঠে? এক জন প্রথম শ্রেনীর জব হোল্ডার কিংবা এক জন নামি দামী ব্যাবসায়ী। যার গাড়ি বাড়ি ব্যাংক ব্যালেন্স এর আকার বেঢপের মত। যার ভবিষ্যৎ টাকা নিয়ে কারো কাছে হাত পাততে হবে না। কত কিছু বাট আমি যদি বলি আপনার এত দিনের জেনে আসা সফল মানুষের সংজ্ঞা টা ভুল। আর তা আপনাকে যদি কাগজ কলমে বুঝিয়ে দেই  তবে কি বিলিভ করবেন? যদি করেন তো ভাল না করলেও আমার আফসোস নেই কারণ আমার কাজ হল সত্যটি আপনার সামনে উপস্থাপন করা। আপনারা যদি মানেন তবে আমি সফল না মানলে আমি মাস্টার মশাই নই যে — 

সফল মানুষ কাদের বলে?

বেশির ভাগ মানুষ এক জন সফল ব্যাক্তির সফলতা বলতে আসলে যা বোঝে- তা হল, তাঁর বাস্তবিক জীবনে সামাজিক অবস্থান। যা দেখা যায়। গাড়ি বাড়ি ব্রাইট ফিউচার এগুলো সব বাহ্যিক উপকরণ। এই গুলো যাস্ট মানুষের কাছে নিজেকে বা নিজের অবস্থান কে বিত্যবান হিসেবে উপস্থাপন করে। হতে পারে সেই ব্যাক্তি তাঁর কর্ম ক্ষ্রেত্রে সফল। কিন্তু এক জন সফল মানুষের সংগায় এই সব বাহ্যিক জিনিসের কোন স্থান নেই। এক জন সফল মানুষের সফলতা শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণভাবেই ঘটতে পারে, বাহ্যিক ভাবে নয়। কেননা এর ভিতটা গাড়া থাকে মানুষের আবেগ-অনুভূতির মধ্যে। সবচাইতে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আপনার নিজের সাথে সম্পর্কটাই ‘সফলতা’। যদিও অধিকাংশ মানুষই মিথ্যের সাথে বসবাস করছে। এমন নয় বিষয় গুলো তারা জানে না, তারা জানে সব ই, এক জন নেশা খোর যেমন জানে তাঁর কতটা ক্ষতি হবে বা হচ্ছে এই নেশার পাল্লায় পড়ে, তাঁর পরেও সে ড্রাগ নেয়। ঠিক তেমনি সমাজের অধিকাংশ মানুষ ই জানে কিসে সে সুখী হবে? তাঁর আসল সুখ কোথায়? বাসায় নাকি কর্মক্ষত্র? সব কিছু জেনেশুনেই মানুষ নিজেকেই এড়িয়ে চলে এবং মনের খুব গভীর থেকে যা চায়, তা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখে। 

সফল মানুষের উদাহরণ

আপনি যদি এখনো না বোঝেন তবে উদাহরণ দেই। ধরুন আপনার অনেক টাকা আছে, গাড়ি আছে বাড়ি আছে। বিদেশী পাসপোর্ট আছে। আপনি দেশের সূনাম ধন্য সি আর পি। কিন্তু তাই বলে কি আপনি একজন সফল মানুষ? অবশ্যই নয়। কেননা আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে এত সফলতা অর্জন করেছেন শুধু মাত্র বাহ্যিক ভাবে সফল হবার আশায়- ব্যাক্তি আপনার এত কিছুর দরকার ছিল কি? আপনি হয়ত আপনার কর্ম ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছেন। কিন্তু এক জন মানুষ হিসেবে আপনি কি সফল? এক জন মানুষ কতটা সফল তা নিরপিত হয় তাঁর মনের স্যাটিসফিকশনের উপর। গবেশনায় দেখা গেছে কর্ম ক্ষ্রেত্রের স্যাটিসফিকশন শুধু মাত্র তাঁর কর্ম ক্ষেত্রের ভিতরেই প্রভাবক হতে পারে কিন্তু এক জন মানুষের সামগ্রিক  মনের শান্তি আনতে পারে না। যদি তাই পারতো তবে কর্ম ক্ষেত্রে দুনিয়ার সব চেয়ে সফল দুই জন মানুষ বিল গেটস আর জেফ বেজোস কে তাঁর বউ রা ডিভোর্স দিত না। তাই এক জন সফল মানুষের স্যাটিসফিকশন কখনই কর্ম ক্ষেত্রের স্যাটিসফিকশন এনে দিতে পারে না। এই সব কিছু আপনাকে দিতে পারে শুধু মাত্র আপনার চার পাশের  লোক জন। সোজা কথায় কথায় বললে বলতে হয় আপনার পরিবার। আপনি ফ্যামিলি কে সময় না দিয়ে দিনের পর দিন অফিসের কাজে বাইরে থাকলেন। আর আপনি বিল গেটস কিংবা জেফ বেজোস এর মত দুনিয়ার সেরা ধনী হলেন তাতে কি? আপনি কখনই সফল মানুষ হতে পারবেন না। তাঁর চেয়ে আপনি রিক্সা চালান, সারা দিন কাজ করে টাকা উপার্জন করে চাউল কিনে এনে বউ বাচ্চার সাথে খেয়ে যদি তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারেন, সেই খানেই ব্যাক্তি আপনার সফলতা বিদ্যামান। 

সফলতা কি? মডেল- জয়া আহসান। ছবি – ফেসবুক

আপনার ছেলেকে মাসের পর মাস মোটা অংকের টাকা দিলেন স্ক্রীকে সংসার খরচের জন্য মোটা অনেকের টাকা দিলেন। কিন্তু তাদের এক জন হাজবেন্ড এর যে দায়ীত্ব তা আপনার স্ত্রীর কে দিতে পারলেন না। ছেলেকে আপনি টাকা দিয়েছেন কিন্তু ছেলেকে পিতার স্নেহ দেন নি আপনার ছেলে ও বড় হয়ে যখন আপনার তাকে দরকার পরবে তখন আপনি তাকে কাছে পাবেন না। আপনার স্ক্রী হয়ত সব কিছু সয্য করে আপনার সাথে থেকে গেলেও থেকে যেতে পারে বাট তাঁর ভিতর আপনাকে নিয়ে যে শুন্যতার তৈরী হবে তা কিন্তু ঘোচার নয়। রেজাল্ট সারা জীবন চাকূরী নয়ত ব্যাবসা করে এক্টাসুন্দর বাড়ি বানালেন সেই বাড়িতে বৃদ্ধ বয়সে একা একা। এই বার বলুন আপনার ভাগ্যে যদি এমন হয় আপনি কি নিজেকে সফল মানুষ হিসেবে মনে করতে পারবেন?

মানুষ কেন সফলতার  পিছনে ছোটে?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে মানুষ সুন্দর একটা ফ্যামিলী বিলং করে সেই মানুষ যতটা নিজের ভিতর সুখ অনুভব করে হাজার কোটি টাকার মালিকের ভিতর সেই সুখ থাকে না। হাজার কোটি টাকা উপার্জন করার নেশা যাস্ট আপনাকে এডিকটেড দের মত করে দিতে পারে। তা হল আপনার মস্তিস্কের এড্রোনালিন,ডোপামিন এবং সেরেটোনিন, নামক এই তিনটি মাত্র নিউরোট্রান্সমিটার। ডোপামিনের কাজ মানুষের মস্তিস্কে কৃত্তিম সুখ ভাব তৈরী করা। ড্রাগ নেওয়ার ফলে দেখবেন আপনার ভিতর কৃত্তিম সুখ ভাব (আসল সুখ ভাব নয়) তৈরী করবে। যার নেশায় আপনি বার বার সেই নেশা জাতীয় জিনিস নিতে চাইবেন, আর এক সময় আপনি অভ্যাস্ত হয়ে পরবেন।  

কালাক্ষর ব্লগে আমার লেখা অন্য আর্টিকেল গুলো পড়তে পারেন 

ঠিক তেমনি আপনার দরকারের চেয়ে বেশি কিছু অর্জন করার প্রায়াস ও আপনার মস্তিস্কে এই ডোপামিনের ক্ষরন ঘটায়। আপনার দরকারী কাজ সারতে একটা গাড়ি আছে। সেইটা ঠিক ঠাক ই আছে কিন্তু আপনার বাজারে আসা নতুন ব্র্যান্ডের গাড়ি দরকার। আপনার যে টাকা আছে বাসায় বউ বাচ্চা তাদের নিয়ে ডাল ভাত খেয়ে শান্তিতে ঘুমানোর কথা কিন্তু আপনি তা না করে ঐ ডোপামিনের পাল্লায় পড়ে কাজ কাজ আর কাজ করে কারী কারী অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে কি করলেন? আপনাকে যারা ভাল রাখতে পারতো তাদের থেকে দূরে সরে গেলেন। একটার পর একটা বাড়ি বানালেন। ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা গোচ্ছিত করতে থাকলেন আর আপনার মাথায় ডোপামিনের ক্ষরন ঘটিয়ে নিজেকে সুখি সুখি ভাবলেন কিন্তু আপনার বউ ঐ দিক আপনাকে কাছে না পেয়ে কেদে বালিশ ভিজালো। বাকি টা আর বললাম না।

বেশি সম্পদের মালিক বনে যাওয়াই কি সফলতা ?

আপনার ধারণা আপনি বেশি বেশি টাকার মালিক হলেই আপনি সুখি হবেন। মানুষ আপনাকে সফল ব্যাক্তি হিসাবে আপনার নাম উদাহরণ হিসেবে টানবে। এইটা টোটালী একটা ভুল ধারণা। বরং গবেষণায় দেখা যায় যে খানে সমস্যা বেশি সেই খানের সম্পর্ক গুলোর বন্ডিং আরো ভাল হয়। কারণ কোন পরিবারে কোন সমস্যা আসলে সেই সমস্যা কে পরিবারের সবাই মিলে এক সাথে ফেজ করে। সবাই মিলে তাঁর মোকাবেলা করতে চায়। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একে অপরের প্রতি মমত্ববোধ বেশি তৈরি হয়। আপনি যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবন এলাকায় যান, সেখানে দেখবেন একটি পরিবারের ভাই ভাইয়ের ভিতর কত মিল। পরিবারের এক জন সদস্যর সাথে আর এক সদস্যর সাথে কত ভাল সম্পর্ক বিদ্যামান।

আপনি পাচ তারকা হোটেলে গিয়ে দামী খাবার খেয়ে সেলফি তুলে দিলেন যা খেলেন, সেই খাবার কতক্ষন আপনার পেটে থাকবে? বাথরুমে গেলেই সব শেষ কিন্তু আপনি যদি আপনার স্ত্রীর সাথে বাচ্চার সাথে এক সাথে বসে বাসায় খাবার খান। তাদের ভাল মন্দ খোজ খবর নিয়ে তাদের সাথে সময় কাটান তবে শুধু আপনার পেট নয় আপনার মন ও ভড়বে আর এইটা ন্যাচারাল। হরমোনাল লোচা মানে ডোপামিন নয়?

Zahara Mitu, ছবি- ফেসবুক

আপনার হয়ত মনে আসতে পারে ভবিষ্যৎ গোছাইয়া রাখি। টাকা গোছাই। ব্যাংকে টাকা জমাই, জমি কিনি। আপনার বিপদে কাজে আসবে। আচ্ছা আপনি কি আপনার পরিচিত কোন ধনী লোকের ব্যাপারে খেয়াল করেছেন ঐ ব্যাক্তির মড়ার সময় এত অর্থের কোন দরকার হয় নাই। তাঁর যে সম্পদ তা সেই ভাবেই রয়ে গেছে কিন্তু আপনার সেই তথাকথিত সফল ব্যাক্তি টুস করে তিন দিন রোগে ভুগে অথবা মাস তিনেক রোগে ভুগে পগার পার দিয়েছেন। তাঁর মানে কি দাড়ালো যে অর্থ ঐ লোক ভবিষ্যতের বিপদের সংগী হবে বলে কামাবার জন্য জীবনের সব চেয়ে সুন্দর মুহুর্থ গুলো জলাঞ্জলী দিইয়েছিল, তা তাঁর কোন কাজেই আসলো না। মাঝ খান থেকে মড়ার সময় শরীরের শেষ গরম নিশ্বাস বের হবার আগে তাঁকে মনে মনে আক্ষেপ নিয়ে মরতে হল। আমি বলছি না জীবনে টাকার দরকার নেই। জীবনে ফাইভ স্টার হোটেলে আপনার খাবার দরকার নেই অবশ্যই আছে। কিন্তু সেই টা কতটা? যতটা আপনার জীবনে সত্যিই প্রয়োজন। আপনার জীবনে অর্থ কে অনার্থকতার দিকে ঠেলে দ্যায় না ততটা। 

উচ্চাকাঙ্ক্ষা মানেই কি সফলতা?

অনেকেই নিজের জন্য অনেককিছু চায়। তাদের অনেক স্বপ্ন এবং লক্ষ্য থাকে। যদিও খুব কম মানুষই যা চায়, তা পেয়ে থাকে। শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়াই যথেষ্ট নয়, এর চাইতেও বেশি প্রয়োজন সংকল্পবদ্ধ হবার। নিজের স্বপ্নের প্রতি দায়বোধ থেকেই সফলতার সম্ভাবনা আসে। যখন আপনি কোনোকিছুর প্রতি দায়বোধ অনুভব করবেন, তখন তাতে সফলতা অর্জনের জন্য যা হওয়া এবং করা উচিত, আপনার চেষ্টার মধ্য দিয়ে তা অর্জিত হবে। তখন আপনি শুধু চিন্তা-ভাবনা এবং আকাশকুসুম স্বপ্ন বোনা ছেড়ে দিয়ে সত্যিকার একটি রূপ দিতে সচেষ্ট হবেন। লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়া নয়, বরং শিক্ষা গ্রহণ শুরু হবে। আপনি নিজেকে যুক্ত করবেন, আপনি বারবার ব্যর্থ হবেন। আর ব্যর্থতা সফলতার ভিত্তি, কে না জানে?

আপনি যা সত্যি সত্যি চান, এক এক করে তা অর্জন করে নিন, নয়তো আপনার উচ্চাকাঙ্খার তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতেই থাকবে! নিজের মধ্য থেকে কিছু দক্ষতা বের করে আনুন যাতে আপনার ভেতরকার লক্ষ্য, নীতি এবং মূল্যবোধকেই প্রতিফলিত করে।

আপনি যদি ভালবেসে বিবাহবন্ধনে স্বেচ্ছায় দায়বদ্ধ হন, তবে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আপনি যাবেন। আপনি তা-ই করবেন যাতে এটি একটি সফল বন্ধনে রূপ নেয় ও টিকে থাকে। শিল্পীর মন যদি শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করে, তবে এর স্বার্থে নিজেকে ঝালিয়ে নেয়া এবং সফলভাবে সৃষ্টি করতে যা যা লাগে, তা-ই করবেন তিনি। নিজের আকাঙ্ক্ষার সীমা নিজেই অতিক্রম করতে হয়। এই দায়বোধ আপনার কাছে কোনো মানসিক সীমাবদ্ধতা মনে হবে না, এবং তা নয়ও। সব সীমারেখা বদলে যাবে শুধু এই জোরালো আকাঙ্ক্ষাগুলো পূরণের জন্য। সব সীমানা দূরে সরে যাবে যাতে তারা আপনাকে রুখতে না পারে!

মডেল- সানুরাহ বিনতে কামাল। ছবি- ফেসবুক

আপনার মেয়ে বা বোন কে তাঁর ভবিষ্যৎ ভাল হবে এই জন্য বিশাল ধনী মানুষের সাথে বিয়ে দিলেই আপনি যদি ভেবে থাকেন আপনার বোন কিংবা মেয়ে সুখি হবে তবে ভুল। আপনি আপনার মেয়ে বা বোন কে পড়ালেখা করান, তাঁর পর তাঁর ভাল থাকার দায়িত্ব আপনি তাঁর হাতেই ছেড়ে দিন। দেখবেন সে ঠিকই সব কিছু ঠিক ঠাক করে ফেলবে। কিন্তু আপনি যদি তাঁর মাথায় আগেই ধনী লোকের বাচ্চা উৎপাদক হিসেবে পরজীবীর সফট ওয়ার তাঁর মাথায় ঢুকিয়ে দেন। সে কেবল ধনী লোক খুজতে থাকবে কিন্তু মানুষ খুজবে না। তাঁর হাজবেন্ড এর দাস হবার প্রবৃতি তাকে এমন ভাবে বিল্ড আপ করবে তখন পড়া লেখা করালেও। ভাল রেজাল্ট করলেও তাঁর সেই এত কষ্টের পড়ালেখার ও এক মাত্র উদ্দেশ্য থাকবে ধনী লোক খোজা। ব্যাস তাকে দিয়ে আর কিছুই পসেবল নয়।

আমাদের নিত্য নতুন যে চাহিদা তৈরী হয়। তা কিন্তু আমাদের খুব একটা কাজে জন্য হয় না। মাসে দশ সেট ড্রেসের কি দরকার? মানুষের কাছে নিজের অবস্থান ভাল করার জন্য ? মানুষ বলবে আপনি কত খরুচে, আপনি কত সুন্দর রুচির মালিক। ধুম ধাম করে মানুষ কে দেখিয়ে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন। তা আপনি দিতেই পারেন – কিন্তু আমি নিশ্চিত জানি। যে টাকা খরচ করে মেয়ের বিয়ে দিলেন সেই টাকা টা যদি কোন বেকারের হাতে তুলে দিয়ে তাঁর কর্ম সংস্থানের ব্যাবস্থা করে দেন সেই ছেলে আপনার মেয়েকে যতটা ভাল রাখবে। আপনার কোটি টাকার মালিক সেই ছেলে কোন দিন ই রাখবে না। কারণ তারা জানে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তাদের ছেলে দেখে নয় ছেলের বাবার কিংবা ছেলে টাকা দেখে। তাঁর মানে আপনার অজান্তেই আপনি আপনার মেয়েকে সওদা বাজারে তুলে দিলেন।

আমি আমার জীবনে যত মেয়েকে ধনী ছেলের সাথে বিয়ে হতে দেখেছি তাদের বেশির ভাগ কেই ডিভোর্স কিংবা কাদতে দেখেছি। অথচ অনেক হ্যাপী ফ্যামিলী দেখেছি যাদের হাজবেন্ড ওয়াইফ ছোট ছোট জব করে খুব ছোট ফ্ল্যাটে থাকে কিন্তু তাদের ভিতর যে মমত্ব বোধ বিরাজ করে। তা অন্য কারো ভিতর হতে দেখি নাই।

সৃজন শীল বাংলা ব্লগ কালাক্ষর এ আমার লেখা পুরাতন লেখা গুলো পড়ার জন্য অনুরোধ রইল 

যারা নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে শুধু একটি ‘ইচ্ছা’ বানিয়ে না রেখে তার প্রতি যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাবে এবং যথেষ্ট দায়বোধ রাখবে, তারাই চূড়ান্তভাবে তা অর্জন করতে পারবে। জীবনের অন্যান্য দিক, সুখ, স্বস্তিও হয়তো ত্যাগ করতে হয় এই তাগিদগুলো পূরণের জন্য। কিন্তু তারপরও ‘সফলতা’ এমনই একটি প্রাপ্তি, যার জন্য হাসিমুখে ছেড়ে দিতে হয় অনেককিছুই।

আজকে খুব করে আপনি যা চাইছেন, তা পাবার জন্য কিন্তু আপনাকে আজকের অনেককিছুই বদলাতে হতে পারে। আর যদি সেই বদলানোর ভারটুকু আপনি নিয়ে না পারেন, তবে হয়তো বর্তমানে যা কিছু আছে বা যেমনটি আছে তা থেকে পরিবর্তন কিংবা উত্থানের আশা করাটা অসঙ্গত। পরিবর্তনে যদি বিশ্বাস না রাখেন, তবে হয়তো আকাঙ্ক্ষা থেকে সফলতার পথে যাত্রাটাও রয়ে যাবে স্থির পথের বিন্দুতে। দেখবে না আর নতুন কোনো গন্তব্য। জীবন যা দিয়েছে, তার চাইতেও বেশি কিছু যদি কেউ পেতে চায়, তবে তাকে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবার মতো কিছু নিজের তাগিদেই করতে হবে। গন্তব্যে পৌঁছুনোর জন্য পথ বেছে নেয়া এবং সেই পথে চলার সিদ্ধান্তও জীবনের হাতে ছেড়ে দিলে চলবে না।

পরিবর্তনের ভ্রান্ত ধারণাটি কতদিন টিকে থাকে?

কোটি কোটি অর্থের জন্য আপনি কোটিপতি হবেন না, একজন কোটিপতি হতে আপনাকে যে চেষ্টাটুকু করতে হয়, শুধু মাত্র তা অর্জনের জন্য হবেন” – জিম রন

মনে রাখবেন, জীবন আপনার প্রতিচ্ছবি। যদি জীবনটাকে পরিবর্তনই করতে হয়, তবে নিজেকে পরিবর্তন করাটা অনিবার্য। কোনো পরিবর্তন আনতে হলে, সিঁড়ির শুরু ধাপের সেই পরিবর্তনটি নিজেকেই হতে হয়। পরিবর্তন আনুন, তার আগে সে অনুযায়ী পরিবর্তিত হন। কোটিপতি হতে গেলে নিজেকে তা হবার যোগ্য ও সমর্থ করে তুলতে হবে। আপনার ভেতরের কোন দক্ষতা সেই পথে ইন্ধন যোগাতে পারে, তা খুঁজে বের করতে হবে, তাকে শাণিয়ে তুলতে হবে আসন্ন যুদ্ধের জন্য, সাফল্য যাত্রার উদ্দেশ্যে। কারো সাথে সুস্থ সম্পর্ক চাইলে, সেই সম্পর্কে আপনার যে ভূমিকা তা পালন করতে নিজের সবটুকু চেষ্টা দিন। অপরের কাছ থেকে সম্পর্কে বিশ্বস্ততা, সুস্থতা আশা করলে আপনাকে তা প্রথমেই নিজের মধ্যে আনতে হবে।

একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব শুধু তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে না। তার চারপাশের মানুষজন, প্রকৃতি ও পরিবেশ সবকিছুই ভূমিকা রাখে ‘ব্যক্তিত্ব’ গড়ে তোলার যাত্রায়।

নিজের স্বাতন্ত্র্যের উপর অতি-বিশ্বাস অনেক স্বাভাবিক একটি বিষয়। স্বাতন্ত্র্য বলতে নিজেকে শুধু নিজের মাধ্যমেই গড়া এবং তাতে আশেপাশের কোনোকিছুর বিন্দুমাত্র আঁচ না লাগাকে যদি বোঝানো হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবেই একটি ভ্রান্ত ধারণা। স্বাতন্ত্র্য তার শুদ্ধতম রূপে এসেও অপরিবর্তিত থাকে না।

“মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়, সকালে-বকালে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়”।

কেন? কারণ তার চারপাশ বদলায়। মানুষের ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলবার প্রতিটি বাহ্যিক নিয়ামক বদলায় এবং তার ছাপ এসে পড়ে মানুষের মধ্যে। তাই স্বাতন্ত্র্যের সংজ্ঞাও পাল্টায়। কেউ কোনোভাবেই চিরন্তন রূপে থাকে না, আসলে ‘চিরন্তন রূপ’ ব্যাপারটি একটি মিথ, তা কারুর ভেতরেরই হোক অথবা বাইরেরই হোক!

ফারিয়া। ছবি – ফেসবুক

সত্য এই যে আপনি প্রতিদিন বদলাচ্ছেন। আপনার মস্তিষ্ক এবং শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ-কোষ সব বদলাচ্ছে। আর পৃথিবীর প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি? তা-ও নিত্যনতুন তথ্যে বোঝাই হচ্ছে, কিছু বাদ যাচ্ছে তো কিছু তৈরি হচ্ছে। অবিরতভাবে তথ্যের আদান-প্রদান ঘটছে আপনার মনে।

যখন কোনো সমগ্র বস্তুর যেকোনো একটি অংশ পরিবর্তন করা হয়, তার প্রভাব পুরো বস্তুতেই লক্ষণীয়। অর্থাৎ একটি ছোট পরিবর্তনের ফলে সমগ্র বস্তুই পরিবর্তিত হয়। বাটারফ্লাই ইফেক্ট বলে, পৃথিবীতে একটি প্রজাপতির ডানা ঝাপটানোর ফলে হয়ে যেতে পারে সুদূরে থাকা তীরে কোনো ঘূর্ণিঝড়! ঠিক তেমনি এটিও ঘটে। নতুন লোকজনের সাথে দেখা হওয়া, নতুন জায়গায় বেড়াতে যাওয়া, নতুন কিছু শেখা- এসব কিছু আপনাকে করে দেয় নতুন একটি মানুষ! কিন্তু বাস্তবজীবনে এগুলো এতোই ধীরে ধীরে ঘটে যে তা হঠাৎ করে আপনি বুঝতে পারেন না। হয়তো যার সাথে আপনার অনেকদিন দেখা হয়নি অথচ সে আপনাকে একটা সময় খুব ভালো করে চিনতো-জানতো, তার কাছে সহজেই ধরা পড়বে পরিবর্তনগুলো।

তারপরও মস্তিষ্ক নতুন তথ্য গ্রহণের মাধ্যমে হয়ে ওঠে অনেকটাই সমৃদ্ধ এবং ‘নতুন’। আজ এই মুহূর্তে যে মস্তিষ্ক আপনি ধারণ করে আছেন, ঠিক এক বছর পর তা আর এমন থাকবে না। এবং এর পরিবর্তনগুলো আরো বেশি স্পষ্ট হবে, যদি আপনি সচেতনভাবে একে সমৃদ্ধ করতে চান।

এবং এভাবেই, যখন পুরোপুরিভাবে কোনোকিছু অর্জনের জন্য আপনি প্রচন্ডভাবে সংকল্পবদ্ধ থাকবেন, তখন অপরিবর্তনের সকল মিথ ঝেড়ে ফেলে দেবেন এবং গতিময় জীবনে আপনার অংশে সাফল্য ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। একবার সংকল্প করলে আপনি আর অপরিবর্তন কিংবা শুদ্ধতার নামে মধ্যবর্তী কোনো প্রাপ্তিকে সফলতা ভেবে নেবেন না। আপনার বিশ্বাস এবং আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নিজের সাথে মিথ্যা বলা বন্ধ করুন। এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করুন যা আপনার ইচ্ছেকে পাখা মেলতে দেবে। কারণ আপনি জানেন যে পরিবেশ আপনাতে প্রভাব ফেলে। লক্ষ্য পূরণের স্বার্থে এবার আপনি নিজেই বেছে নেবেন কোনটি আপনার উপর প্রভাব ফেলবে এবং কোনটি দূরে থাকবে। ভেতর এবং বাইরে থেকে আপনার গঠনে যা প্রভাব ফেলে, তা আপনিই বেছে নিন। 

শেষের কথা

সফল হবার প্রয়াসে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়া এমন কিছু না, সবাই-ই জীবন থেকে বেশি কিছু চেয়ে থাকে। যত টুকু তাঁর দরকার তাঁর চেয়েও বেশি সাফল্য পেতে মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণের পিছনে লেগে থাকেন। কেউ কেউ হয়ত সেই লক্ষ্যে পৌছায়। আবার কেউ ব্যার্থ হয়। তবে সফল কিংবা ব্যার্থ সবাই অপ্রয়জনিয় লক্ষের পিছনে ছুটতে ছুটতে জীবনের মানেই ভুলে যায়। তাই আমার আজকের লেখার উদ্দেশ্য হল সংকল্প গুলোর প্রয়জনিয়তা নিরুপন করে সংকল্পবদ্ধ হন, মনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুন, আকাঙ্ক্ষাগুলো তা অর্জন করে নিন। শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষাই সফলতা বয়ে আনে না, সাথে চাই সংকল্পও!

Exit mobile version