Site icon কালাক্ষর

চির তরুন থাকার উপায়

কালাক্ষর ডেক্সঃ বলা হয়ে থাকে মানব জীবনে মানুষের সব চেয়ে বড় সম্পদ হল তার সাস্থ – সাস্থ মেইন্স সুস্থতা- আপনি যদি খুব বেশি পরিমান টাকার মালিক হন তবে আপনি অসুস্থ হলে হয়ত ভাল ট্রিট্মেন্ট পেতে পারেন- কিন্তু সুস্থ নিরোগ জীবন পাবেন না- এইটা টাকা দিয়ে কেনা যায় না- এর জন্য চাই নিজের ভিতর ভিতর সদা সুস্থ থাকার তাড়না – সাথে সুস্থ থাকার জন্য আশু পদক্ষেপ আর যদি তা না করেন – আপনার বয়স ৪০ পেরুবার আগেই আপনার শরীর অসুখ আর রোগ ব্যাধী এর ডিব্বা বনে যাবে- আর তার সাইড ইফেক্ট পরবে আপনার চেহারায়।চামড়া কুচিয়ে গিয়ে অকাল বার্ধক্য ডেকে আনবে – ৪৫ বছরের আপনাকে মনে হবে ৬০ বছর পার করে এক ঠ্যাং কবরে দিয়ে রেখেছেন- আর যদি আপনি সুস্থ থাকেন তবে আপনার চেহারায় তা ফুটে উঠবে, ৬০ বছরের আপনাকে দেখে মনে হবে ৪০ বছরের কম- আপনাকে দেখে মনে হবে আপনি চির তরুন – উদাহরন চান?

কোরিয়ান দের দেখুন – কথায় আছে কোরিয়ান রা নাকি সহজে বুড়া হয় না- কিন্তু একবার ও কি ভেবেছেন এর কারন কি? কি কারনে কোরিয়ান রা এমন ভাবে সুস্থ জীবন যাপন করে? চির তরুন থাকার কোরিয়ান তরিকা অর্জন করতে কি খুব বেশি টাকার দরকার পড়ে? নাকি অনেক সময়? নাকি খুব বেশি কিছু? আরে ভাই এই সব কিছুই না- যাস্ট কিছু অভ্যাস – আর খ্যাদ্য সচেতনতা – আমাদের আজকের টপিক এই নিয়ে

চির তরুন থাকার জন্য আপনাকে নিচের বিধিনিষেধ গুলো মানতে হবে – 

১· প্রথম প্রথম আলসেমীর কারনে খুব বিরক্তি কর মনে হলেও ধীরে ধীরে চেষ্টা করুন সকালে ঘুম থেকে উঠে চার গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে । এর পর বাথরুমে যান।

২· আরও এক গ্লাস পানি খাবেন বাথরুম থেকে ফিরে আসার পর – এর পর খান দুধ ছাড়া খুব হালকা এক কাপ চা। আপনার ওজন বেশির দিকে হলে চিনি খাওয়া ছেড়ে দিন। চা কখনোই অতিরিক্ত গরম খাবেন না।
৩· সারা দিনে কমপক্ষে ৮ থেকে ১৩ গ্লাস বেশি পানি খাবেন। এর পর রং চা দিনে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ কাপ খাবেন।

৪· ৩ নং এ বর্নিত নিয়মে পানি খাওয়ার নিয়ম কে হাইড্রোথেরাপী বা জলচিকিৎসা বলে । মূলত এটি হচ্ছে প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছরের পুরনো । আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে- ঘুম থেকে উঠে ধীরে ধীরে চার গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস করলে প্রায় ৩৬ ধরণের রোগ হয় না এবং হলেও সেরে যায়।
৫· গবেষনায় জানা যায় প্রাচীন চিনে দুধহীন এবং দুধ-চিনি-হীন হালকা গরম চা হারবাল মেডিসিন হিসাবে ব্যাবহার করা হত। আর তা প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে থেকেই ব্যাবহারের প্রচলন ছিল । চায়নিজরা হার্ট, ব্লাড প্রেসার (উচ্চ রক্তচাপ) এবং পেটের নানা রকম রোগের চিকিৎসায় এসব ব্যাবহার করতো- আধুনিক কালে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা যায় চায়ে ভিতরের অ্যান্টিঅিডেন্ট, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে খুব কার্যকর অবদান রাখে । এ ছাড়াও অন্য বহুগুণ রয়েছে চায়ে। তবে যে চা-টা প্রক্রিয়াজাত হয়নি, সে চায়ের গুণাগুণই অপেক্ষাকৃত ভালো।

৬· ভিটামিন সি একটি বৈপ্লবিক খাদ্যপ্রাণ। অসংখ্য এর গুণাগুণ। জানা গেছে, দিনে ১ হাজার মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খেলে মানুষ চির তরুণ থাকে। তবে ট্যাবলেট খেলে কিছুই উপকার পাওয়া যায় না। খেতে হবে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ তাজা ফলমূল। প্রতিদিনই খেতে হবে। এ কথা কে না জানে যে, ভিটামিন সিও ক্যান্সার ঠেকাতে সাহায্য করে।
৭· আমলকি, সব ধরনের লেবু, টমেটো, কমলা, পেয়ারা, নানা রকর টক স্বাদের ফলে বিভিন্ন মাত্রায় ভিটামিন সি রয়েছে।
৮· রেডমিট অর্থাৎ গরু, মহিষ, খাসি, ভেড়া ইত্যাদির মাংস খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। ফার্মের মুরগির মাংস পারত পক্ষে খাবেন না- তবে চর্বিহীন বাচ্চা মুরগির মাংস হিসাবে খাতে পারেন ।
৯· আপনার খাদ্য তালিকায় প্রচুর পরিমাণে আধা-সেদ্ধ শাক-সবজি, তরিতরকারি এবং খুব অল্প পরিমাণে ভাত-রুটি রাখা উচিৎ, এটাই হওয়া উচিত আপনার দৈনন্দিন মূল খাদ্য। তবে দয়া করে ভাজাভুজি খাবেন না। অতিরিক্ত তেল, চর্বি, ঘি, মাখন কখনই খাবেন না। মসলার বিভিন্ন ভেষজ গুণ আছে, তার পরেও রান্নায় খুব বেশি মসলা ব্যবহার করবেন না।


১০· সালাদ হিসাবে প্রতিদিন বেশি করে খাবেন কাঁচা লেটুস পাতা, পুদিনা পাতা, টমেটো ইত্যাদি।
১১· বিধিনিষেধ না থাকলে সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু খাবেন।
১২· পূর্ণবয়স্কদের জন্য গরু, ছাগল, মহিষের দুধ অপ্রয়োজনীয় তো বটেই, রীতিমতো ক্ষতিকর। দুগ্ধজাত খাবারই তাই।
১৩· খাদ্য তালিকায় ছোট-বড় সব ধরনের মাছ রাখবেন । চেষ্টা করবেন সমুদ্রিক মাছ বেশি খেতে, সামদ্রিক মাছ মিঠা পানির মাছের চেয়ে বেশি পুস্টি গুন সমৃদ্ধ। কেননা, এটা মহৌষধ হিসাবে কাজ করে। গাদা-গাদা মাছের কাটা খাওয়া ঠিক নয়। এতে আপনার পাকস্থলিতে পাথর হতে পারে।
১৪· সূর্যমূখী ফুলের বীজ আপনার হার্টের ভেষজ ওষুধ হিসাবে কাজ করবে। তাই রান্নায় যদি সূর্যমূখী তেল ব্যবহার করেন তবে তা আপনার হার্টের সুরক্ষা দার হিসাবে কাজ করবে, তেমনি আপনার হার্টের অসুখ থাকলে, তা সারাতে সাহায্য করবে।
১৫· প্রতিদিন অল্প একটু টক দই খাওয়ার অভ্যাস করুন। টক দই উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে।
১৬, প্রতি দিন অন্তত কিছু টাইম আপনার সাস্থ সুস্থতা আর সুভ চিন্তা করে কাটান – যা আপনাকে অনেক কিছু থেকে মুক্তি দেবে-
সোলায়মান জুয়েল
ব্লগার/নাট্য পরিচালক/ প্রযোজক

 
Exit mobile version