Site icon কালাক্ষর

সাফল্যের রহস্য কী?

মানুষের সফল হবার একটাই মাত্র মূলমন্ত্র আছে। হয়ত আপনি বিষয় টা জানেন ঠিক তারপরেও আরো একবার বলছি। আপনি ওটাই করবেন যা সাধারণ লোকে করে না। তবে কেন দেরি করছেন আজকেই উঠে পরুন না, নিজের ভিতরে জমে থাকা অলসতা ত্যাগ করে আজই কাজ শুরু করে দিন। স্বপ্ন মানুষ কে তার প্রত্যাশার গতিপথের দিকে চালিত করতে অনুপ্রেরনা যোগালেও শুধু স্বপ্ন আপনাকে সফল করবে না, সফল করবে কাজ। মানে আপনার কাজ আপনাকে সফল করবে।

ধরুন আপনি খুব মোটা আপনি স্বপ্ন দেখেন একদিন স্লিম হবেন- এই স্বপ্ন হয়ত আপনাকে জীমের দোর গোড়ায় নিয়ে যেতে পারে- কিন্ত আপনার শরীরের ওজন কমাতে আপনাকে জীমে পরিশ্রম করতে হবে? যদি আপনি জিমের সমস্ত নিয়ম কানুন মেনে একটানা ৬০ দিন পরিশ্রম করতে পারেন তবেই আপনি সুঠোম দেহের অধিকারী হবেন।

আপনি কি, আপনার সামনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা গুলোতে ভালো রেজাল্ট করতে চান ? তবে সমস্ত সামাজিক গণমাধ্যম যা আপনার মুল্যবান সময় নষ্ট করে তা আপনার মোবাইল ফোন থেকে ডিলেট করে দিন। এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ফোনকে কাছে নিবেন না।

    – আমার লেখা ব্লগ গুলো পরতে লিংক গুলোতে ক্লিক করুন-  

আপনি কি অনেক জ্ঞানী মানুষ হতে চান? তবে বই পড়ুন, আর হ্যা, আমার অনুরোধ বই মানে সাহিত্য কিংবা উপন্যাস নয় – নজরুল রবিন্দ্র হুমায়ন এর রচনা সামগ্রীতে কিছু নেই- এগুলো আপনার জ্ঞ্যান বাড়াবে না তাই অযথা সাহিত্য চর্চা করতে গিয়ে দয়া করে আপনি আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না। সাহিত্য চর্চা হল সৌখিন জিনিস আপনার কিংবা আমার মতো মধ্যবৃত্ত ফ্যামিলির জন্য নয়। এখানে দুই একটা ভালো বাক্য ছাড়া বাকিগুলি সব খড়ের বোঝা দিয়ে ভরে রাখা হয়। তবে আমি

চর্চার বিরোধিতা করছি না আমি নিজেই বঙ্কিম, শরৎ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইত্যাদির ভালো উপন্যাসগুলি পড়েছি এমনকি বহু ইংরেজি, চাইনিজ, গ্রীক উপখ্যান, সুমেরীয় উপক্ষ্যান, জাপান সংস্কৃতির সাহিত্য (ইংরেজি ভার্শন ) নোবেল ও পড়েছি। কিন্তু বেশির ভাগ সাহিত্য ই আমার জ্ঞ্যান অর্জন চেয়ে বিনোদনের মাধ্যম বলে মনে হয়েছে। এগুলো আপনার জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হতে পারে না। যদি জ্ঞান অর্জন করতে চান তবে তথ্যমুলুক, বিজ্ঞান ভিত্তিক ইত্যাদি বহু রকম বই আছে সেগুলি পরুন। সাহিত্য চর্চাকে বিনোদিন হিসেবে গ্রহণ করুন তবে এর জন্য নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না।

আজকের দিনের বড় সমস্যা হচ্ছে কি জানেন? বেশির ভাগ মানুষ ভাবে সফলতা আপনা আপনি হয়ে যাবে, এর জন্য শুধু মাত্র কিছু প্রেরণা দায়ক বই পড়লেই হয়ে যায়, এর বাইরে আর কোনো কিছু করার প্রয়োজন পড়ে না। আপনি জানেন কি আপনার এই ধরনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক লোক জন কোনো রুপ গবেষণা না করেই যাস্ট বড় বড় মনীষীদের উক্তি ধার করে নিয়ে বই বের করে ফেলেছে। এবং অনেক মানুষ পাগলের মতো তা কিনে কিনে পড়ছে। আহা! দারুন লিখেছে। দারুন হয়েছে। দুনিয়াতে দুই ধরণের লেখক আছে, একধরণের লেখক আছেন যিনি একটি উনুপ্রেরনা দায়ক বই লিখতে ১০ থেকে ২০ বছর গবেষণা করে তার পর একটি বই লিখে থাকেন। আরেক ধরণের লেখক আছেন যারা কিছু বই সংগ্রহ করে সবগুলি থেকে অল্প অল্প করে বাক্য ধার নিয়ে নিজে বই লিখে। আমি রিকোয়েস্ট একটাই, আপনি জেনুইন বই পড়ুন ফেক বই নয়। আপনি সফল হবেন তখনি, যখন আপনি যা করবেন তা নিয়মিত অনুসরণ করে যেতে পারবেন কিন্তু অন্ধভাবে অনুসরণ করে নয়।

জর্দান বেলফোর্ট বলেছেন, “আপনি এবং আপনার লক্ষ্যের মধ্য একটি গল্প দাঁড়িয়ে আছে , তা হচ্ছে সর্বদা নিজেকে বলবেন যে, কেন আমি সফল হতে পারবো না?”

শিব খেরার একটি মূল্যবান উক্তি যা বেশিরভাগ মানুষ ই হয়ত জানেন, “বিজয়ীরা বিভিন্ন ধরণের কাজ করে না, বরং তারা একই কাজ বিভিন্নভাবে করে। “

পরিশেষ এ রিকোয়েস্ট দয়াকরে আমার মতো লেখকের ছোট ছোট প্রবন্ধ পরে নিজেকে জ্ঞানী ভাববেন না। আমি ঠিক আপনার মতোই। ভালো কিছু পড়ুন এবং মূল্যবান কিছু শিখুন এবং সবসময় ওটাই করুন যা সাধারণ লোকে করে না।

Exit mobile version