Site icon কালাক্ষর

কাউকে বিশ্বাস করা- কতটা উপকারী? কতটা ক্ষতিকর ?

কালাক্ষর ডেক্সঃ স্ক্যান্ডোভেনীয়ান দেশ সুইডেন এর হিমশিতলতা সমন্ধে আমরা কম বেশি সবাই জানি। সেই সুইডেনের ই একটা শহর মালমো। হাস্যকর হলেও সত্যি যে, কেউ কেউ মালমোকে ভুুুুতের  শহর বলেও ডেকে থাকেন, এর কারন মালমোতে প্রচুর বিল্ডিং আছে কিন্তু লোক জনের সংখ্যা এতটাই কম যে আপনার মনে ভাবাবেগ আসতেই পারে এত এত বিল্ডিং অথচ লোক সংখ্যা এত কম? তার মানে এই খানে প্রচুর পরিমানে ভুত থাকে।

কিন্তু আসল কারন যদি জানেন তবে জেনে থাকবেন মালমো কে এক সময় সুইডেনের শিল্প শহর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছিল- প্রচুর শিল্প কারখানা স্থাপণ করা হচ্ছিল আর সেই সাথে বাইরে থেকে কাজের জন্য প্রচুর শ্রমিক আসা শুরু করেছিল, আর তাদের থাকার জন্য তৈরী হচ্ছিল প্রচুর ঘর, কিন্তু এক সময় সুইডিশ সরকার যখন দেখলো যে এই শিল্প কারখানা তাদের অর্থনিতির চাকা ঘোরালেও তাদের পরিবেশের মারাত্বক বিপর্যয় ডেকে আনছে তখন তারা তাদের শিল্প কারখানা গুলো অন্য দেশে স্থানান্তরের ব্যাবস্থা ন্যায়। মানে অন্য দেশে কলকারখানা স্থাপন করে ওই দেশের শ্রমশক্তি কাজে লাগিয়ে, সেই দেশের পরিবেশ এর বারোটা বাজিয়ে যাস্ট লাভ টা নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যাবস্থা করা, এতে সাপ ও মারা হয় মানে দেশের অর্থনিতি ঠিক থাকে আবার নিজ দেশের পরিবেশ ও ঠিক থাকে, যাই হউক যখন কল কারখানা নেই তখন কলকারখানার সাথে সম্পর্কিত লোক জন ও আর থাকবেনা এটাই স্বাভাবিক- ব্যাস শ্রমিক গেল, ফরিয়া ব্যাবসায়ী রা যারা বাইরের দেশে থেকে এসে জুটে বসেছিল তারাও গেল, কিন্তু তাদের জন্য বানানো ঘরবাড়ি গুলো কেবল থেকে গেল। আর তাতেই মালমো শহরের কপালে জুটে গেল ভুতের শহরের তকমা।

যাক হোক আজ যে গল্পটা দিয়ে আমার লেখা শুরু সেই গল্প টা তখন কারন যখন মালমো ছিল শিল্প শহর, ওই সময় বিশ্বের অনেক দেশ বিশেষ করে থার্ড ওয়াল্ড এর দেশ গুলো থেকে নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে মালমোতে আসতে থাকে। তাদের ভিতর যারা ভাগ্যবান ছিল তারা কাজ পেত আবার অনেকেই ভাগ্য বিরম্বিত ও ছিল তারা কাজ কর্মহীন ভাবে খুব মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হত- তেমনী এক ভাগ্য বিরম্বিত মানুষ এর গল্প আজ বলবো-

গল্পটি আপনি অনেকের কাছে অনেক ভাবেই শুনতে পারেন, এক এক বর্ণ্না কারী হয়ত তাদের বর্ণ্নায় তাদের মন মত স্থান কাল পাত্রের নাম ব্যাবহার করেছেন- সেই ধারাবাহিকতায় আমি আমার পছন্দ মত স্থান কাল ব্যাবহার করতে যাচ্ছি – যাই হোক এইবার মূল প্রসঙ্গে আসি-

মালমো শহরে ব্রুক নামে এক লোক ছিলেন- এক জন সফল ব্যাক্তি হিসাবে এক জন মানুষ কে সংজ্ঞায়িত করতে যে যে যোগ্যতার দরকার পড়ে ব্রুকের সব ই ছিল – মানুষ কে বিধাতা সব গুন দিয়ে পাঠায় না, তাই হয়ত ব্রুকের ভিতর সব যোগ্যতা দিলেও একটা গুন কম দিয়েছিলেন, আর তা হল তার কোন কিছু ভুলে যাওয়ার স্বভাব। আর এই বদ অভ্যাসের কারনে মাঝে মাঝেই ব্রুক কে তার কর্মক্ষেত্র তে তো বটেই এমন কি বাসায় স্ত্রী কন্যার কাছেও বিব্রতকর পরিস্থিতি তে পরতে হয়, যাই হউক সেই ব্রুক এক দিন কাজ শেষে বাসায় ফিরতে বেশ রাত করে ফেলে, অবশ্য সে ইচ্ছে করে বা খুব কাজ ছিল এই জন্য বাসায় দেরী করে ফেরেনী- বরং সে আজ অনেক আগেই অফিস থেকে বাসার পথে রওনা দিয়েছিল- কিন্তু গত কয়েক দিন সুইডেনে খুব শিত জাকিয়ে বসেছে- ঠান্ডা বাতাস সাথে স্নো এত বেশি পরিমান পড়ে যে পরিস্কারের কিছুক্ষনের ভিতরে রাস্তায় গাড়ি চালানোর উপায় থাকে না- এই জন্য তার আজকের দেরী,যাই হউক বাসায় ফেরার সময় তার বাসার ঠিক সামনে ব্রুক এক জন সোমালিয়ান মানুষকে দেখতে পেলেন। এমনিতেই সোমালিয়ান দের ব্রুক দেখতে পারে না, তার উপর সব সময় গা বাচিয়ে চলার স্বভাব এর জন্য ব্রুক হয়ত অন্য সময় হলে লোকটিকে দেখেও কোন ভ্রুক্ষেপ করতো না-বা দেখেও না দেখার ভান করতো কিন্তু এই ঠান্ডার রাত্রে বাইরে বসে থাকা লোকটিকে দেখে মায়া হল তাই সে ঘরের ভিতর না গিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলেন, গিয়ে যখন দেখলো লোকটির গায়ে শিতের পোষাক ও নেই এবং ঠাণ্ডায় লোক টি ঠক ঠক করে কাঁপছে তখন ব্রুক লোকটি প্রশ্ন করলেন –

মডেল – তানজিন তিশা – ছবি – কালাক্ষর ডেক্স

বরং সে আজ অনেক আগেই অফিস থেকে বাসার পথে রওনা দিয়েছিল- কিন্তু গত কয়েক দিন সুইডেনে খুব শিত জাকিয়ে বসেছে- ঠান্ডা বাতাস সাথে স্নো এত বেশি পরিমান পড়ে যে পরিস্কারের কিছুক্ষনের ভিতরে রাস্তায় গাড়ি চালানোর উপায় থাকে না- এই জন্য তার আজকের দেরী,যাই হউক বাসায় ফেরার সময় তার বাসার ঠিক সামনে ব্রুক এক জন সোমালিয়ান মানুষকে দেখতে পেলেন। এমনিতেই সোমালিয়ান দের ব্রুক দেখতে পারে না, তার উপর সব সময় গা বাচিয়ে চলার স্বভাব এর জন্য ব্রুক হয়ত অন্য সময় হলে লোকটিকে দেখেও কোন ভ্রুক্ষেপ করতো না-বা দেখেও না দেখার ভান করতো কিন্তু এই ঠান্ডার রাত্রে বাইরে বসে থাকা লোকটিকে দেখে মায়া হল তাই সে ঘরের ভিতর না গিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলেন, গিয়ে যখন দেখলো লোকটির গায়ে শিতের পোষাক ও নেই এবং ঠাণ্ডায় লোক টি ঠক ঠক করে কাঁপছে তখন ব্রুক লোকটি প্রশ্ন করলেন –

এত ঠান্ডা পড়েছে অথচ আপনি এই বাসায় না গিয়ে এই খানে রাস্তার পাশে বসে আছেন, তাও আবার আপনার গায়ে কোন উষ্ণ কাপড় নেই, আপনার কি ঠান্ডা লাগে না? ”সোমালিয়ান লোকটি উত্তর দিল- আমার থাকবার কোন ঘর নেই, তাই বাধ্য হয়ে আমি রাস্তাকেই ঘর হিসেবে ধরে নিয়েছি, আমার কাছে উষ্ণ কাপড় নেই তাই বাধ্য হয়ে আমি ঠান্ডাকে আমার শরীরের সাথে মানিয়ে নিয়েছি। এই কথা শুনে ব্রুক কিছুটা হতবাক সাথে কিছুটা মর্মাহত হল – হাজার হলেও তো মানুষ তাই তার ভিতর কিছুটা দয়ার উদ্রেক হল, এই জন্য সে লোকটিকে বললো যে,

সরি আমার বাসায় মোটে দুইটা রুম আর তার একটিতে আমি আর আমার বউ থাকি আর একটি রুমে আমার ছেলে, তাই তোমায় আমার বাসায় থাকতে দিতে পারবো না- কিন্তু আমি তোমায় কিছু গরম কাপড় দিয়ে সাহায্য করবো- তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করো। আমি এক্ষুনি ঘরে গিয়ে তোমার জন্য জন্য একটি উষ্ণ কাপড় নিয়ে আসছি।” কথা শুনে দরিদ্র সোমালিয়ান লোকটি খুব খুশি হয়ে বললো যে, সে তার জন্য অপেক্ষা করবে-

এর পর ব্রুক তার বাসার ভিতরে চলে গেল – এবং তার ভুলে যাওয়া স্বভাবের দরুন এই গরিব লোকটির কথা ভুলে গেল – কিন্তু পরের দিন সকালে ঘুম ভাংগার পর যখন সেই লোকটির কথা মনে হল, তখন নিজে নিজে কিছুটা লজ্জিত হল এই কারনে যে লোকটিকে কথা দিয়েও সে রাখেনি এই কারনে, তখন সে বিছানা ছেড়ে সোজা রাস্তার পাশে যেখানে লোকটিকে বসে থাকা অবস্থায় দেখেছিল ওই খানে গেল, গিয়ে দেখলো- লোকটি প্রচন্ড শিতে মড়ে পড়ে আছে, এবং তার হাতে একটা কাগজ ধরা, যা সে মারা গেলেও ধরে রেখেছে, ব্রুক ভেবেছিল হয়ত কাগজটিতে মৃত লোক টির নাম ঠিকানা কিংবা কোন আত্মীয় সজনের নাম লেখা আছে, তাই সে কাগজ টি নিয়ে কি লেখা আছে তাই পড়তে গেল, পড়তে গিয়ে সে অবাক হয়ে গেল এই জন্য যে মৃত লোক টি মরার আগে তাকে উদ্দেশ্য করে এই চিঠিটি লিখে গেছে- জনাব ব্রুক এন্থনী, (ব্রুকের পুরো নাম) আপনি হয়ত আমায় চিনবেন না, কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে আমি আপনার বাসার সামনে রাত কাটাই এই জন্য আমি আপনাকে অনেক বার ই দেখেছি,আর যে হুতু আপনার বাসার নেম প্লেটে ব্রুক লেখা তো ধরেই নিচ্ছি আপনার নাম ব্রুক এন্থনী হতে পারে,

জনাব ব্রুক এন্থনী, (ব্রুকের পুরো নাম) আপনি হয়ত আমায় চিনবেন না, কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে আমি আপনার বাসার সামনে রাত কাটাই এই জন্য আমি আপনাকে অনেক বার ই দেখেছি,আর যে হুতু আপনার বাসার নেম প্লেটে ব্রুক লেখা তো ধরেই নিচ্ছি আপনার নাম ব্রুক এন্থনী হতে পারে,

জনাব- পুর্বের মত গত কাল রাত্রে ও আমার যখন কোন উষ্ণ কাপড় ছিল না, তখন ঠান্ডার সাথে লড়াই করার ক্ষমতা আমার ছিল কারণ আমি আমার শরীরকে শীতের সাথে মানিয়ে নিয়েছিলাম, এই জন্য ঠক ঠক করে কাঁপলেও আমার বিশেষ ক্ষতি হত না, কিন্তু যখন আপনি আমাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তখন আমি আপনার প্রতিশ্রুতির উপর এতটাই বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম যে তাতে আমি আসক্ত হয়ে গিয়েছিলাম এবং এর দরুন আমি আমার তীব্র ঠাণ্ডা প্রতিরোধ করে বেচে থাকার যে ক্ষমতা ছিল তা হারিয়ে ফেলেছে” ক্ষমা করবেন মরার আগে আপনাকে একটা অনুরোধ করে যেতে চাই, দয়া করে ভুল করে হলেও কাউকে এমন কোন আশ্বাস দিবেন না, যা রাখতে পারবেন না, আপনার কাছে হয়ত তা নিছক কথা কথা হতে পারে কিন্তু কারো কারো জন্য তা আমার মত ফল ডেকে আনতে পারে- ধন্যবাদ –

আমার লেখা ব্লগ গুলো পরতে লিংক গুলোতে ক্লিক করুন –

আপনাদের মনে হয়ত ভাবনা আসতে পাড়ে আমি হয়ত আপনাদের উপদেশ দিয়ে “কাউকে প্রতিশ্রুতি দেয়ার আগে একবার ভাবুন এবং অহেতুক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি থেকে বিরত থাকুন” এই জাতীয় উপদেশ দিতে এতক্ষন বকবক করলাম- হয়তবা হ্যা – তবে আমি এই সবের কিছুই বলতে আজ এই লেখাটি সাথে আরো কিছু বিষয়ের অবতারণা করতে চাচ্ছি,

আমি বলতে এসেছি মানুষের মন কতটা মানুষের দেহ কে ডমিনেট করে এটা বোঝাতে, গল্পে প্রচন্ড শীতে সোমালিয়ান লোক টি বেচে থাকার জন্য তার দেহ কে অভিযোজিত করেছিল, আর এই ভাবে সে কষ্ট হলেও বেচে ছিল, কিন্তু যাস্ট একটা আশার বানী শুনে তার মন বিশ্বাস করতে শুরু করে কিছুক্ষন পর সে গরম কাপড় পাবে- ব্যাস এতে তার শরীরের অভিযোজন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়- আর বেচারা মারা যায়- এটা অনেকের কাছে নিছক হাস্যকর হতে পারে তাদের বোঝাবার জন্য বলি –

আপনি যখন খাবার খান ঠিক তখন আপনার শরীরের পরবর্তন গুলো কি লক্ষ করেছেন? খাবার সামনে নিয়ে যখন বসেন তখন আপনার চোখ আপনার মস্তিস্ক কে বিশ্বাস করতে শেখায় কিছুক্ষন পর আপনি খাবার খাবেন, আপনার তখন আপনার জিহ্বা কে বিশ্বাস করতে শেখায় আপনার খাবার গুলো যাতে নির্বাধায় আপনার সরু গলার ভিতর দিয়ে যেতে পারে তার জন্য লালা নিঃসরন করতে। আপনার পাকস্থলী কে বিশ্বাস করতে শেখায় কিছুক্ষন পর এই খানে অর্ধ চর্বিত খাবার আসবে- তার ডাইজেস্ট করতে এনজাইম নিঃসরন করতে। ব্যাস সবাই সবার কাজ করে যাস্ট বিশ্বাস হবার জন্য ই- ঠিক তেমন ভাবেই সোমালিয়ান লোক টির শরীর তার অভিজোজন শক্তি হারিয়েছিল – 

বিশ্বাস একটি কঠিন জিনিস – এই বিশ্বাসের গুনে আপনাকে আপনি অনেক বছর বাচতে সাহায্য করতে পারেন- আপনার মানষিক শক্তি আপনার শরীরের অনেক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। আপনার কর্ম ক্ষেত্রে আপনার কাজের স্পৃহা বাড়িয়ে দিয়ে আপনাকে সফল হতে সাহয্য করতে পারে- আপনার চার পাশে হয়ত অনেক মানুষ কে দেখে থাকবেন,একটা নরমাল কিছু হলেই (অসুখ), অনেক বড় বড় অসুখের সিন্ট্রোমের সাথে মিলিয়ে নিয়ে দুঃচিন্তা করে- গবেষনায় দেখা গেছে ক্যান্সার নিয়ে আতংকিত হওয়া লোক জনের ভিতর ক্যান্সার হবার প্রবনতা বেশি। কারন হিসাবে বলা হয় আপনার মস্তিস্ক স্নায়ু তত্রের মাধ্যমে আপনার শরীরের সব সেল কে নিয়ন্ত্রন করে- কিন্তু যদি আপনার ভাবনায় আমার ক্যান্সার হবে? হচ্ছে বা হয়ে গেছে এই সব আসে তখন আপনার মস্তিস্ক আপনার চিন্তার বিষয়কে তরান্নিত করে দেয়। আপনার শরীরের সেল বিক্রিয়াকে অস্বাভাবিক করে তোলার মাধ্যমে একটা বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি করে- যা আপনার ক্যান্সার হবার জন্য দায়ী। কথায় আছে আপনার কাজের অর্ধেক তখন ই হয়ে যায় যখন আপনি বিশ্বাস করতে শেখেন আপনি কাজ টা খুব ভাল ভাবে সম্পাদন করতে পারবেন- একটি গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় সকল সফল মানুষ তার সফলতার পিছনের গল্প বলতে প্রথম মানুষিক শক্তি কে কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধ্য সাধন করার – কথা বলে থাকে –

আপনার শরীরের সেল বিক্রিয়াকে অস্বাভাবিক করে তোলার মাধ্যমে একটা বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি করে- যা আপনার ক্যান্সার হবার জন্য দায়ী। কথায় আছে আপনার কাজের অর্ধেক তখন ই হয়ে যায় যখন আপনি বিশ্বাস করতে শেখেন আপনি কাজ টা খুব ভাল ভাবে সম্পাদন করতে পারবেন- একটি গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় সকল সফল মানুষ তার সফলতার পিছনের গল্প বলতে প্রথম মানুষিক শক্তি কে কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধ্য সাধন করার – কথা বলে থাকে –

মানুষ সামাজিক জীব – মানুষের বেচে থাকার জন্য তার অন্য মানুষের উপর নির্ভর করে চলতে হয়- কিন্তু হিসাব করে দেখতে হবে এই নির্ভরতার পরিমান কতটা ? ধরুন আপনি কাউকে ভালবাসেন, আপনার তার উপর অতিনির্ভরতার দরুন আপনার মনে ধারনা হল- আপনি তাকে ছাড়া বাঁচবেন না- কিংবা বেচে থাকলেও তা আপনার জন্য অর্থ হীন হবে- কিন্তু আপনি যাকে নিয়ে এই ভাবনায় রত তার মনে আপনার জন্য স্থান কতটুকু? সেও কি আপনাকে নিয়ে আপনার মতই ধারণা পোষন করে? যদি তা না হয় হয়ত সে এক দিন আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে? তখন আপনার কি হবে? আপনি তো আপনার মন কে এই বলে আগে থেকেই বিশ্বাস স্থাপন করিয়ে বসিয়ে রেখেছেন আপনি তাকে ছাড়া বাঁচবেন না, কিংবা অর্থ হীন ভাবে বেচে থাকবেন- তখন কি আপনার মন যা আপনার শরীরের অনেক অঙ্গ প্রত্যাংগ কে প্রত্যাখ্য বা পরক্ষ ভাবে পরিচালিত করে, তারা কি তাদের কাজ ঠিক মত করবে? আমার ধারণা করবে না- রেজাল্ট আপনি হয়ত মরবেন না- কিন্তু আপনার স্বাভাবিক জীবন যাপন এর উপর মারাত্বক প্রভাব ফেলবে, আপনার শরীরের কোষ গুলো ঠিক মত কাজ করার জন্য উদ্দেপিত হবে না- আপনার ক্ষুধা লাগবে না, ঘুম হবে না, আর এক দিন মারাত্বক অসুখ বাধিয়ে ফেলবেন – আপনার হয়ত এর জন্য যে জীবনী শক্তির ক্ষয় হবে তা আপনার মৃত্যু কে ত্বরান্বিত করবে । আর এক সময় আপনার মৃত্যু ডেকে আনবে- এই জন্য কেউ কেউ বলে থাকে মানুষের ম্রত্যুর জন্য বেশির ভাগ সময়ে সেই মানুষ টি ই দ্বায়ী হয় । 

মডেল – প্রভা – ছবি – কালাক্ষর ডেক্স

যদি তা না হয় হয়ত সে এক দিন আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে? তখন আপনার কি হবে? আপনি তো আপনার মন কে এই বলে আগে থেকেই বিশ্বাস স্থাপন করিয়ে বসিয়ে রেখেছেন আপনি তাকে ছাড়া বাঁচবেন না, কিংবা অর্থ হীন ভাবে বেচে থাকবেন- তখন কি আপনার মন যা আপনার শরীরের অনেক অঙ্গ প্রত্যাংগ কে প্রত্যাখ্য বা পরক্ষ ভাবে পরিচালিত করে, তারা কি তাদের কাজ ঠিক মত করবে? আমার ধারণা করবে না- রেজাল্ট আপনি হয়ত মরবেন না- কিন্তু আপনার স্বাভাবিক জীবন যাপন এর উপর মারাত্বক প্রভাব ফেলবে, আপনার শরীরের কোষ গুলো ঠিক মত কাজ করার জন্য উদ্দেপিত হবে না- আপনার ক্ষুধা লাগবে না, ঘুম হবে না, আর এক দিন মারাত্বক অসুখ বাধিয়ে ফেলবেন – আপনার হয়ত এর জন্য যে জীবনী শক্তির ক্ষয় হবে তা আপনার মৃত্যু কে ত্বরান্বিত করবে – আর এক সময় আপনার মৃত্যু ডেকে আনবে- এই জন্য কেউ কেউ বলে থাকে মানুষের ম্রত্যুর জন্য বেশির ভাগ সময়ে সেই মানুষ টি ই দ্বায়ী হয় –

কথাটার ব্যাখ্যা আরো ভাল ভাবে দিতে গেলে বলা যায়, মানুষ সব সময় নিকট বর্তমান কে সত্য বলে ধরে ন্যায়- ধরুন সিগারেট খেলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার হল – তা হলে হয়ত মানুষ সিগারেট কে ভয় পেত কিন্তু সিগারেট খেলেন আজ আপনার ক্যান্সার হল ১০ বছর পর- সেইটা কে মানুষ খুব একটা পাত্তা দেয় না- আমার উপরের কথা মানুষ তার মরার জন্য নিজেই দ্বায়ি- এইটাও ঠিক সেই রকম। আপনার মন শরীর কে ঠিক মত না চালানোর জন্য আপনার শরীর কে ঠিক মত চালায় নি- ফলে যে সাইড ইফেক্ট শুরু হয় তার চূড়ান্ত রুপ দেখা যায় অনেক দিন পর- যখন হয়ত আপনি আপনার সঙ্গী যে আপনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল বা যার জন্য এইটা হয়েছে তাকেই ভুলে গেছেন- এবং সব ভুলে আবার নতুন করে বাচতে স্বপ্ন দেখছেন তখন-

আপনার মন শরীর কে ঠিক মত না চালানোর জন্য আপনার শরীর কে ঠিক মত চালায় নি- ফলে যে সাইড ইফেক্ট শুরু হয় তার চূড়ান্ত রুপ দেখা যায় অনেক দিন পর- যখন হয়ত আপনি আপনার সঙ্গী যে আপনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল বা যার জন্য এইটা হয়েছে তাকেই ভুলে গেছেন- এবং সব ভুলে আবার নতুন করে বাচতে স্বপ্ন দেখছেন তখন-

তাই যা কিছু আপনার হাতে নেই তা নিয়ে আপনার মন কে অতী উৎসাহী বানাবেন না- যাকে ধরে রাখবার শক্তি আপনার হাতে নেই তার উপর বিশ্বাস করে অন্ধের মত আপনার মন কে বিশ্বাস স্থাপন করাবেন না- যে তাকে ছাড়া আপনার চলবেই না- মনে রাখবেন জীবন একটি দীর্ঘ পথ- এই পথের প্রতিটি বাকে আপনার মানুষের সাথে পরিচিত হতে হবে। আজ যাকে আপনার খুব কাছের মনে হচ্ছে – আগামীকাল হয়ত পরিস্থিতির দাবীতে অতটা কাছের মনে নাও হতে পারে- আজ যার চোখে আপনাকে স্বপ্ন কন্যা বাআ স্বপ্ন বালক মনে হচ্ছে- কাল তার চোখে অন্য কিছু ধরা দিতে পারে- 

মনে রাখবেন যে ভালবাসা আপনাকে অন্যের উপর নির্ভরশীল বানায় সেইটা ভালবাসা নয়- পরজীবী হয়ে বাচতে না শিখে মিথোজীবী সম্পর্কের ধারক হয়ে বাচার চেষ্টা করুন। আপনার ভিতরে থাকা অতী আবেগ কে দূরে সরিয়ে দিয়ে একটু বাস্তব বাদী হয়ে উঠুন, দেখবেন আপনি যার সাথেই থাকেন, সেই মানুষ টা আপনাকে ভালবাসুক আর নাই বাসুক ঠিক ই আপনার সাথে থাকবে-

বাংলাভাষী মানুষের মাথায় প্রেম রোমান্স এর ভাবনা ছাড়া আর কিছু আসে না- প্রেম রোমান্স ভাল তবে সেই প্রেম অবশ্যই ভাল না যা আপনার আইডেন্টিটি ভুলিয়ে দেবে। এক জনের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করবে আপনার ভাল আর মন্দ থাকা।

রবিন্দ্র নাথ ঠাকুর যিনি সাহিত্যিক হিসাবে বেশ সমাদৃত – যার লেখা উপন্যাস গুলোর বেশির ই প্রেম নির্ভর, যে খানে তথ্য খুব একটা থাকে না- যা আপনার জ্ঞ্যান কে বিকোশিত করে- তার মত কবি সাহিত্যিক আরো আছে – তাদের লেখা পড়ে তাদের উপন্যাসের চরিত্রের মত হতে যাবেন না, তাতে আপনার আয়ু ক্ষয় ছাড়া কিছুই পাবেন না- কারন এই সব সাহিত্যিক তাদের বস্তা পচা প্রেম নির্ভর কমিক বই বিক্রি করে নিজেদের আখের বেশ গুছিয়ে নিয়েছেন। নিজেকে বিদ্যান আর পন্ডিত তকমায় ভুষিত করেছেন, কিন্তু আপনার কি কোন উপকার করেছেন? এক অর্থে তারা আপনার ক্ষতি করেছেন- কারন তাদের বস্তা পচা রোমান্টিক প্রেমের গল্প গুলোর চরিত্র গুলো আপনার মাথায় এমন ভাবে টাইপ করে দিয়েছেন যে সারাক্ষন আপনার মন উপন্যাসের কাল্পনীক চরিত্র গুলোর মত স্ব-ভাব পেতে চায়। ভালবাসা পেতে চায়। যা আপনার ক্ষতির কারন হয়ে কোন এক দিন সামনে চলে আসবে- এই সব বাদ দিয়ে আপনাকে সবার আগে নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে করে বাচতে শিখতে হবে-

নিজের যোগ্যতার উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে, যা আপনার সামনে চলার পথ কে আরো বেশি প্রসস্থ করে দিবে- আর অবশ্যই কাউকে ভরসা দিলে তার মর্জাদা রাখবেন- নইলে হয়ত প্রত্যাক্ষ কিংবা পরক্ষ ভাবে তার চূড়ান্ত ধ্বংসের কারন হিসাবে আপনি দ্বায়ি থাকবেন – যা কোন সভ্য মানুষের কাছে কেউ প্রত্যাশা করে না-

ধন্যবাদ

সোলায়মান জুয়েল

ব্লগার/চিত্রনাট্যকার/নাট্য পরিচালক

Exit mobile version