Site icon কালাক্ষর

“ছায়াবাজি” সিনেমা নিয়ে বিতর্ক –

“ছায়াবাজি” সিনেমা নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত অভিমত –

সোলায়মান জুয়েলঃ- আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন অতি সম্প্রতি আমি “ছায়াবাজি” শিরনামে একটা ফিল্মের কাজ হাতে নিয়েছি – আর যার এক লটের শুটিং ও সমাপ্ত হয়েছে। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে এক জন পরিচালক একটা ছবির শুটিং এর শেষে যে বিষয় নিয়ে সচারচর উত্তর দিয়ে থাকেন আমার দুর্ভাগ্য যে আমি সেই প্রসঙ্গ তে কিছু না বলে কয়েক দিন ধরে প্রিন্ট আর অন লাইন মিডিয়াতে আমার সিনেমায় কাজ করা এক অভিনয় শিল্পীর মানষিক সমস্যার দরুন আমি আর আমার ইউনিটের সবাই যে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন তার বিষয়ে লিখতে হচ্ছে – কিন্তু অন্যের ব্যাপারে কিছু লেখার আগে নিজের ওই কাজ টার কথা আগে বলা দরকার – আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন আমি গত দশ বছর ধরে টিভি নাটক নির্মানের সাথে জড়িত, আর আমার পরিচালনায় এর আগে ৭৪ টি নাটক নির্মিত হয়েছে – যার ৭২ টি নাটক অন এয়ারে এসেছে বাকি দুইটি প্রসেসিং এ আছে – মিথ্যা বলবো না “ছায়াবাজি” যে টা বর্তমানে সিনেমা হয়ে গেছে সেই গল্প দিয়ে “ছায়া পাপ” শিরোনামে আমার একটি টেলিফিল্ম বানাবার কথা ছিল, আমি আর্টিস্ট এর ডেট নিয়েছিলাম আবার এর জন্য এক জন প্রডিউসার ও ঠিক ছিল। কিন্তু টেলিফিল্ম টি বানাবার আগে এক দিন “ছায়াবাজি” এর বর্তমান প্রযোজক রাজু আলীম এর সাথে কথা প্রসঙ্গে এর গল্প শেয়ার করি – উনি গল্প শুনে আমায় টেলিফিল্ম নয় বরং এইটা একটা ক্লাসিক ফিল্ম এর গল্প বলেন, শুধু রাজু আলীম ই না অনেকেই বলতেছিল ভাই টেলিফিল্ম বানিয়ে গল্প টা নষ্ট কইরেন না, কিন্তু আমি নাটক বানাই ফিল্ম কোন দিন বানাই নাই, আর যে হুতু ফিল্ম খুব বড় একটা মাধ্যম আর এর বাজেট অনেক বেশি আর আমার পক্ষে তা ম্যানেজ করা পসিবল না তাই টেলিফিল্ম বানিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চেয়েছিলাম – কিন্তু যখন রাজু আলীম আমায় ফিল্ম বানাবার বাজেট জোগার করে দিবেন বলে কথা দিলেন তখন আমি টেলিফিল্মের গল্পটি ভেংগে চুরে ফিল্মিক টোন দেই, আর সেই অনুযায়ী স্ক্রিপ্ট ও দাঁড়িয়ে যায়, এবং রাজু আলীম সাহেব ছায়া পাপ পালটিয়ে ছায়াবাজি নাম দেন – আর এই বিষয় টি নিয়ে আমি আমার আর্টিস্টদের সাথে কথা বলি- বিশেষ করে মৌসুমি হামিদ ও শারমীন জোহা শশী এর সাথে টোটাল বিষয় টি নিয়ে কথা বলি – তারা সবাই আমাকে কাজ করার উৎসাহ ও দেন – 

আমি কাজের আগে তাদের রেমুনারেশান নিয়ে কথা বলি – আর বলি যে হুতু নাটক এর ডেট নিয়েছিলাম পার ডে হিসাবে তাই ফিল্ম টার রেমুনারেশান আমি ডে বেজড দিবো – যে কয়দিন লাগে – তারা তা নিয়ে কোন আপত্তি করেন ও নাই, আপত্তি যা ছিল তা শশির ছিল আর তা হল, ভাই টেলিফিল্ম বানান আর ওয়েব ফিল্ম কিংবা ফিল্ম যা ই বানান আমি করতে রাজি আছি, কিন্তু – “ছায়াবাজি” সিনেমায় মৌসুমি হামিদের করা ছায়া ক্যারেক্টর এর নাম চেঞ্জ করতে হবে, কেননা “ছায়াবাজি” তে মৌসুমির করা ক্যারেক্টর এর নাম ছায়া দিলে দর্ষক নাকি বলবে এইটা মৌসুমি এর সিনেমা, শুনে কিছুক্ষন হেসেছিলাম – আর বলেছিলাম আর দর্শক ক্যারেক্টর এর অভিনয় দেখে কি নাম এইটা দেখে না, কিন্তু তার এক কথা নাম চেঞ্জ করেন, আর এইটা শুধু মৌখিক নয় তিনি যদি শুটিং স্পটে গিয়ে কোন স্ক্রিপ্টে মৌসুমীর নাম ছায়া দেখেন তো তিনি কাজ ফেলে চলে আসবেন, কথা টা শুধু সিনেমার প্রসঙ্গ এলেই তিনি বলেন নি যখন টেলিফিল্ম বানাতে গিয়েছিলাম তখন ও তিনি এই কথা বলেছিলেন, কিন্তু আমি প্রথমে আমলে না নিলেও যখন হুমকি দিলেন শুটিং স্পটে গিয়ে চলে আসবেন বললেন তখন আমি মৌসুমি কে বিষয় টি জানাই,

মৌসুমি শুধু ভাল অভিনয় শিল্পী ই নয় সে খুব ভাল মানুষ ও, আর তাই সে বলে ভাইয়া ফিল্মে আমার ক্যারেক্টর এর নাম যা ইচ্ছে দিয়ে দাও, এতে আমার হেডেক নাই, তুমি এই নিয়ে কোন প্যাঁড়া নিয়ো না, আর পুরো সিনেমায় ছায়া নাম টা যাস্ট দুই বার উচ্চারণ করা হইছে, এটা পালটালে কি আসে যায়, শশী আপু যা বলছে তার কথা শুনো, আমি তাই করেছি, বলতে খারাপ লাগে, উনি আমায় শুটিং আর আগের দিন রাত্রে আবার সব স্ক্রিপ্ট এর নাম চেঞ্জ করে নতুন করে প্রিন্ট করাতে বাধ্য করেছেন, আমি তাই করেছি, আর উনি (শশী) বলেছিলেন যে প্রথম দিন যেন তার সাথে চুক্তি করা হয় আর তাকে কিছু টাকা দিয়ে দেওয়া হয়- 

আমি রাজি ও হই, কিন্তু আমরা যারা নির্মানের সাথে যুক্ত তারা সবাই জানি প্রথম এক দুই দিন কি পরিমান হ্যাচেল পোহাতে হয় একটা ইউনিট গোছাইতে, আর এই কারনে তার সাথে চুক্তি টি করা হয় নি, আর যে হুতু সিনেমায় তার সিকোয়েন্স ই সব চেয়ে বেশি তাই শুটিং প্যাক আপ করার টাইমে তাকে বলি আজ তো সময় পেলাম না, নেক্সট শুটিং এর ডেট নেওয়ার সময় চুক্তি করে নিবো, ব্যাস উনি হাসি মুখে চলে গেলেন,যাবার সময় এ ও বলে গেলেন যে তার চার তারিখ (ডিসেম্বর) পর্যন্ত ডেট ফাকা আছে আর যদি চাই তবে এর ভিতর তার ডেট ফেললে তার অংশ এর কাজ এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তার পর বাসায় গেলেন এর পরের দিন তার মাথায় গন্ডগোল শুরু হইল আর তিনি মানুষের কাছে/ সাংবাদিক দের কাছে বিবৃতি দিয়ে বলে বেড়াচ্ছেন, তিনি নাকি আমার সিনেমায় কাজ করবেন না, আমি নাকি তাকে ভুল তথ্য দিয়েছি, যা প্রতারণার শামিল, আর এই কথা টি আমায় তিনি নিজে বলার প্রয়োজন বোধ ও করেন নি, তিনি নানা পত্রিকার সাংবাদিক দের ফোন করে করে বলতেছেন তার সাথে নাকি প্রতারনা করা হইছে, এখন আমার কথা হল কি প্রতারণা হয়েছে? আমি তাকে বার বার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে বলেছি, কি প্রতারণা করা হইল? আপনি আমার সেট এ এসে কোন রুপ অসহযোগীতা পেয়েছেন? নাকি আপনার দাবী নাম চেঞ্জ আমি করিনি? নাকি ভিন্ন কিছু? তিনি তার বিবৃতি তে বলেছেন আমি তাকে ছাড়া ইউনিটের সবাই কে ফিল্মের কথা বলেছি আর তাকে শুধু  ওয়েব ফিল্মের কথা বলেছি। আর শুটিং এ গিয়ে আমার শুটিং এর ধরন দেখে তিনি বুঝতে পেরেছেন এইটা ফিল্ম, আর ইউনিট এর সবাই তাকে ফিল্ম এর কথা বলেছে- কিন্তু তিনি যদি এতটা বুঝতেই পারেন যে তাকে মিথ্যা বলা হইছে তা হলে কেন তিনি ওই দিন শুটিং এর টাইমে শুটিং করলেন? তিনি তো ফিল্ম করবেন না তবে কেন ফিল্ম বানাচ্ছি জানার পরেও শট দিলেন? কেন ই বা আবার যাবার আগে বলেই ই গেলেন চার তারিখের আগে যদি পারি তার অংশের কাজ এগিয়ে রাখতে? তা হলে এইবার বলবেন কি? কে প্রতারণা করলো? তিনি নাকি আমি/আমরা? সমস্যা টি আসলে কার? আমার নাকি তার? তিনি হয়ত বলতে পারেন চুক্তি কেন করে রাখলাম না? চুক্তির প্রসঙ্গ এই খানে আসে না, কারন তার কাজ শেষ হয় নি, কম করে হলেও তার আরো দশ দিন লাগবে, তখন করে নিলে কি সমস্যা? এই সব ঘটনা থেকে যে কেউ বলবে আমার সাথে ওনার করা এই ব্যাবহার কে চাইল্ডিস ছাড়া ভিন্ন কোন সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা যায় না- কিন্তু তিনি যখন আর শিশু নন আর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তাই তাকে মানষিক ভাবে ইমব্যালেন্স হিসাবে ধরা যেতে পারে- 

কিন্তু তার এই চাইল্ডিস বিহ্যাভ অথবা মানষিক ভারসাম্যহীন বিহ্যাভের  জন্য আমি আমার প্রডিউসার কিংবা আমার ইউনিট লোক জন কেন ভুক্ত ভুগি হবে? তিনি যদি কাজ না করেন আমায় তার করা অংশ টুকু যা শুটিং করেছি তা রি শুট করতে হবে, আর তার জন্য যে খরচ হবে তা কি তিনি বেয়ার করবেন? তার জন্য কেন আমার প্রযোজক ক্ষতি গ্রস্থ হবেন? আমি কেন হেও প্রতিপন্ন হব? নাকি আমার বাধ্য হয়ে আমার সংগঠনের কাছে নালিশ করতে  হবে? এই নিয়ে করনীয় তা করার আগে এই লেখাটি লেখা- সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন-

ধন্যবাদ

সোলায়মান জুয়েল
ব্লগার/চিত্রনাট্যকার/পরিচালক

Exit mobile version