1. sjranabd1@gmail.com : S Jewel : S Jewel
  2. solaimanjewel@hotmail.com : kalakkhor :
কালাক্ষর - কালাক্ষর
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

হিটলারের চরিত্রের ভালো দিকগুলি কী ছিল?

  • Update Time : বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০

পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বাধিক ঘৃণিত ব্যক্তিদের শিরোমণি অ্যাডলফ্‌ হিটলারের চরিত্রের কিছু ভালো দিক গুলো যদি খুজতে যান তবে কি উত্তর আসবে ? হ্যাঁ তা আছে বইকি। মানুষ সবসময় সাদা আর কালোর মিশ্রণে হয়। কোন মানুষের মধ্যে আলোর উপস্থিতি বেশী, কোন মানুষের মধ্যে আঁধারের। হিটলার যে এই দ্বিতীয় ধরণের মানুষ, সেটা বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণই ছিল তাঁর মাত্রাহীন আগ্রাসন ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ।

এইরকম একটা মানুষ সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে কিছু লিখতে যাওয়া বেশ কঠিন, কারণ উৎসগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই পক্ষপাতদোষে দুষ্ট। হিটলার তাঁর চরিত্র নিয়ে পৃথিবীব্যাপী যে মেরুকরণ তৈরী করেছিলেন সাধারণ মানুষের মধ্যে, সেটা তৎকালীন ইতিহাসের খতিয়ান থেকে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। ওই সময়ের অধিকাংশ ঐতিহাসিকের লেখনী এবং সরকারী নথিপত্রে হয় তাঁর ভূয়সী প্রশংসা উপস্থিত, নয়তো কঠোর সমালোচনা। এই প্রশংসায় ভরপুর নথিপত্রগুলো তৈরী হয়েছিল হিটলারের অনুগামীদের হাতে; সেগুলির আসল উদ্দেশ্য ছিল হিটলারের পা-চাটা, আর তাই খুব সঙ্গত কারণেই ঐতিহাসিকরা এইগুলির অধিকাংশকেই বিশেষ আমল দেননি। এছাড়া হিটলারের নিজের আত্মজীবনী ‘মাইন কাম্ফ’-কে প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসাবে হয়তো নেওয়া যেত, কিন্তু সেই বইটিরও এত কথা পরবর্তীকালে মিথ্যা প্রমাণিত হয় যে সেটিকে কোনভাবেই ইতিহাসের উৎস হিসাবে গণ্য করা যায় না।

বাকি থাকেন মিত্রপক্ষের ঐতিহাসিকরা, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সরকারী কর্মী এবং পক্ষপাতদোষে দুষ্ট। তাঁদের তৈরী ‘ইতিহাস’-এ হিটলারের সমালোচনা ছাড়া আর কিছু নেই বললেই চলে। বিজয়ীপক্ষ, তাই তাঁদের তৈরী ইতিহাস গোটা পৃথিবীতে মান্যতা পায়। আর সেই কারণেই তাঁর মৃত্যুর এতগুলো বছর পরেও, জনসাধারণের মননে তাঁর প্রতি অশেষ ঘৃণা পুঞ্জীভূত।

কিন্তু পৃথিবীতে সব যুগেই এমন কিছু ঐতিহাসিক ছিলেন যাঁরা সর্বদা চেষ্টা করেছেন ব্যক্তিগত মতামতের ঊর্ধ্বে গিয়ে নিস্পৃহ দৃষ্টিতে বিভিন্ন তথ্য ও ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ করে সাধারণ মানুষের সামনে নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার। ইতিহাসের কাণ্ডারী, চিরকাল অতীতের অন্ধকারে থেকে যাওয়া এই মানুষগুলির জন্যই আজ আমাদের ইতিহাস পক্ষপাতীত্বের চাপে অবনমিত নয়।

যাক গে, অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে ফেললাম। এবার সরাসরি উত্তরে আসা যাক। অন্তর্জাল ঘেঁটে হিটলারের সম্পর্কে ‘ভালো কথা’ যতটা যা জানতে পারলাম, সবই তুলে ধরছি নীচে।

ধূমপান-বিরোধী:

কম বয়সে মাত্রাতিরিক্ত ধূমপান করতেন হিটলার। কিন্তু জার্মানীর সর্বাধিনায়ক পদে অভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি ঘোর ধূমপানবিরোধী হয়ে পড়েন। তিনি মনে করতেন সিগারেট পয়সা-ধ্বংস ছাড়া আর কিছু করে না। জনপরিবহণ ব্যবস্থায় ধূমপান নিষিদ্ধ্ব করে দিয়ে তিনি একটি ধূমপানবিরোধী প্রচারাভিযানও চালান।

পশুপ্রেমী ও নিরামিষাশী:

সাধারণ মানুষের প্রতি যাঁর দয়ামায়ার এত অভাব, লক্ষ লক্ষ ইহুদির সর্বনাশ করতে যাঁর হাত কাঁপেনি, সেই হিটলারই আবার আশ্চর্য রকমের সংবেদনশীল ছিলেন পশুদের প্রতি। তাদের ওপর কোন রকম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরিক্ষার ঘোরতর বিরোধী ছিলেন তিনি, আর তাই দেশে ভিভিসেকশন(Vivisection) অর্থাৎ গবেষণার কাজে পশুদের দেহ-ব্যবচ্ছেদকে নিষিদ্ধ করেন নাৎসী পার্টি ক্ষমতায় আসার পরেই। মাছ-মাংস তিনি ছুঁতেন না। হিটলারের ইচ্ছা ছিল যুদ্ধজয়ের পর নিরামিষাশী জীবনযাপনকে জার্মানীর জাতীয় নীতি হিসাবে ঘোষণা করবেন।

এছাড়া জানা যায় হিটলারের দুটি প্রিয় কুকুর ছিল, ব্লন্ডি(Blondi) ও বেলা(Bella)। প্রাণাধিক প্রিয় ব্লন্ডিকে হিটলার আত্মহত্যা করার আগে হত্যা করেন, যাতে তাঁকে ছাড়া কুকুরটিকে কষ্ট করে বেঁচে না থাকতে হয়।

পুরোনো ধারার চিত্রশিল্পের ভক্ত:

জোহানেস ভারমির (Johannes Vermeer), অ্যাল্ব্রেখট ড্যুরর (Albrect Durer), লুকাস ক্রানাক (Lucas Cranach the Elder),হান্স থমা (Hans Thoma) প্রমুখ প্রবাদপ্রতিম জার্মান চিত্রকরদের অন্ধ ভক্ত ছিলেন হিটলার। হিটলার সাহেবের ইচ্ছা ছিল, এই সমস্ত জগত শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পীদের সব শিল্পকর্ম নিয়ে একটি মিউজিয়াম গঠন করার।

যদিও প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আধুনিক চিত্রশিল্পের বিভিন্ন ধারাকে(যেমন Cubism) তিনি একদমই পছন্দ করতেন না। মনে করতেন, আগেকার শিল্পধারাই শ্রেষ্ঠ, এবং শুধুমাত্র তারই চর্চা হওয়া উচিত।
চিত্রশিল্পী রূপে প্রথম জীবন ও শিল্পচর্চা: হিটলার একজন চিত্রশিল্পী হতে চাইতেন রাজনীতিতে প্রবেশের আগে। চিত্রশিল্প নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য তিনি দুইবার ভিয়েনা শিল্প বিদ্যালয়ে আবেদনও করেন। দুইবারই তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। প্রকৃতপক্ষে হিটলারের ফ্যাসিবাদী ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশের অন্যতম কারণ ছিল চিত্রশিল্পী হিসাবে তাঁর অসফলতা। চিত্রশিল্পে আগ্রহ ছাড়াও হিটলারের সীমাহীন আগ্রহ ছিল অপেরা সঙ্গীতে। বিশেষত জার্মান নাট্যপরিচালক ওয়াগনারের (Wagner) অপেরা লোহেনগ্রিন (Lohengrin) ছিল তাঁর অসম্ভব প্রিয়।

অর্থনীতি সংষ্কার:

১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে জার্মানীতে সোশ্যালিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার আগে, জার্মান অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী মন্দা ‘দ্য গ্রেট ডিপ্রেশন'(The Great Depression) এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যাবতীয় দেনার সাঁড়াশি চাপে ধুঁকছিল। জাতীয় কোষাগার শূন্য হয়ে পড়েছিল। জার্মানীর জমি, বাড়ি সবকিছু দেশের মানুষদের হাত থেকে বিদেশী ব্যাঙ্কারদের অধীনে চলে যাচ্ছিল। জার্মানরা খাদ্যাভাবে কোন রকমে জীবনধারণ করছিলেন।

হিটলার জার্মানীতে তাঁর শাসনতন্ত্র কায়েম করার পর পরই তিনি সমস্ত আন্তর্জাতিক ধার বাতিল করে দিয়ে জার্মানীর নিজস্ব মুদ্রা প্রবর্তন করেন এবং একটি জাতীয় অর্থনৈতিক প্রকল্প তৈরী করেন সাধারণ মানুষের জন্য। সেই প্রকল্পে তিনি বিভিন্ন জনসাধারণ-কল্যাণমূলক কাজ যেমন বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নতুন রাস্তা, সেতু, ক্যানাল তৈরী, বন্দর তৈরী, বাড়ি ও সরকারী কার্যালয়ের পুনঃনির্মাণ ইত্যাদি রূপায়নের চিন্তা করেন। এই প্রকল্পে সাধারণ মানুষকে বেতন হিসাবে জার্মান গভর্নমেন্ট ‘শ্রম শংসাপত্র'(Labour Treasury Certificate) প্রদান করেন। এই শংসাপত্রটি ছিল কোন সাধারণ মানুষের সরকারকে দেওয়া শ্রম অথবা দ্রব্যের প্রমাণ। যখন এই শংসাপত্রের অধিকারীরা অন্যত্র এই শংসাপত্র ব্যবহার করতেন মুদ্রা হিসাবে, তখন আরও কাজ তৈরী হত। এভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে জার্মান মানুষ তাঁদের শোচনীয় অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসেন এবং অর্থনীতিকে নতুন শিখরে পৌঁছে দেন।

মাত্র পাঁচ বছরে জার্মানী ইউরোপের সবচেয়ে গরীব দেশ থেকে সবচেয়ে ধনী দেশে পরিণত হয়। বেকারত্ব সমস্যা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যায়। মুদ্রাস্ফীতি বন্ধ হয়। হিটলার সুচতুরভাবে একইসঙ্গে দ্রব্যের চাহিদা ও যোগান বাড়িয়ে জিনিসের দাম স্থিতিশীল রাখেন। এককথায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য অস্ত্র-নির্মাণ করার আগে পর্যন্ত জার্মানী ছিল সেই সময়ে পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধশালী দেশ।

অনেকে মনে করেন, এভাবে আন্তর্জাতিক ধার বাতিল করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কারকে চটানো এবং সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠা জার্মানীর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।

জাতীয় সড়কপথ নির্মাণ:

চ্যান্সলর এডলফ হিটলারের আমলেই জার্মানীর মানুষ দেখেন ইউরোপের সেই সময়ের সব থেকে বড় নির্মাণকাজগুলির মধ্যে অন্যতম নির্মান কাজ ছিল— সেই জাতীয় সড়কপথ ব্যবস্থা । জার্মানীর দূরতম প্রান্তগুলি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এই সড়ক পথের মাধ্যমে । একটি সুসংহত সড়ক-পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে সারা দেশ জুড়ে… আর এর সবটাই ছিল হিটলারের মস্তিষ্কপ্রসূত।

পরবর্তীকালে হিটলারের ‘ভালো দিক’ সম্পর্কে আরো কিছু জানতে পারলে অবশ্যই সংযোজন করব।

আশা করি, আমার উত্তর পাঠকের কৌতূহলকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।

ধন্যবাদ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©2021 All rights reserved © kalakkhor.com
Customized By BlogTheme
error: Content is protected !!