Site icon কালাক্ষর

নদীর নাম যন্ত্রণা

নদীর নাম যন্ত্রণা

সোলায়মান জুয়েল

আমি ছোট বেলা থেকেই জীবন নিয়ে খুব বেশি স্বপ্ন দেখি নাই। আমার যাস্ট দুইটা স্বপ্ন ছিল। এক আমি ফিল্ম বানাবো। আর একটা আমার একটা ফ্যামিলি থাকবে। আমার বউ আমায় কতটা ভালবাসবে। আমায় কতটা টেক কেয়ার করবে। আমার কতটা আজ্ঞাবহ থাকবে। এই নিয়ে আমি কোন দিন ভাবি নি- আমি কেবল ভেবেছি – রাত্রে ঘুমাতে যাবার আগে যেন তাকে দেখে মনে হয় ঘুম ভাংগার পর আমার পাশে আমার সব চেয়ে কাছের মানুষ টা আছে। কিন্তু কি দুঃভাগ্য আমার আল্লাহ আমার সেই আশা পুরন করেন নাই। আর করবে যে তার আশা ও করি না। কিন্তু খুব খারাপ লাগে এইটা ভেবে – আমি জানি আমি খুব ভাল মানুষ নই। আমি ও চলার পথে – ভুল ভাল করি। মনের কল্পনায় আবল তাবল ভাবনা ও আসে৷ কিন্তু এইটা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি। আমি যত দিন রিলেশান শীপে (প্রেম করেছি) ছিলাম আমি কোন দিন আমার পার্টনার কে রেখে অন্য কারো দিকে তাকাই নি। তাকে কোন ভাবেও ঠকাতে চাই নাই। ১০০% রেস্পেক্ট ছিল তার প্রতি। কিন্তু তার পরেও আমার রিলেশান টেকে নাই। টেকাবার ট্রাই করেছি কিন্তু তার পরেও তারা আমায় ঠিক ই ছেড়ে গেছে।
তা নিয়ে আমি তাদের অভিযোগ ও করতে যাই নাই। ফিরে আসো ফিরে আসো বলে তাদের ইরিটেড ও করি নাই। কারন বরং ছেড়ে যাওয়াদের কেউ কেউ বিরক্ত হয়ে বলেছে আমি কেন তাদের এই সব বলি নাই। আমি তখন তাদের বলেছি। তোমায় যতটা ভালবাসতাম তার চেয়ে বেশি রেস্পক্ট করতাম। তোমার আমায় নিয়ে নেওয়া ডিসিশন কে রেস্পেক্ট করি/করতাম। তাই চুপ থাকি/ছিলাম। আমায় ছেড়ে যাবার হয়ত অনেক কারন ছিল তোমার/ তোমাদের। না হলে অন্তত একটা কারন আছে/ছিল । কোন কারন না থাকলে হয়ত আমার চেয়ে ও ভাল কাউকে পেয়েছো- আর তোমার মনে হয়েছে আমার চেয়ে সেই তোমায় বেশি ভাল রাখতে পারবে। তাই চুপ থাকি/ছিলাম। কারন আমি তোমার বিরক্তির কারন হতে চাই না। কিন্তু এত দিন পর আমার মনে হয়- এত ভালমানুষ না হলেও পারতাম। তাতে কেউ না কেউ হয়ত ব্যাক করতো। হয়ত আমার তা হলে একা থাকতে হত না। কিন্তু- আবার ভাবি – না ঠিক করেছি। তাতে আমার তাদের প্রতি যে রেস্পেক্ট ছিল তাতে অন্তত কালিমা লাগতে দেই নাই। আমায় যারা চুরান্ত ভাবে কষ্ট দিয়ে চলে গেছে, তাদের কেউ কেউ তাই ফোন দিয়ে বলে – “তোমার কথা মনে হলে আমি তোমার খারাপ কোন স্বভাব খুজে পাই না”।

সোলায়মান জুয়েল

আমি তখন তাদের বলি- আমি তোমার মনে আমার প্রতি মায়া জাগাতে পারিনি,এইটা আমার খারাপ গুন, তোমার সিদ্ধান্ত রাইট ছিল, আমি তোমায় পাবার যগ্য ছিলাম না। আমি হয়ত খুব ভাল কিছু করিনি- বলার মত এমন কোন ভাল কাজ ও করিনি, কিংবা আমার ভিতর কাউকে আকৃষ্ট করার মত কিছুই নেই। গড় পড়তা এভারেজ আমি। তবে আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি- আমি ভন্ড নই। আমি কাউকে ঠকাই নাই। শুধু বাস্তবিক জীবন নয়- আমার কর্মক্ষেত্রে ও আমি এমন কোন কাজ করি নাই যা আমি নিজে অপছন্দ করি- কিংবা আমি বিলিভ করি না তেমন কোন গল্পের ও কাজ করি নাই কোন দিন। প্রেমের নাটক, রোমান্টিক নাটক, কিংবা হাসির নাটক বানাই নাই, কারন বাস্তবিক জীবনে কোন দিন আমায় কেউ ভালবাসে নাই, তাই আর যা আমি পাই নাই সেই গল্প দিয়ে কেন নাটক বানাবো? হাসির নাটক বানাই নাই কারন আমি প্রান খুলে শেষ কবে হেসেছি মনে করতে পারি না, তাই আমার কাছে মনে হয়- হাসির নাটক বানানো হলে নিজেকে ঠকানো হবে, আমি গরীব মানুষের জীবন সংগ্রাম নিয়ে কোন দিন নাটক বানাই নাই কারন মানুষের গরীব হওয়াটা বিধাতার এক অভিষাপ। আমি এই টপিক নিয়েও কাজ করিনি- যদি করতাম তবে আমার বানানো নাটকের সংখ্যা ৭৬ নয় কয়েক শো হইত।
অনেক বার ই চেয়েছি বানাতে, কিন্তু কাজ শুরু করার পর মনে হয়েছে আমি দর্ষক তো বটেই আমি নিজেকেও ঠকাচ্ছি। আর তাতে মনের ভিতর এতটা দন্দ তৌরী হত যে, এই প্যাড়া থেকে বাচতে আমার কাজ স্টপ করে দিতে হত। রোজ রং পালটানো এই মিডিয়ার মানুষ গুলো যারা খুদ্রতম সার্থের জন্য অন্য কারো ক্ষতি করতে পিছু পা হয় না। সেই খানে আমি আমার যত গুলো নাটক মানুষের টাকায় বানিয়েছি তার কোন কোন নাটকের বাজেটে র টাকা যদি শুটিং এর পর বেচে যেত। আমি প্রডিউসার কে তা ফেরত দিয়ে এসেছি। এক বার নয় দুই বার নয়- অনেক বার এমন হয়েছে। কারন আমি চোর নই। আমি ঠকাতে চাই নাই কোন দিন কাউকে। এক সময় ছাত্র ইউনিয়ন এর অনেক বিষয় আমার ভাল লাগতো। শ্রম, শ্রমিকের মুল্য, আর কিছু নীতিবোধ ওই সময় আমার ভিতর ভাল ভাবেই গেথে যায়। আর এইটা কাউকে বলার জন্য নয়। কিংবা পৃথিবী পাল্টাবার ব্রত নিয়ে ও নয়, যাস্ট নিজেকে পাল্টাবার ব্রত নিয়েই সব সময় চেয়েছি বলেই হয়ত।
আমার সাথে যারা কাজ করেছেন, তাদের অনেক কেই আমি শুটিং এর অনেক আগে তাদের পারিশ্রমিক দিয়ে রেখেছি আগাম। এখন হয়ত অনেক আর্টিস্ট দের অগ্রীম টাকা দিতে হয়, কিন্তু আমি ২০১১ সালে আমার নাটকের আর্টিস্ট তো বড় ক্যামেরা ভাড়া, লাইট ম্যান, ক্যামেরা ম্যান, প্রডাকশন বয়দের টাকা শুটিং এর ২০ দিন আগে দিয়ে রাখতাম। আর তা আমি ইচ্ছা করেই দিয়ে রাখতাম। কারন তাদের টাকা দিতেই হবে। আমার কাছে রাখলে খরচ হয়ে যাবার সম্ভাবনা প্লাস শ্রমিকের ঘামের টাকা তার ঘাম শুকাবার আগেই দিয়ে দেওয়া ভাল তার চাইতে ভাল অনেক আগেই দিয়ে রাখা। এই ধারনা পোষন করতাম বলেই।nতাই বলে ভাববেন না আমি অনেক আদর্শবাদী –
আমার এই গুনের জন্য দুই জন মানুষ দায়ী। এক নাম্বারে রাখবো হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) তার একটা ঘটনা পড়েছিলাম “একবার একজন মা তার ছেলেকে নবী করীম (সাঃ) এসে বলেছিলেন তার ছেলে প্রচুর মিষ্টি জাতীয় খাবার খায়। তিনি যেন তাকে মানা করে দেন। নবী করিম (সাঃ) তখন সেই মহিলাকে বলেছিলেন সাত দিন পর আসতে। সাত দিন পর ওই মহিলা আবার যখন আসেন তখন তিনি ওই মহিলার ছেলেকে মিষ্টি খাবার কথা মানা করেছিলেন। প্রথম দিন না বলে কেন সাত দিন পর তিনি ওই মহিলার ছেলেকে বললেন? এই ঘটনার কারন জানতে চেয়ে এক সাহাবীর উত্তরে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছিলেন, আমি নিজেও প্রচুর মিষ্টি খাওয়া পছন্দ করি। আর আমি ওই দিন সাত দিন পরে আসার কথা বলেছিলাম এই কারনে যে এই সাত দিন আমি নিজেও মিষ্টি খাই নাই। আমি যে জিনিস খাই, তা যদি অন্য কাউকে খেতে মানা করি। তা মোটেও শোভনীয় হত না।
২ য় জন হল লিও টলষ্টয় – এই বেচারার অনেক লেখা আমি খুব ছোট বেলায় পরছি। তার একটা কথা আমার মনে এখনো গেথে আছে – ” দুনিয়ার সবাই পৃথিবী পালটে দেবার স্বপ্ন দেখে। অথচ নিজেকে পাল্টাবার কথা কেউ ভাবে না”।
আমি খুব সাধু মানুষ নই, জীবনে ভুল করেছি অনেক, কোন টা ভুলে, কোন টা বাধ্য হয়ে, আবার কোন টা একটু ভাল থাকার আসায়, কিন্তু আমার সেই ভুল গুলো কারো ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায় নি। আমি জানি – অন্য সবার মত আমায় ও অনেক মানুষ হেট করে। কেউ নিজেদের দলে ভেড়াতে পারে নি বলে। কেউ তার সার্থ হাছিল করতে পারেনি বলে। কেউ বা আবার (……….), তবে আমি জানি, তারা আমার সামনে এসে বলতে পারবে না আমি খারাপ। কিংবা আমার নামে অভিযোগ করা মানুষ টিকে যদি প্রশ্ন করেন কেন আমায় হেট করে কিংবা খারাপ বলছে তার সম্পর্কে একটা প্রমান দিক। দেখবেন পারবে না।

সোলায়মান জুয়েল

শুধু ঢাকা কিংবা আমার কর্ম ক্ষেত্রই নয়- আপনি আমার গ্রামে যাবেন? ওই খানে প্রায় ২০০০ মানুষের বাস। আপনি যদি প্রশ্ন করেন আমি কেমন? ১৯৮০ জন মানুষ বলবে আমি ভাল৷ কারন আমি ছোট বেলা থেকেই যে খানে থেকেছি যে আমার বড় তাকে সম্মান দিয়েছি। আর যে ছোট তাকেও ভালবাসা দিয়েছি। তার তাই তারা আমায় খুব ভাল বাসে। ২০০০ এর ভিতর ১৯৮০ জন বলেছি বাকি ২০ জন কারা জানেন? আমার জন্ম দাতা ( বাবা না। স্রেফ জন্ম দাতা) আমার জন্ম দাত্রী ( মা নয়। মা হতে অনেক যোগ্যতার দরকার হয়) বাকি ১৮ জন আমার জন্ম দাতার পোষ্য। বিষয় টা এমন আমার গ্রামে চরম মারা মারি লাগছে। দুই দল ভাগ হয়ে মাইর পিট করতেছে। আমি যদি তার মাঝ খান দিয়ে যাই দুই পক্ষ ই আমার চলে যাওয়া পর্যন্ত মারা মারি স্টপ করবে। কিংবা আমার স্বয়ং জন্ম দাতার চরম শত্রু আমার জন্ম দাতারে মেরে ফেলতে ঘুরতেছে আমি যদি ওই খানে গিয়ে দাড়াই ওই লোক তখন কিছুই বলবেনা৷ লাঠি ফেলে আমার সাথে আড্ডা দেওয়া শুরু করবে। এর কারন কি জানেন? তারা সবাই জানে আমি তাদের খারাপ চাই না। সব সময় ভাল চাই। সবাই কে সম্মান করি। রেস্পেক্ট করি। আর এটা লোক দেখানো নয়। আমি মন থেকেই করি। এখন যদি প্রশ্ন করেন, সবাই যখন ভাল বলে আমার জন্ম দাতা কেন খারাপ বলে? হ্যা- আমি তাদের কাছে খারাপ, কারন তারা আমার সাথে জন্মের পর থেকে অন্যায় করেছে। আমার আজকের এই ব্যার্থ জীবনের জন্য তারাই সব চেয়ে বেশি দায়ী। তারা আমায় কোন দিন বোঝে নি। তারা শুধু নিজেদের সার্থ নিয়ে ব্যাস্ত থেকেছে। আর তারা এতটা সার্থপর যে – এই খানে ছেলের সার্থ ও তাদের কাছে নিজের সার্থ মনে হয় না। যে ছেলে কোন দিন ইভ টিজিং করেনি, যে ছেলে কোন দিন কোন ক্রাইম করে নি, যে ছেলের জন্য তাদের কারো কাছে হাত জোর করে ক্ষমা চাইতে হয় নাই, যে ছেলে কে নিয়ে কোন দিন থানায় যেতে হয় নাই। সেই ছেলে তাদের কাছে খারাপ, কেন খারাপ? যদি তাদের হাতে কোরআন শরীফ হাতে দিয়ে যদি বলেন আমার কি দোষ? তারা বলতে পারবে না।
আমি তো বারবার বলি- আমি যদি সুইসাইড করি, তবে তার জন্য এক মাত্র দায়ি হল আমার জন্ম দাত্রি মা। আর এইটা প্রুভ করতে সুইসাইড নোট লিখে যাবার ও দরকার হবে না। কারন তাদের জন্য আমার জীবন টা শেষ হয়ে গেছে। ছোট বেলা থেকে কোন দিন আমার জন্ম দাত্রীর কাছে এক দিন ও মায়ের আদর পাই নাই। সারা দুনিয়ার সব মানুষের শেষ আশ্রয় হল তার মায়ের আচল। কোথাও কোন জায়গা না পেলে। সবাই তাকে ছেড়ে গেলেও মায়ের কাছে তার সন্তানের ঠিক ই আশ্রয় পায়। আর আমি? সবার আগে আমায় যে মানুষ ট লাথি মারবে সে হল আমার জন্ম দাত্রী।
নিহায়েত তার গর্ভে আটকে গিয়েছিলাম তাই হয়ত আমি দুনিয়াতে এসেছি। নইলে হয়ত। সারা জীবন আমি #আনওয়ান্টেড_চাইল্ড হয়েই রয়ে গেলাম তাদের কাছে। নইলে, আমি গরীব ঘড়ে জন্মাইনি, আমি যদি আমার জন্ম দাতার সম্পত্তির ( আমার ভাগের) অর্ধেক পেতাম তবে হয়ত আজ আমার ঢাকায় গাড়ি বাড়ি বানাতে বেশি দিন লাগতো না। কিন্তু তাদের জীবনে আমি যাস্ট #অপ্রত্যাশিত, বিনা কারনে তাদের টরচার সয্য করতে হয়েছে আমার আজীবন। দোষ নাই ঘাট নাই, তার কর্মক্ষেত্রে কেউ তাকে ঠিকিয়েছে সেই লোক কে কিছু না বলে আমার জন্ম দাতা রাত্রে এসে আমার উপর তার রাগ ঝাড়তো। কি দিয়ে জানেন? লোহার রড দিয়ে। আমার সারা পিঠে দেখবেন কেবল দাগ। এগুলো সব ওই সময় কার। প্রচন্ড মাইর খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতাম, আমার জন্ম দাত্রী মা তা দূরে দারীয়ে দারীয়ে দেখতো। কোন দিন আমার জন্ম দাতারে বলে নাই এইবার একটু থামো। এমন নয় আমার জন্ম দাতা তার বউ ( আমার জন্ম দাত্রীকে) এই জন্য রাগ দেখাতো। সে তখন ঠিক ই থামতো।
কারন তাদের ভিতর আন্ডাস্ট্যান্ডিং খুব ভাল। আর জীবনে তাদের ভিতর কোন দিন ঝগড়া করতে তো নয় ই একে অপরের বিপক্ষে মতামত দিয়েছে তাও দেখি নাই। মিথ্যা বলবো না, আমি তাদের প্রচন্ড ঘ্রীণা করি। তাদের কথা মনে হলে মনে মনে একবারের জন্য হলেও গালাগালি দেই। কিন্তু আবার এইটাও চাইতাম যদি আমার সংসার হত, আমার বউয়ের সাথে ও আমি এমন ভাবেই থাকতে চাইতাম।
যাই হোক, আমি প্রচন্ড মারের কারনে জ্ঞান হারাতাম কিন্তু তার পরেও আমার সেই জন্ম দাত্রি কোন দিন থামায় নি। বরং আমার গায়ে যখন মাইরের জন্য চাকা চাকা দাগ হত। আমার মায়ে তখন সেই খানে লবন লাগাইয়া দিত। আমি প্রচন্ড যন্ত্রনায় চিৎকার পারতাম। তখন সে আমায় আর এক চোট মাইর দিত চিৎকার কেন করি এই অপরাধে। চোখ বুঝলেই আমার এই সব মনে হয়। এখনো হাউ মাউ করে কাদি। এক জন ভরসার মানুষ খুজি। সারা জীবন যা আমি পাই নাই। ভেবেছিলাম বিয়ে সাদি করে হয়ত আমার জীবনের অপুর্নতা টা পুরন করতে পারবো। হয়ত কেউ এক জন আমার সত্যি হবে। সে পুর্বে যত যাই করুক, রিলেশান শীপের শুরুর দিন থেকে তাকে যাস্ট আমাদের সম্পর্কটি যেন ফেইথ আর রেস্পন্সিবল হয় সেই টা রিকোয়েস্ট করতাম।

নদীর নাম যন্ত্রণা

কিন্তু আমি যে জন্ম অভাগা তার জন্য সেই ভাগ্য ও আমার হল না। ৩৯ চলে। আমার পরিচিত সব বন্ধু বান্ধব বিয়ে করে সংসার ধর্ম নিয়ে নিজের জীবনে স্থীরতা নিয়ে এসেছে। যাদের অনেকেই আবার চারিত্রিক ভাবে কোন কাতারেই পড়ে না। বউ কে ঠকায়। বাসায় বউ রেখে বাইরে অন্য মেয়েদের সাথে ফ্লাটিং করে বেড়ায়। আর আমি? তাদের দেখি- আমি দির্ঘ স্বাস ফেলি। হয়ত ওরাই মানুষ। দুনিয়ার জন্য পার্ফেক্ট। আমি অপ্রত্যাশিত, প্রয়োজন হীন, কেউ আমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখবে তেমন যোগ্যতা আমার নেই।
বাস্তব জীবনে অনেক আন হ্যাপী ফ্যামিলী দেখি। অনেক কে চোখের সামনে যন্ত্রনা পেতে দেখি। অনেক কে ডিভোর্স হতে দেখি। আবার ব্রেক আপ করতে ও দেখি। যখন দেখি তখন তাদের চোখে অনেক কষ্ট দেখি। ভাল মানুষ নয়, টাকা আর ভাল ক্যারিয়ার দেখে তারা বিয়ে করেছিল। কেউ নিজে নিযে আবার কেউ ফ্যামিলির কথায়। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পর যখন তারা বুঝতে পারে ভুল হয়ে গেছে তখন তাদের ভিতর জমা কষ্ট দেখে আমার কষ্ট হয়। মনে মনে ভাবি আমি শিল্পী মানুশ আমার হয়ত বেশি টাকা নেই। হয়ত অন্য সব মিডিয়ার মানুষদের (ডিরেক্টর) মত স্ট্যাবল ভবিষ্যৎ ও নেই। কিন্তু আমি আমার বউ কে এতটা কষ্ট পেতে দেখে সয্য করতে পারতাম না। তার পর সেই সব লোক জন দের ভিতর অনেকের ই ডিভোর্স /ব্রেক আপ হয়। এই সব দেখে আমি আশাবাদি হই। ভাবি আগের বার হয়ত তারা ভুল করেছে। এই বার হয়ত পার্টনার খুজতে মানুষের ভাল গুনাবলি ও প্রাধান্য পাবে। কিন্তু শেশ মেশ তারা আবার সেই ভুল আবার করে। আর তাই আমি আর আমার মত মানুষ দের অবস্থা আগের মতই থেকে যায়।
যাই হউক- ভিষন মন খারাপ- তাই এই সব আজে বাজে লেখা লিখছি। হয়ত পোস্ট করা হবেও না। করে কি হবে? কেউ করুনা করবে? আহা উহু রিয়াক্ট করবে, হয়ত অনেকে আমাকে আমার পার্সোনাল কথা এই ভাবে ফেসবুকে লিখে স্ট্যাটাস দিচ্ছি কেন এই জন্য হাসা হাসি ও করতে পারেন। পুর্বের মত আজ ও সুইসাইড করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু পারলাম না, সুইসাইড করতে গেলে যে সাহস লাগে, তা আমার নাই আজ আর এক বার প্রমানিত হল —
(নদীর নাম যন্ত্রণা)
সোলায়মান জুয়েল 
নাট্যকার/ পরিচালক/ পরিচালক
Exit mobile version