Site icon কালাক্ষর

কগনিটিভ বায়াস: যা মানুষকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে

কগনিটিভ বায়াস: যা মানুষকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে

মডেল - অহনা রহমান। ছবি - কালাক্ষর ডেক্স

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। অন্য প্রানীর চেয়ে মানুষ ই এক মাত্র জীব যারা যে কোন পরিস্থিতিতে যে কোন বিষয়ে স্বীদ্ধান্ত নিতে পারে। আর এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করার ক্ষমতা মানুষ কে প্রথিবীতে বাস করা অন্য প্রানী থেকে শ্রেষ্টতম করেছে। কিন্ত আপনি কি জানেন? মানুষের এই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা অনেক কিছু দিয়েই বাধা প্রাপ্ত হয়? বা প্রয়োজনের সময় ৯৯% মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না? কেন পারে না? আর তার জন্য কি বা কে দায়ী? তা নিয়েই  সৃজন শীল বাংলা ব্লগ “কালাক্ষর” এর আজকের আয়োজন, আজ আমরা হিউম্যান সাইকোলজির এর একটি ইন্ট্যাল্যাকচুয়াল শাখা- এর পর্দা উন্মোচন করবো৷

কিছুক্ষন আগে বলেছিলাম ৯৯% মানুষ সঠিক টাইমে সঠিক সীদ্ধান্ত নিতে পারে না। আসলে গ্রাফ টি ৯৯.৯৯% মানুষ পারে না। এইটা লেখা উচিৎ ছিল। আর এইটা মোটেও আমার কল্পনা প্রসু নয়। মনোবিজ্ঞানী দের নানা গবেষনায় এই তথ্য উঠে এসেছে। আর কেন সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না তার কারন হিসেবে অনেক অনুঘটকের নাম উঠে এসেছে, এই সব অনুঘটক সুমুহ মানুষের চিন্তা করে ডিসিশন নেবার ক্ষমতা কে সতর্ফুত হবার পথে বাধা দান করে। কিন্তু মানুষ তা ধরতে পারে না বলে প্রতিটি মানুষেই নিজেদের চিন্তা করার সামর্থ্য ও সঠিক ভাবনার ব্যাপারে এক প্রকার ভুল ধারণা নিজের ভিতর লালন করে থাকে । ভুল ধারনা এই কারনে বললাম কারন প্রায় সব মানুষেরই চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া অনেকগুলো পক্ষপাত দ্বারা প্রভাবিত হয়। যার ফলে মানুষের চিন্তা গুলো সতর্ফুত থাকে না। এই প্রবাভিত ক্ষেত্রগুলোকেই ‘কগনিটিভ বায়াস’ (cognitive bias) বলা হয়।

কগনিটিভ বায়াস’ (cognitive bias) মানুষের অবচেতন মনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার শর্টকাট হিসেবে কাজ করে। 

মডেল- পায়েল। ছবি- কালাক্ষর ডেক্স

বিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক বিশেষ ক্ষমতা অর্জন করেছে। মানুষ নিজের বাস্তব অভিত্ততা লব্দ জ্ঞ্যান দিয়ে কোন ঘটনা ভাল ভাবে চিন্তা না করে শর্টকাট পথে তার চিন্তা গুলো চালিত করতে চায়। এই চিন্তা গুলো থেকে নেওয়া ডিশিসন গুলো তাই শটকাট ই হয়। যা অনেক ক্ষেত্রে রাইট ডিসিশন নাও হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে মানুষের বিপদকালীন সময়, জটিল অথবা সম্পূর্ণ নতুন কোনো পরিস্থিতিতে নেওয়া সীদ্ধান্ত গুলোর কথা বলা যায়। এরকম মূহুর্তগুলোতে মানুষ কগনিটিভ বায়াসগুলো লক্ষ্য না করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, যা একইসাথে অযৌক্তিক এবং অকার্যকর হয়ে ওঠে। কি বুঝতেছেন না? তা হলে আরো একটা উদাহরণ দেই,

ধরুন একটা মেয়েকে তার লাইফে ছয় জন মানুষ প্রেমের অফার করেছিল। মেয়েটি তাদের কথা বিস্বাস করে ঠকেছিল। এখন সাত নাম্বার এ থাকা কেউ তাকে প্রপোজ করেছে, আর মেয়েটি পুর্ব অভিজ্ঞতা থেকে প্রপোজের কথা শুনেই মনে মনে বলেছে- ” হালার লুচু, প্রেম করা তো তোমার কিসের বাল, তোমার কেবল চোদার তাল”

সরি স্ল্যাং শব্দ উদাহরণ হিসেবে ইউজ করেছি। কিন্তু মেয়েটির ফিলোসোফি বার বার আঘাত সইতে সইতে এমন হতে বাধ্য বলেই শব্দটির প্রয়োগ করা। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, এই সাত নাম্বার লোক টি কিন্তু সত্যি মেয়েটাকে মন থেকেই ভালবেসেছিল। আর তাকে নিয়ে সারা জীবন কাটাবে এইটা মাইন্ড সেট আপ করেই মেয়েটাকে প্রপোজ করেছিল। কিন্ত মেয়েটি তার পুর্ব অভিজ্ঞতা থেকে তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এক বার ও ছেলেটির কথা গুলো নিরপেক্ষ ভাবে ভাবে নি। রেজাল্ট এক জন ভাল মানুষের স্বপ্ন ভংগের ব্যাপার ঘটে গেল। আর মেয়েটি এমন মানুষ কে তার কাছেই ঘেষতে দিল না। যে তাকে ভাল রাখতে পারতো। 

এইবার নিজের একটা উদাহরণ দেই। আমি কিছু দিন আগে এক বাজে লোকের (সাইকো) পাল্লায় পড়ে ব্যাক্তিগত ভাবে খুব বিব্রতকর পরিস্থিতি পড়েছিলাম। লোকটি যাতে আমায় উলটা পালটা কিছু বলতে বা হুমকি ধামকি দিতে না পারে এই কারনে ফোনে কল রেকোর্ডার ইনেস্টল করে অল কল রেকোর্ড হবে এমন টা সেট আপ করে রেখেছিলাম। কারন লোকটি অসংখ্য আননোন নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে আমাকে উলটা পালটা কথা বলতো। এই সময় আমার খুব কাছের এক রিলেটিভিট আমায় কল করেছিলেন সেই কল টাও রেকোর্ড হয়েছিল। এই কথা আমার সেই রিলেটিভ শোনার পড়ে আমায় খুব বাজে ভাবে রিয়াক্ট করেছিলেন।

যদিও তিনি আমার খুব সম্মানিত মানুষ ছিলেন। আর তার সাথে আমার এমন কোন স্পর্সকাতর কথা হয়নি কোন দিন কিংবা ওই দিন ও হয় নি। ভবিষ্যৎ এও হবার চান্স ছিল না। যা রেকোর্ড করে আমি তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতি তে ফেলতে পারি বা তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতি পড়ার চান্স থাকতো। কিন্ত তার পরেও তিনি আমায় ক্ষমা করতে পারেন নাই। বরং আমায় তিনি একজন বাজে লোক যারা ফোন কল করে রেকোর্ড করে ব্যাক মেইল করে তাদের কাতারে ফেলে দিয়েছিলেন। আর আমার ব্যাপারে তিনি সীদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শশর্টকাট ভাবনা থেকে। যা তার অতীত অভিজ্ঞতা নয়ত কারো কাছে শুনে যে অভিজ্ঞতা হয় তা নিয়ে সীদ্ধন্ত নিয়েছিলেন। তার এই অভিজ্ঞতা তাকে শটকাট সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তার মাথায় যারা ফোন কল রেকর্ড করে তারা মানুষ কে ট্র‍্যাপে ফেলতে এই সব করে এমন জ্ঞ্যান স্টোর করা। তিনি কোন দিন ভাবতে পারেন ই নাই যে, অনেকেই হয়ত ফোন কল রেকর্ড করে মানুষকে ট্র‍্যাপে ফেলতে কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের ট্যাপ থেকে বাচতেও যে কল রেকর্ড করতে পারে তা তার মাথায় ই আসে নাই। ফলাফল আমি ভুল না করেও সেই ভদ্র সন্তানের কাছে কালপিট হয়ে গেলাম। 

মডেল – তানজিন তিশা। ছবি কালাক্ষর ডেক্স

যাই হোক, আজ আমরা এরকম বেশ কিছু বায়াস নিয়ে আলোচনা করবো। যেগুলো একইসাথে আমাদের চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। 

 

অপটিমিজম বায়াস

অ্যাভেল্যাবিলিটি হিউরিস্টিক থেকে উৎপন্ন একটি বায়াস হচ্ছে অপটিমিজম বায়াস (optimism bias).মানুষ নিজেদের ব্যাপারে অনেক বেশি আশাবাদী হয়ে থাকে যা অনেক সময়েই বাস্তবতা বিবর্জিত হয়ে থাকে। সামনে সৌভাগ্য অপেক্ষা করছে, এমন একটি অন্ধ বিশ্বাস মানুষের ভিতর কাজ করে। কিন্তু, সৌভাগ্য নয় সামনে আরো বেশি দুর্ভাগ্য তার জন্যে অপেক্ষা করতে পারে এমন ধারণাকে মানুষ অবমূল্যায়ন করে।

আমরা নিজেদের ব্যাপারে অনেক বেশি আশাবাদী; আমরা অবচেতনভাবে মানুষ তার নিজের মনের একটা গ্রাফ একে ফেলে, ডিভোর্স, চাকরি হারানো, অসুস্থতা, মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো অন্যদের সাথেই ঘটবে। নিজের সাথে সব ভাল ভাল কিছু হবে৷ এর ফলে মানুষ নিজেকে সর্তক না করে অনেক ধরনের অযৌক্তিক কাজ করে ফেলে। যেমন: ধূমপান, বাজে খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ কিংবা গাড়ির সিটবেল্ট না বাঁধা। দূর্ভাগ্যজনকভাবে, গবেষণায় দেখা গেছে অপটিমিজম বায়াস হ্রাস করা অনেক কষ্টকর। অবশ্য, এর ফলেই মানুষ ভবিষ্যতের জন্যে প্রত্যাশা খুঁজে পায়, কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলতে পারে।

কনফার্মেশন বায়াস

মানুষ তার মস্তিস্কে স্টোর হওয়া সেই তথ্যগুলোর প্রতিই বেশি মনোযোগ দেয় যেগুলো তার বিশ্বাসের সাথে মিলে যায়। এটাকে কনফার্মেশন বায়াস (confirmation bias) বলে। এরকম বায়াসের ফলে যে তথ্যগুলো নিজের মতামতের অনুকূল হয়, মানুষ সেগুলোকেই বেশি সমর্থন দেয়। বিতর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে এরকম বায়াস নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বাঁধা হয়ে উঠতে পারে। অপরপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি জানা ও সবগুলো তথ্য যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণের পরিবর্তে মানুষ সেগুলোই বারবার খুঁজে যেগুলো তার বিশ্বাসকে সমর্থন করে। কিন্তু তার বিশ্বাস সবসময়েই সত্য হবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। উদাহরণ দেওয়া যাক,

মডেল- বিদ্যা সিনহা মীম। মডেল- কালাক্ষর ডেক্স

অনেকেই বিশ্বাস করে থাকে, বাঁ-হাতি লোকেরা ডান-হাতি লোকদের তুলনায় বেশি প্রতিভাবান হয়ে থাকে। যখনই তাদের সাথে এমন কারো পরিচয় হয়, যে একইসাথে বাঁ-হাতি ও সৃজনশীল, এটাকে তাদের সেই বিশ্বাসের একটি প্রমাণ হিসেবে মনে গেঁথে নেয়। কিন্তু ডান-হাতি প্রতিভাবান কারো সাথে পরিচয় হলে তা যে তাদের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে কাজ করে, সে ব্যাপারে তার কোন মনোযোগ থাকে না। এভাবে এই বায়াসটি আমাদের তথ্য গ্রহণ ও তা বিশ্লেষণের ব্যাপারে প্রভাব রাখে।

হিন্ডসাইট বায়াস

কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে আমাদের কাছে তা অনেকবেশি অনুমানযোগ্য মনে হয়। কিন্তু, এই ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতা অনেক সময়েই কম থাকতে পারে। অর্থাৎ, একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে আমাদের মনে হয়, “এটা আমি আগে থেকেই জানতাম”। এই ঘটনাটি হিন্ডসাইট বায়াস (hindsight bias) হিসেবে পরিচিত।

অ্যাক্টর অবজার্ভার বায়াস

আমরা নিজেকে নিজের কাছে এবং অন্যকে কীভাবে যাচাই করি তা অনেকগুলো বিষয়ের উপরে নির্ভর করে। কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, কেউ দর্শকের ভূমিকায় ছিল নাকি নিজেই কাজটি করেছিল তা এরকম যাচাইয়ে বড় একটি প্রভাব রাখে। যদি কাজটি আমরা নিজে করি, তখন বাইরের প্রভাবকে বড় করে দেখার মনোভাব দেখা যায় আমাদের মধ্যে। এটাকে অ্যাক্টর অবজার্ভার বায়াস (actor observer bias) বলে।

কেউ দাবি করতেই পারে যে, সে পরীক্ষায় খারাপ করেছে কারণ পরীক্ষক অনেক কঠিন প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে যদি অন্য কারো ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় প্রথম ব্যক্তি পরীক্ষায় খারাপ করার পেছনে তার ব্যক্তিগত যোগ্যতাকেই সামনে তুলে ধরবে। আমরা ভাবি, একজন বন্ধু বাজে প্রেজেন্টেশন দিয়েছে কারণ সে অযোগ্য এবং অলস। কিন্তু, তার বাজে প্রেজেন্টেশনের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে, হয়তো সে পুরোপুরি দায়ী নয়। আবার, কেউ পরীক্ষায় খারাপ করেছে শুনে আমরা ধরি যে, তার মেধা ও শ্রমের ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু, তার ক্ষেত্রেও পরীক্ষক কঠিন প্রশ্ন করেছে এমন সম্ভাবনা আমরা মাথায় রাখি না। মূলত অ্যাক্টর অবজার্ভার বায়াসের প্রভাবেই আমরা অন্যের ব্যাপারে আমরা ভিন্ন কোনো কারণ চিন্তা না করে শুধুমাত্র তাকেই দোষ দিতে পছন্দ করি। 

অ্যাংকরিং বায়াস

মানুষ কোনো তথ্যের প্রথম অংশ দ্বারা অনেক বেশি প্রভাবিত হয়। যেমন, কারো সাথে ঘটা কোন কোনো ব্যাপার নিয়ে সমঝোতা তৈরির সময় প্রথম যে প্রস্তাবনাটি উত্থাপন করা হয়, মানুষ অবচেতনভাবে তার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই ঘটনা কে অ্যাংকরিং বায়াস (anchoring bias) বলা হয়ে থাকে । গবেষকরা এরকম ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন যে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা যদি যথেচ্ছ কোনো প্রস্তাবনাও দেয় তা ভিন্ন কোনো ঘটনার ক্ষেত্রেও কারো চিন্তায় প্রভাব ফেলে। এমনকি রোগীর প্রতি একজন ডাক্তারের প্রাথমিক যে ধারণা তৈরি হয়, তা রোগ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। একই কারণে মানুষ নিজ অভিজ্ঞতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অন্যের জীবনের ঘটনাগুলো মূল্যায়ন করতে চায়। এরকম আরো অনেক গভীর ব্যাপারে এই বায়াসটি প্রভাব ফেলে। কেনাকাটার ক্ষেত্রেও অ্যাংকরিং বায়াস দ্বারা আমরা প্রভাবিত হই

মডেল – মৌ খান। ছবি- কালাক্ষর ডেক্স

 

মিসইনফরমেশন ইফেক্ট (misinformation effect)ঃ

কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার আগে ও পরের ঘটনাগুলো আমাদের স্মৃতিতে মারাত্মক একটা প্রভাব ফেলে যায়। ফলে, এমনও হতে পারে সত্যিকারভাবে ওই ঘটনা ঘটেনি কিন্ত এমন কোনো ব্যাপার ঘটেছে যার ফলে আমাদের মনে হয় ঘটনাটি ঘটেছে, বলে আমাদের ভ্রম হয়। এটাকে মিসইনফরমেশন ইফেক্ট (misinformation effect) বলে। মানুষ মনে করে, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে মানুষের স্মৃতি একেবারে পরিষ্কারভাবে কাজ করে। কিন্তু গবেষকরা তাতে সহমত হতে পারেন নি,তারা বলেছেন, আমাদের স্মৃতি সূক্ষ্ম কোন প্রভাবের প্রতিও সংবেদনশীল।

পরিশেষ এ বলি, মানুষের কোন বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করে এর সামনে পিছনের অনুঘটক এর ভাবনা ভেবে তার পর কোন সিদ্ধান্তে আসা উচিত। পুর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে হয়ত আপনি আরো সাবধানী হতে পারেন। কিন্ত অতীত আপনার সাথে ঘটছে কিংবা কারো সাথে ঘটছে সেইটা জ্ঞ্যাত হয়ে শটকার্ট সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়। বাংগায় গ্রাম দেশে একটা প্রবাদ আছে, কোন লোক যদি সুবেহী সাদিকের নামাজ পরতে পুকুর ঘাট দিয়ে যায়, আর সেই পুকুরের ধার দিয়ে কেউ হেটে যায়, নামাজী লোক টি মনে করে সেই লোক লোকটি বোধ হয় তার মত হুজুর নামাজ পরতে মসজিদে যাচ্ছে। আর যদি লোক্টি চোর হয় সে ভাবে এই লোক বোধ হয় তার মতই চোর চুরি করে বাড়ি যায়। এই খানে যে যেমন সে তেমনি ভাববে বা তার ভাবনা থেকে একটা সিদ্ধান্তে আসবে। কিন্তু আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি এই ভাবে সিদ্ধান্তে আসা সমুচিন নয় যেখানে একজন মানুষ এর অনেক গুলো সম্ভাবনা আছে৷ মানে সে চোর হতে পারে কিংবা নামাজী কিংবা অন্য কিছু, তাই সেই লোক সম্পর্কে সবার আগে খোজ নিতে হবে। তার পর যে কোন ডিসিশন এ আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে৷ অভিজ্ঞতা থেকে শটকাট ডিসিশন এ আসা উচিৎ নয়৷

ভাল থাকবেন। আমি এই সাইট টাতে লিখি আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে৷ অনেকের ভিতর যদি এক জন ও আমার লেখা পড়ে নিজের রিয়ালাইজেশন ক্ষমতা বাড়ায়। নিজেকে শোধরাবার চেষ্টা করে তাতেই আমার সার্থকতা। লেখাটি যদি ভাল লাগে শেয়ার করে অন্যকে পড়ার সুযোগ দিবেন। এতে আমার কিছুটা ইনেস্প্যায়ার আসে। ধন্যবাদ

Exit mobile version